১০:০২ এম
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপের এই দলটি ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। নরওয়ের এই মহাকাব্যিক জয়ের নায়ক স্বয়ং স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড।
ম্যাচের প্রথম ৭৮ মিনিট জুড়ে আর্লিং হালান্ডকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ম্যাচের আগে তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া সব আলোচনা মনে হচ্ছিল বাস্তবে প্রয়োগের বাইরে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাজিকের মতো ম্যাচটি সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন হালান্ড। তিনি ম্যাচের ৮০ ও ৮৯ মিনিটে দুটি দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে মুহূর্তের মধ্যে চুরমার করে দেন। পুরো ম্যাচে লড়াই করে হালান্ডের জোড়া গোলের কোন জবাব খুঁজে পাননি সেলেকাওরা।
এই গোলের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নরওয়ের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুযোগ নিশ্চিত হয়। তাই হালান্ডের খেলার সময়ের পরিমাণ কি তা নয়, বরং কতবার তিনি সঠিক জায়গায় বল পেয়েছেন সেটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। দলের জয়লাভের জন্য পুরো ম্যাচ না খেলে, একাধিক মুহূর্তই যথেষ্ট বলেই মনে করেন হালান্ড।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
ম্যাচ শেষে তিনি জানান, একাধিক সুযোগ থেকেই গোল বের করতে পারার সামর্থ্য তার কাছে ‘সৃষ্টিকর্তার উপহার’। সেই সঙ্গে এই জয়কে তিনি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা জয় বলেও উল্লেখ করেছেন। ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘যদি এক বা দুইটি সুযোগ পাই, তাহলে বেশির ভাগ সময়ই সেগুলোকে গোলে পরিণত করতে পারি। কীভাবে এটি ঘটায় তা আমি নিজেও জানি না। তবে বিষয়টি এমনটাই ঘটে। আসল কথা হলো শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা। আমি নিজেকে বলি, সুযোগ আসবেই।’
চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৭ গোলসহ লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন হালান্ড। চার ম্যাচ খেলে তিনটিতে করেছেন জোড়া গোল এবং অন্যটিতে ১ গোল। বুটের লড়াইয়ে থাকা এই স্ট্রাইকারকে এমন ফর্মের কারন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘মনে হয়, এখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে ঢুকে যাওয়াটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক উপহার। এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ব্রাজিলের আক্রমণ প্রতিহত করে টিকে থাকার জন্য দলের দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করেছেন হালান্ড। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তিনি বলেন, ‘আশা করি, আমার এই সাক্ষাৎকারটি ছোটরা দেখছে, তারা বড় হয়ে বুঝবে যে নরওয়ের হয়ে খেলা জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হতে পারে।’
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক জয় নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিন বলে মন্তব্য করেন হালান্ড এবং তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো এই দিনটাই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসকে বদলে দেবে। এখন সবার উচিত এই মুহূর্তটি উপভোগ করা। আজকের দিনটি সত্যি অবিশ্বাস্য। নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। এই মুহূর্তটিকে আপন করে নিন, উপভোগ করুন।’
আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন