ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিইও নির্যাতন মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর


সিইও নির্যাতন মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর

সালমান এফ রহমানের জামিন আদালত মঞ্জুর করেছেন সিইও নির্যাতন মামলায়।

তিস্তা সোলার ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী সজিবুল ইসলাম বলেন, মামলাটির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম।

পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক।

গত ১৭ আগস্ট পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সালমান এফ রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তার মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ওই ঋণ দিতে রাজি হননি তৎকালীন সিইও ফরমানুল ইসলাম।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো-কুপন বন্ডে বিনিয়োগের আগাম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তবে ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় তাতে সম্মতি দেননি বিআইএফএফএলের তৎকালীন সিইও।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর আসামিরা চড়াও হন। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত

এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।

মামলায় জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ৩ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও ৫ নম্বর আসামি খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন দেন আদালত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে সুফল নেই, মঠবাড়িয়ায় পানির জন্য হাহাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে সুফল নেই, মঠবাড়িয়ায় পানির জন্য হাহাকার

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। পৌরবাসী অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা অর্থায়নে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পান গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছে। পৌর শহরে ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করার লক্ষ্য ছিল।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করেছে। পাম্প হাউজ এবং বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজের আওতায় ওই সময়ে অভিযোগ উঠলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি করা হয়েছে।

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পানি প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাচ্ছে এবং অনিয়মিত পানি সরবরাহ ও দুর্গন্ধসহ কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহারের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার জানান, সময় মতো পানি না পাওয়ার কারণে তাদের বাসা-বাড়ির কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়, কখন পানি আসবে। ইতোমধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে ফিরে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। তারা খুব সমস্যার মধ্যে আছেন।

নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা মো: মাহিম আকন বলেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ। দুর্নীতির কারণে পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সত্যিই পীড়াদায়ক।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে এবং তিনি এখানে নতুন জয়েন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে যে পানি লাইনের পাইপ ফেটে যাচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। তিনি উল্লেখ করেন লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না, এজন্য পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতো পানি পাচ্ছেন না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপগুলো ফেটে যাচ্ছে, সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ত্র আইনের মামলায় ব্যারিস্টার বাহারসহ ৪ জন রিমান্ডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


অস্ত্র আইনের মামলায় ব্যারিস্টার বাহারসহ ৪ জন রিমান্ডে

অস্ত্র ও তাজা কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় করা মামলায় ব্যারিস্টার মো. জাকি উল্লাহ বাহারসহ চার আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালত মঞ্জুর করেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করা হয়।

রিমান্ডে নেওয়া অন্য তিন আসামি হলেন মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন লিটন (৪৮) এবং হিরু বড়ুয়া বাবু (৩৬)।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু সাঈদ।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে একটি সাদা রঙের পাজেরো গাড়িতে করে অস্ত্র ও গুলি ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। মামলা থেকে পলাতক আসামিদের চিহ্নিত করা, তাদের গ্রেপ্তার করা, অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের উদ্দেশ্যে তারা জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে সূত্রাপুর থানার নর্থব্রুক হল রোডের নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরস নামের একটি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তুরাগ থানার একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ব্যারিস্টার মো. জাকি উল্লাহ বাহারসহ ৮ থেকে ৯ জন সেখানে প্রবেশ করেন।

তাদের মধ্যে দুজনের হাতে দুটি শপিং ব্যাগ ছিল। পুলিশ সদস্যরা ব্যাগ দুটিতে কী আছে তা জানতে চাইলে তারা ব্যাগ রেখে দ্রুত দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে পুলিশ ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান এবং দুটি ১২ বোরের তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে।

এছাড়া ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংবলিত ৬৪ জিবির একটি এইচপি ইউএসবি পেনড্রাইভ এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোনও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটের ভূঁইয়া মোটরসের মালিক হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়ার মার্কেট ও দোকানের মালামাল আত্মসাৎ করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, হাফিজ উল্লাহ ভূঁইয়াকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার দোকানে অস্ত্র ও গুলি রাখা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রিন কলাপাড়া-ক্লিন কলাপাড়ার উদ্যোগে গনমাধ্যম ও স্টেক হোলডারদের সাথে মতবিনিময় সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিডিনধি

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


কলাপাড়ায় পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রিন কলাপাড়া-ক্লিন কলাপাড়ার উদ্যোগে গনমাধ্যম ও স্টেক হোলডারদের সাথে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশ বান্ধব শহর গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গনমাধ্যম এবং স্টেক হোলডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ক্লিন কলাপাড়া গ্রীন কলাপাড়া নামে একটি সংগঠন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কলাপাড়া পৌরসভা ও আলভিনা কর্পোরেশনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গ্রীন কলাপাড়া ক্লিন কলাপাড়ার সমন্বয়ক মুশফিকুর রহমান লিটু বিশ্বাসের সঞ্চালনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলাপাড়া পৌর প্রশাসক মো. আরিফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শামসুল আলম, মেজবাহউদ্দিন মাননু, সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জী, মিলন কর্মকার রাজু, স্থপতি মো. ইয়াকুব খান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. ফোরকান তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রংধনুর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস রাশেদ মোশারফ কল্লোল এবং আমরা কলাপাড়াবাসীর সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব। এই সময় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, গনমাধ্যম এবং গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সভায় জানানো হয়। এ সময় গ্রীন কলাপাড়া ও ক্লিন কলাপাড়ার সদস্যরা ৬ মাসের মধ্যে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে অবহিত করেন।

উল্লেখ্য, পরিচ্ছন্ন কলাপাড়া গড়ার প্রত্যয়ে ক্লিন কলাপাড়া, গ্রীন কলাপাড়া নামের সংগঠনটি দীর্ঘ ৪ মাস ধরে পৌরসভার বর্জ্য সংগ্রহ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেবা দোরগোড়ায়: ৯ হাজার মানুষের সুবিধা গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


সেবা দোরগোড়ায়: ৯ হাজার মানুষের সুবিধা গ্রহণ

 

রৌদ্রোজ্জ্বল এক সোমবার। ৫৫ বছরের ফালানি বেগম বয়স এবং ক্লান্তির ভারে কুঁকড়ে গেছেন।

চোখের পাতাগুলো ভারী, গালের চামড়া ঝুলে পড়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের ভুল নাম সংশোধনের জন্য উপজেলা সদরে যাওয়ার মতো শারীরিক শক্তি অথবা আর্থিক সামর্থ্য—কোনোটাই তার নেই। তবে উপজেলা সদরে যাওয়া মানেই বাড়তি সময় আর দ্বিগুণ ভাড়ার দুশ্চিন্তা। তখনই রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী ফাজিল মাদরাসা মাঠে হাজির হলো উপজেলা প্রশাসনের ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রকল্প ‘বিনা মূল্যে সবার জন্য সব সেবা’।

যেন জাদুকরী কোনো ছোঁয়ায় ঘরের দরজায় চলে এলো কাঙ্ক্ষিত সেবা। ফালানি বেগমের মতো হাজারো মানুষের চোখে তখন বিস্ময় এবং আনন্দাশ্রু।

একদিনের জন্য দাউদপুর ইউনিয়ন হয়ে ওঠে একটি ভ্রাম্যমাণ মিনি উপজেলা। স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, নির্বাচন অফিস, সমাজসেবা, ভূমি এবং সমবায় অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব দপ্তরের আলাদা বুথ সেখানে বসেছিল।

দীর্ঘদিনের জমে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের জটিলতা থেকে শুরু করে গবাদিপশুর চিকিৎসা কিংবা কৃষি পরামর্শ— সব সেবা মানুষ পেয়েছে এক ছাদের নিচে। প্রায় ৯ হাজার মানুষ এই অভিনব উদ্যোগ থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় লোকজনের মতে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির।

উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন গত বছর প্রজেক্ট ওয়ান থাউজেন্ট প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার এক হাজার তরুণ-তরুণীদের সামলম্বী করার লক্ষ্যে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ এবং নগদ অর্থ প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দাউদপুর ইউনিয়নের মানুষকে নাগরিক সেবা দিতে নেওয়া হয় অভিনব এই উদ্যোগ।

এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ দপ্তরগুলো থেকে সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

কথা হয় বেলদি থেকে সেবা নিতে আসা আশরাফুজ্জান ফরিদের সঙ্গে। তিনি এসেছেন গরুর চিকিৎসা নিতে। তিনি বলেন, বাজান বয়সতো আর কম অইলো না। এতোখানি বয়সে এমুন সুন্দর নিয়ম দেহি নাই। আমাগো দাউদপুর থেইক্যা প্রাণী অফিসো যাইতো দেড় ঘণ্টা লাগবো। আবার ভাড়া লাগে অনেক। বাড়ির কাছে এমুন সুযোগ পাইয়া উপকার অইছে। বেলদীর রাশিদা বেগম। অনেক দিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের জটিলতায় ভুগছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিস অনেক দূরে হওয়ায় যাওয়া হয়নি আর। তিনি বলেন, আজকা বাড়ির কাছে সুযোগ পাইয়া ভালাই লাগতাছে। কৃষি বিষয়ে দেবই থেকে পরামর্শ নিতে এসেছেন ষাটোর্ধ সফেদ আলী। তার ভাষায়, বাজান জীবনে অনেক কিছু দেখছি। তয় এতো সুন্দর কইরা উপজেলা প্রশাসন সেবা দিয়া গেলো এলাকায় আইয়া। এইডা জীবনে দেহি নাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাসভীর যোবায়ের বলেন, আমার চাকরির ইতিহাসে এমনটা কোথাও দেখিনি। মানুষ উপজেলা অথবা হাসপাতালে সেবা নিতে আসে। কিন্তু এখানে উপজেলার সব দপ্তর, হাসপাতাল এলাকায় যেয়ে মানুষের সেবা দিয়েছে। এ সময় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক বাশিরউদ্দিন বাচ্চুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মূল স্বপ্নদ্রষ্টা এবং নেপথ্য নায়ক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয়। রিমোট এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে তিনি এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। গ্রামবাংলার মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এমন দৃশ্য সত্যিই সবার মন ছুঁয়ে যায়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

স্বপ্নদ্রষ্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, দাউদপুর ইউনিয়ন একটি রিমোট এরিয়া। এখান থেকে উপজেলায় কিংবা হাসপাতালে এসে সেবা নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন। অনেকে শারীরিক অক্ষমতা কারণে আসতে পারে না। অনেকে হয়তো দ্বিগুণ অর্থ খরচ লাগে তাই আসতে পারে না। এ চিন্তা মাথায় নিয়ে সব দপ্তরের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ভূমি অফিসের জন্য আলাদা আলাদা বুথ করা হয়েছে। যাতে যার যে সমস্যা সে যেনো ওই সেবা নিতে পারেন। তবে ধীরে ধীরে সব ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় চলমান থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%