প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সালমান এফ রহমানের জামিন আদালত মঞ্জুর করেছেন সিইও নির্যাতন মামলায়।
তিস্তা সোলার ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী সজিবুল ইসলাম বলেন, মামলাটির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম।
পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।
অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক।
গত ১৭ আগস্ট পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সালমান এফ রহমানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তার মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ওই ঋণ দিতে রাজি হননি তৎকালীন সিইও ফরমানুল ইসলাম।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো-কুপন বন্ডে বিনিয়োগের আগাম নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়। তবে ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় তাতে সম্মতি দেননি বিআইএফএফএলের তৎকালীন সিইও।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ এবং বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর আসামিরা চড়াও হন। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এ ছাড়া তার অফিসিয়াল মুঠোফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা, ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলায় জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মারধর, চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ৩ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম খান ও ৫ নম্বর আসামি খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের জামিন দেন আদালত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন