ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআইয়ের


টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসটিআইয়ের

সংসদ ভবন, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং এর মান নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। তবে গবেষণাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস বা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়নি।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তিনি আরও বলেন, অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক সভা সম্পন্ন করেছে।

তিনি জানান, কমিটির তত্ত্বাবধানে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি তুলনামূলকভাবে নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ল্যাবরেটরি সুবিধাও বিএসটিআইয়ের কাছে ছিল না।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিড সংযোজন নিষিদ্ধ করা, পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে।

খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপদ মোড়কীকরণ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মোড়কীকরণে মানসম্পন্ন ভার্জিন ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত খাদ্য কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কোনো পণ্যে অননুমোদিত উপাদান বা বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, বিএসটিআইয়ের নিয়মিত নজরদারির আওতায় সম্প্রতি নির্ধারিত বাংলাদেশ মান অনুসরণ না করায় ১০টি খাদ্যপণ্য ও আটটি কসমেটিকস বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কয়েকটি মশলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘি ও বাটার অয়েল রয়েছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত নয়-এমন পণ্য প্রত্যাহার এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিএসটিআই কাজ করছে।

সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্ধারিত জাতীয় মান বর্তমানে নেই। এ কারণে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

পরীক্ষার ফলাফল ও পণ্যের মান অনলাইনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, ভোক্তা মহলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার কঠোর ও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে আমাকে তিনবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল : বাবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে আমাকে তিনবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল : বাবর

নেত্রকোণা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসতে চান, তবে তিনি তা করতে সক্ষম হবেন, কিন্তু তার বিষয়টি আইন অনুযায়ী চলবে।

আজ বুধবার দুপুরে মদন উপজেলার জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।

লুৎফুজ্জামান বাবর আরও বলেন, আমি সাড়ে ১৭ বছর জেলে কাটিয়েছি। আমাকে অন্যায়ভাবে, মিথ্যার ভিত্তিতে তিনবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি যদি দেশে ফিরে আসেন এবং বিচারের মুখোমুখি হন, তবে আমি তাকে সাধুবাদ জানাব।

বিগত সরকারের সময় নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার বিচার সম্পূর্ণ অন্যায় ও মিথ্যার ভিত্তিতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো বর্তমানে জাতিসংঘ দ্বারা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়ে রায় মেনে নেবেন, দেশের জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে।

এর আগে, তিনি পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি নিজ হাতে কলেজ প্রাঙ্গণে একটি চারা গাছ রোপণ করে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাসরিন সুলতানা এবং পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ অঞ্চল প্রধান ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. হুমায়ুন মিয়া।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটিতে ২৩ হাজার ৬শ’ গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


রাঙ্গামাটিতে ২৩ হাজার ৬শ’ গাছের চারা বিতরণ

রাঙ্গামাটি, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাজস্থলী উপজেলায় আজ স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে মোট ২৩ হাজার ৬শ’ টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা। এটি কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের অধীনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সবুজায়নের মাধ্যমে বন ও জীববৈচিত্র সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজস্থলী রেঞ্জ বন বিভাগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের আওতাধীন রাজস্থলী, হ্নারা ও ধনুছড়ি রেঞ্জের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান।

এ সময় রেঞ্জ কর্মকর্তা তুহিনুল ইসলাম এবং আবুল হাসেম মেম্বারসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ১৮ হাজার ছয়শ’ টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই প্রকল্পের আওতায় কাপ্তাই উপজেলার ধনুছড়ি রেঞ্জে আরও পাঁচ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন, যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২০ এম


রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন, যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

> বিশ্বরামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়ন নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যাংক বার্কলেসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সৃষ্ট দূষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি সুন্দরবন, যা বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান, সেখানে বিপদের সৃষ্টি করছে।বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নিকটে অবস্থিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগে বার্কলেস ব্যাংকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য হলো, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে ব্যাংকটি পরিবেশ ও মানবাধিকারের ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি।বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলের তিন ব্যক্তি ও সংগঠন যুক্তরাজ্যের অফিস ফর রেস্পন্সিবল বিজনেস কন্ডাক্টে এই মামলা করেছেন। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই দপ্তর অভিযোগটি তদন্তের জন্য গ্রহণ করবে কিনা, তা পর্যালোচনা করবে।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটিং সেবা প্রদান করেছে বার্কলেস। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, এভাবে ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।ঢাকাভিত্তিক পরিবেশকর্মী শরীফ জামিল, যিনি অভিযোগকারীদের একজন, তিনি বলেছেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এর আশপাশের শিল্পকারখানা থেকে ভারী ধাতুর দূষণ সুন্দরবনের আন্তঃসংযুক্ত নদী ও খালগুলোর মাধ্যমে বনে প্রবেশ করছে।" তিনি আরও বলেন, "রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের প্রাণরেখা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। সুন্দরবনের স্বাস্থ্য এখন হুমকির মুখে।"গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানের পানিতে পারদ ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পশুর নদীতে পাওয়া গেছে। গবেষকরা শিল্পবর্জ্য ও বন্দরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডকে ভারী ধাতু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবনের জন্য "উল্লেখযোগ্য পরিবেশগত হুমকি" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কয়লা পোড়ানোর ফলে নির্গমন এবং নৌযান চলাচলের বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হচ্ছে।সুন্দরবন বাংলাদেশের ও ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদী ও বন থেকে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের পাশাপাশি সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই বনভূমিতে শতাধিক দ্বীপ এবং বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে।অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।বার্কলেসের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীদের সহায়তাকারী কিংস লিগ্যাল ক্লিনিক জানিয়েছে, বার্কলেস ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনটিপিসি লিমিটেড-এর ঋণ আন্ডাররাইট করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌথ অংশীদারদের একটি।শরীফ জামিল বলেছেন, "আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বিবেচনা করার দায়িত্বও রয়েছে।" তিনি মনে করেন, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যখন প্রকল্পটি থেকে সরে গেছে বা অর্থায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন বার্কলেসসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও নিজেদের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, "সারা বছর সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন বাংলাদেশে বিপুল সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রয়েছে।" তাই আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।ক্লিনিকের আইনজীবী সু উইলম্যান বলেছেন, "সুন্দরবনের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকটের সম্মুখসারিতে রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই সংকটে অবদান রাখে এমন তেল ও কয়লা প্রকল্পে অর্থায়নের আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করানোই তাদের লক্ষ্য।এদিকে, বার্কলেস ব্যাংক এবং মৈত্রী প্রকল্পের হোল্ডিং কোম্পানি বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিফপিক) অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ এম


শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

চট্টগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকারের ‘একটি শিশু একটি গাছ’ প্রকল্পের অধীনে ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

আজ (বুধবার) বিকাল ৫টায় ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদেরকে যে গাছ দিচ্ছি, এটাকে তোমরা তোমাদের পোষা গাছ মনে করে পরিচর্যা করবে। এটার মাধ্যমে তোমাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাবে। এটার মাধ্যমে তোমরা সবুজ বাংলাদেশের বিপ্লবে শরিক হতে পারবে।’

মীর হেলাল আরও বলেন, ‘যে চারাগুলো তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তোমরা তোমাদের পোষ্য প্রাণীগুলাকে যেভাবে খুব আদর-যত্নে রাখো এই গাছটাকেও তোমরা সেভাবে আদর-যত্নে বড় করবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কিন্তু এক-দুই বছর পরে আবার আসবো। কোন একদিন সংসদ সদস্য মীর হেলালকে নিয়ে তোমাদের চারা গাছ দেখার জন্য তোমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখব যে, তোমাদের ওই গাছটি আছে কিনা।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন, উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ও বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন এবং ৬০ বছর বয়সী ফরহাদাবাদ স্কুল ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল।

এসময় স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে সংলগ্ন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য একটি ফুটওভার ব্রিজের দাবি জানান।

এর আগে বিকাল ৪টায় ফরহাদাবাদ স্কুল এন্ড কলেজের ২য় ও ৩য় তলা ঊর্ধ্বমুখি সম্প্রসারন কাজের সূচনা এবং ফরহাদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

এছাড়াও এদিন হাটহাজারীর পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয়ে আদম কেয়ার গ্লোবাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, সনদ প্রদান ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%