ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কিশোরগঞ্জে বিদ্যালয় পরিদর্শনে তিন শিক্ষক অনুপস্থিত, সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ


কিশোরগঞ্জে বিদ্যালয় পরিদর্শনে তিন শিক্ষক অনুপস্থিত, সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি যাচাই করতে গিয়ে ব্যত্যয়ের চিত্র লক্ষ্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। হাজিরা রেজিস্টারে ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং দুই সহকারী শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়ে ছুটির অনুমোদন কিংবা কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত করার কোনো তথ্য পরিদর্শন বহিতে পাওয়া যায়নি।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এ চিত্র দেখতে পান। পরিদর্শন বহিতে লিপিবদ্ধ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুপস্থিত তিন শিক্ষক হলেন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সজল। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ, হাজিরা রেজিস্টারে স্বাক্ষর থাকা এবং কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত না করার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের পর প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরে চলে এসেছেন। তবে পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা রেজিস্টারে তাঁর স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন: বরিশালের ভিআইপি আবাসিক এলাকায় মাদকের ছোবল, উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা

অন্য দুই সহকারী শিক্ষকের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের সার্বিক পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনসহ বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। তাঁর মতে, পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ বাড়ানো গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. এহছানুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা রেজিস্টারে উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত পাঠদান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে এমপি রায়হান সিরাজীর অভিযোগ: ‘বানরের পিঠা ভাগের মতো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে এমপি রায়হান সিরাজীর অভিযোগ: ‘বানরের পিঠা ভাগের মতো’

রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ করেছেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। তিনি দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এমপি রায়হান সিরাজী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত হকদারদের সুযোগ দিতে হবে।

রোববার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে "বানরের পিঠা ভাগের মতো" বণ্টন করা হয়েছে।

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, “পীরগাছার বিষয়টা অলরেডি টক অব দ্য কান্ট্রি। একদম খুল্লামখুল্লা। আপনাদের সাংবাদিকদের কাছে সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট, আপনারা সবাই জানেন। আমি কী উত্তর দেব? সাংবাদিক-জনগণ এখন সজাগ। ৫ আগস্টের পরে এ জনতা জেগেছে, আগেই জেগেছে। এই জনতাকে কেউ রুখতে পারবে না।”

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একটাই বক্তব্য বলব, এখানে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। মোটা দাগের বক্তব্য, এটি বানরের পিঠা ভাগ হয়েছে।”

এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে দেশে আবারও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রায়হান সিরাজী বলেন, বৈষম্য যখন চরম মাত্রায় পৌঁছায়, তখন জনগণ জেগে ওঠে। ইতিহাসে এর প্রমাণ রয়েছে। তিনি চান না যে, নতুন করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক।

সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, যাঁদের সঙ্গে সরকারি নীতিমালার শর্ত মেলে এবং যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ডিলার হওয়ার যোগ্য, তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব পেলে ভবিষ্যতে সারসংকট মোকাবিলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, যাঁদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই সার ব্যবসার অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ চালের ব্যবসাও করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, “আমরা আশা করছি, সরকার এটা পুনর্বিবেচনা করে জনগণের এই ক্ষোভকে মূলধন মনে করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তা না হলে জনগণ বিক্ষুব্ধ। জনগণ এই বৈষম্য চায় না। জনগণ বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছে, জনগণ বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে জেলেদের বরাদ্দের ৫ টন চাল উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


চাঁদপুরে জেলেদের বরাদ্দের ৫ টন চাল উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় পাঁচ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালভর্তি একটি মিনি পিকআপ আটক করা হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মা ইলিশ রক্ষা অভিযান উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য চালগুলো বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্ধারিত স্থানে বিতরণ না করে চালগুলো গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে, ওই চাল লাকসামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মিনি পিকআপে করে নেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয়।

প্রশাসনের তৎপরতার ফলে চালভর্তি গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে এর আগেও চাল আত্মসাৎ বা অবৈধ বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জব্দ করা চাল পরে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি গোডাউন) পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি এই চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে অন্যত্র নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই উদ্‌ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকায় ফিসারিতে ডুবে স্কুলছাত্র উদয় হাসানের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


ভালুকায় ফিসারিতে ডুবে স্কুলছাত্র উদয় হাসানের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ভালুকায় বন্ধুদের সঙ্গে মাছের ফিসারিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। উদয় হাসান (১১) নামের ওই ছাত্রের মৃত্যু ঘটে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কড়ইতলী এলাকায়।

নিহত উদয় হাসান স্থানীয় শফিকুল ইসলামের একমাত্র সন্তান এবং নাসির মডেল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে উদয় হাসান তার বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে স্থানীয় সাদেকের মাছের ফিসারিতে যায়। সাঁতার কাটার সময় একপর্যায়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। উদয়কে দেখতে না পেয়ে তার বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে পরিবার ও স্থানীয়রা ছুটে আসে। পরে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উদয়কে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার খলিলুর রহমান মাসুদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতা অথবা আইনি প্রক্রিয়ার অজ্ঞতার ফলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি মামলার জালে জড়িয়ে পড়েন। তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং জমির চূড়ান্ত ও নিষ্কণ্টক মালিকানা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সামনে নানা জটিলতা, প্রতারণা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক নিয়মে জমি রেজিস্ট্রি না করা, কর পরিশোধে অস্পষ্টতা, আইনি বাধাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা জমি ক্রয়ের পর নামজারিসহ পরবর্তী আবশ্যিক পদক্ষেপগুলো সঠিক সময়ে গ্রহণ না করার কারণে অনেকেই তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান।

বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় মামলার জটলায়। অথচ কেনাবেচার সময় যদি কিছু সচেতনতা এবং আইনের সাধারণ বিষয়গুলো জানা থাকে, তাহলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি সহজেই এড়ানো সম্ভব। জমি হস্তান্তরের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি দায়-দায়িত্ব এবং করণীয় রয়েছে, যা সঠিকভাবে পালন করা দুই পক্ষের জন্য জরুরি। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে এবং জমি ক্রয়ের পর নিজের মালিকানা শতভাগ সুরক্ষিত রাখতে আইনসম্মত বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. পি. এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক)।

জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভ্যাট (VAT) এবং উৎস কর সর্বদা বিক্রেতার আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর। ফলে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী, এই দুই প্রকার কর বিক্রেতার নামেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। তবে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাকি করসমূহ মূলত জমির ক্রেতা পরিশোধ করবেন।

রেজিস্ট্রি করার পর দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, সীমানা (চৌহদ্দি) বা নামে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভুল ধরা পড়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হয়। নির্ধারিত ৩ বছর পার হয়ে গেলে মামলাটি তামাদি আইনের দ্বারা বারিত হয়ে যায়। তবে তিন বছর অতিক্রান্ত হলে দেওয়ানি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব। আদালতের রায়ের কপি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছালে তিনি ভলিউম সংশোধন করে নেন। এছাড়া পৃথক 'ভ্রম সংশোধন দলিল' সম্পাদন করেও ভুল সংশোধন করা যায়।

অন্যদিকে, কোনো দলিল জাল প্রমাণিত হলে তা জানার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে উক্ত দলিল বাতিল ও একই সাথে সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির মামলা করা সমীচীন।

যদি কোনো দলিলদাতা শারীরিক অক্ষমতার কারণে রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হতে না পারেন, তাহলে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী কমিশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার বা তার প্রতিনিধি দলিলদাতার বাসস্থানে গিয়ে সম্পাদন স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, দলিলদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই অফিসে যেতে ব্যর্থ হলে 'ভিজিট ফি' জমা দিয়ে বাড়িতে বসেই দলিল রেজিস্ট্রি করার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কিনতে হলে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বরাবরেই দলিল সম্পাদন করতে হবে, সেখানে ব্যক্তিবিশেষের নাম যুক্ত করা যাবে না। তবে কোনো কোম্পানির পক্ষে তার চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক দলিল সম্পাদন করতে পারবেন। এছাড়া, সাফ কবলা দলিল তৈরির সময় কোথাও ভুলত্রুটি হলে, দলিলের শেষাংশে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা ও লাইন নম্বর উল্লেখ করে 'কৈফিয়ত' লিখে নিচে দলিল লেখকের স্বাক্ষর প্রদান বাধ্যতামূলক।

আইন অনুযায়ী, নাবালক, শত্রু দেশের নাগরিক, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া বা উন্মাদ ঘোষিত ব্যক্তি এবং মদ্যপ অবস্থায় সম্পন্ন করা যেকোনো দলিল বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্পাদিত দলিল কিংবা ভয়ভীতি, লোভ ও জোরজবরদস্তি করে রেজিস্ট্রি করা দলিল আইনিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল।

জমি কেনার পর সর্বপ্রথমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ ও বাস্তব দখল (যেমন— চাষাবাদ বা অবকাঠামো নির্মাণ) গ্রহণ করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল দলিল বা দ্রুততম সময়ে 'সার্টিফায়েড কপি' সংগ্রহ করে অবিলম্বে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি বা মিউটেশনের আবেদন করতে হবে। নামজারি শেষে খতিয়ান, ডিসিআর (DCR) এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা নিজের কাছে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে, ক্রয়ের পর দখলে যেতে বিলম্ব কিংবা নামজারি না করলে অসাধু বিক্রেতা একই জমি অন্য কারো কাছে পুনঃবিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে।

জমিজমা সংক্রান্ত আইনি ঝামেলা এড়াতে অসচেতনতার কোনো সুযোগ নেই। সঠিক সময়ে কর প্রদান, দলিল যাচাই, কমিশন ও ভিজিটের সঠিক ব্যবহার এবং জমি হস্তান্তরের পরপরই দখল ও নামজারি সম্পন্ন করাই একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব। আইনি নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করলে জমি কেনাবেচায় প্রতারণা সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%