১০:৩২ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি যাচাই করতে গিয়ে ব্যত্যয়ের চিত্র লক্ষ্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। হাজিরা রেজিস্টারে ছয়জন শিক্ষকের স্বাক্ষর থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র তিনজন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং দুই সহকারী শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়ে ছুটির অনুমোদন কিংবা কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত করার কোনো তথ্য পরিদর্শন বহিতে পাওয়া যায়নি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর ধনপুর ইউনিয়নের সহিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এ চিত্র দেখতে পান। পরিদর্শন বহিতে লিপিবদ্ধ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনুপস্থিত তিন শিক্ষক হলেন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ারা পারভীন ও সজল। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ, হাজিরা রেজিস্টারে স্বাক্ষর থাকা এবং কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত না করার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনের পর প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরে চলে এসেছেন। তবে পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও হাজিরা রেজিস্টারে তাঁর স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: বরিশালের ভিআইপি আবাসিক এলাকায় মাদকের ছোবল, উৎকণ্ঠায় বাসিন্দারা
অন্য দুই সহকারী শিক্ষকের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনসহ বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। তাঁর মতে, পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ বাড়ানো গেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. এহছানুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা রেজিস্টারে উপস্থিতির স্বাক্ষর থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত পাঠদান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিদর্শনে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আগাম অবহিত না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন