০৬:৫৮ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কনে পক্ষের বাড়িতে বর আসার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে এ বাল্যবিয়ে পণ্ড করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের দড়ি চণ্ডিবের উত্তর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ভৈরব পৌর শহরের দড়ি চণ্ডিবের উত্তর পাড়া এলাকার জুনায়েদ মিয়ার মেয়ে মিম আক্তারের (১৩) সাথে কুলিয়ারচর উপজেলার আগানগর গ্রামের আলী হোসেনের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন একটি গোপন সংবাদ পৌঁছায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. এইচ. এম. আজিমুল হক তাৎক্ষণিকভাবে ভূমি অফিসের দুই কর্মীকে সরজমিনে পাঠান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় কনেপক্ষের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখতে চাইলে তারা ব্যর্থ হন এবং জন্মনিবন্ধন সনদ দেখান। সনদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কনের বয়স মাত্র ১৩ বছর ১০ মাস। ঘটনার সময় বিবাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কাজী ওসমান গণি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধ করে দেন এবং কাজীসহ কনের অভিভাবকদের উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন কনের অভিভাবক। কনের বাবা নিজের ভুল স্বীকার করায় মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ছাতকে রোপা আমন কাটার ধুম, কৃষকরা সন্তুষ্ট
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. এইচ. এম. আজিমুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে আমার অফিসের কর্মীদের পাঠিয়ে সত্যতা যাচাই করি। পরবর্তীতে আমি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বয়সের প্রমাণপত্র দেখে বিয়েটি বন্ধ করে দিই। কনের বাবা তার ভুল স্বীকার করায় অভিভাবক ও কাজীর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন