০৮:১৩ পি.এম
নরসিংদীর রায়পুরার যুবক শাহরিয়ার আহমেদ, যিনি ইমন নামেও পরিচিত, প্রবাসের মাটিতে লেখাপড়া করতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। সাইপ্রাস পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শাহীন বাবু নামে একজন বাংলাদেশি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গলের ভেতর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় শাহরিয়ারের মরদেহ এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
শাহরিয়ার আহমেদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে গিয়েছিলেন। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তার বসবাস ছিল। সেখানে তার রুমমেট ছিলেন একই গ্রামের প্রতিবেশী রায়হান।
পরিবারের সদস্যরা জানান যে, সাইপ্রাস অবস্থানকালে শাহরিয়ারকে খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমানোর জন্য তিনি কাজের সন্ধান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে একটি কাজও পান।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার
গেছিল ১১ জুন বিকালে, শাহরিয়ার তার মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। তিনি জানান, তার জন্য কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই তার ডিউটি শুরু হবে। একই বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী বাবা ও রুমমেট রায়হানকেও জানান। রায়হান তাকে কর্মস্থলে পৌঁছে লোকেশন পাঠাতে বলেছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কর্মস্থলে পৌঁছে শাহরিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে রায়হানের কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠান। কিছু সময় পর রায়হান ‘ওকে’ লিখে জবাব দিলেও সে বার্তাটি আর দেখেননি শাহরিয়ার।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। তাকে ফিরে পেতে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেওয়া হবে।’
ঘটনার কথা রাতেই পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিলেন, হয়তো শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক হয়েছে। কিন্তু পরদিন ১২ জুন সকালে তিনি কাজে যাওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি। পরে রুমমেট রায়হান স্থানীয় পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশকে নিয়ে লোকেশনেও খোঁজ করা হলেও শাহরিয়ারকে পাওয়া যায়নি। এদিকে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল এবং পরিবারের কাছে প্রতিদিন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।
শাহরিয়ার ছোট ভাই নয়ন আহমেদ জানান, কোনো খোঁজ না পাওয়ার কারণে একপর্যায়ে তারা মুক্তিপণের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দিতে সমঝোতা করেন। ২১ জুন দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংকে যান। সেখানে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েই টাকা পাঠাবেন। অপহরণকারীদের কাছে থাকা ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে টাকা না देकर ফিরে আসেন। পরে দেখেন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অফলাইনে চলে গেছে। সেই রাতেই জানতে পারেন, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের
তবে গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি সাইপ্রাস পুলিশ।
এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় একজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার পুলিশ। তবে বিষয়টি সাইপ্রাস দূতাবাস থেকে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নিহতের পরিবারও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন