ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাইপ্রাসে রায়পুরার শাহরিয়ারকে হত্যা, বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার


সাইপ্রাসে রায়পুরার শাহরিয়ারকে হত্যা, বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার

নরসিংদীর রায়পুরার যুবক শাহরিয়ার আহমেদ, যিনি ইমন নামেও পরিচিত, প্রবাসের মাটিতে লেখাপড়া করতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। সাইপ্রাস পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শাহীন বাবু নামে একজন বাংলাদেশি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গলের ভেতর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় শাহরিয়ারের মরদেহ এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

শাহরিয়ার আহমেদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে গিয়েছিলেন। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তার বসবাস ছিল। সেখানে তার রুমমেট ছিলেন একই গ্রামের প্রতিবেশী রায়হান।

পরিবারের সদস্যরা জানান যে, সাইপ্রাস অবস্থানকালে শাহরিয়ারকে খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমানোর জন্য তিনি কাজের সন্ধান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে একটি কাজও পান।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার

গেছিল ১১ জুন বিকালে, শাহরিয়ার তার মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। তিনি জানান, তার জন্য কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই তার ডিউটি শুরু হবে। একই বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী বাবা ও রুমমেট রায়হানকেও জানান। রায়হান তাকে কর্মস্থলে পৌঁছে লোকেশন পাঠাতে বলেছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কর্মস্থলে পৌঁছে শাহরিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে রায়হানের কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠান। কিছু সময় পর রায়হান ‘ওকে’ লিখে জবাব দিলেও সে বার্তাটি আর দেখেননি শাহরিয়ার।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। তাকে ফিরে পেতে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেওয়া হবে।’

ঘটনার কথা রাতেই পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিলেন, হয়তো শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক হয়েছে। কিন্তু পরদিন ১২ জুন সকালে তিনি কাজে যাওয়ার পর আর বাসায় ফেরেননি। পরে রুমমেট রায়হান স্থানীয় পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পুলিশকে নিয়ে লোকেশনেও খোঁজ করা হলেও শাহরিয়ারকে পাওয়া যায়নি। এদিকে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল এবং পরিবারের কাছে প্রতিদিন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।

শাহরিয়ার ছোট ভাই নয়ন আহমেদ জানান, কোনো খোঁজ না পাওয়ার কারণে একপর্যায়ে তারা মুক্তিপণের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দিতে সমঝোতা করেন। ২১ জুন দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংকে যান। সেখানে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েই টাকা পাঠাবেন। অপহরণকারীদের কাছে থাকা ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে টাকা না देकर ফিরে আসেন। পরে দেখেন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অফলাইনে চলে গেছে। সেই রাতেই জানতে পারেন, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফের পরিবারকে ১ লাখ টাকা সহায়তা, স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের

তবে গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি সাইপ্রাস পুলিশ।

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় একজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার পুলিশ। তবে বিষয়টি সাইপ্রাস দূতাবাস থেকে এখনো আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নিহতের পরিবারও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

সরকারি সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। এটি তার প্রথম বিদেশ সফর, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ইসলামাবাদের নিকটবর্তী একটি সামরিক ঘাঁটিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানি প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী এ সফরে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে, যেখানে দেশের একাধিক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা আছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সফরকালে পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সফরের সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করবে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে।

কেন পাকিস্তান সফরে গেলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট? পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠক থেকে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

সফরের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, পেজেশকিয়ান এমন এক সময় ইসলামাবাদ যাচ্ছেন, যখন তার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও।

২০১৫ সালে ঐতিহাসিক জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়েছিল, বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যান।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ও জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রেজা খানজাদেহ বলেন, "সমঝোতা স্বাক্ষরের পরপরই পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি এই ভঙ্গুর চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে চান।"

তিনি আরও বলেন, "এই সফরের প্রয়োজন পেজেশকিয়ানের পাকিস্তানের চেয়ে বেশি।"

ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সফরে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এছাড়া পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংকটের মধ্য দিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়েছে সম্পর্ক পেজেশকিয়ানের জন্য এটি পাকিস্তানে দ্বিতীয় সফর। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের যুদ্ধের পরও তিনি প্রথম বিদেশ সফরের জন্য পাকিস্তানকেই বেছে নিয়েছিলেন। তখন তিনি প্রথমে লাহোর এবং পরে ইসলামাবাদ সফর করেন।

ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১২টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একই সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র ইসলামাবাদ ব্যুরো প্রধান আফজাল রেজা বলেন, "পেজেশকিয়ান পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। বিশেষ করে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর।"

তবে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় এতটা মসৃণ ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তেহরানের দাবি ছিল, তারা সশস্ত্র সংগঠন জইশ আল-আদলের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা করেছে।

এর জবাবে পাকিস্তানও ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।

তবে দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইরানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ইসলামাবাদ সফর করে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেন এবং পরে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

এর কয়েক মাস পর, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসেন পেজেশকিয়ান।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা মার্কিন-ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে অন্তত সাতবার ফোনালেরাপ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এসব আলোচনার কয়েকটি প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও অন্তত দুইবার তেহরান সফর করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও একাধিকবার কূটনৈতিক প্রচেষ্ঠার অংশ হিসেবে সফর করেন।

এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার ফল হিসেবে ১৮ জুন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক কমিটি গঠন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পৃথক কর্মপরিকল্পনা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লেবানন বিষয়ে সংঘাত এড়ানোর প্রক্রিয়া।

বিশ্লেষক খানজাদেহ বলেন, "বার্গেনস্টক প্রযুক্তিগত আলোচনা আয়োজন করছে, কিন্তু ইসলামাবাদ রাজনৈতিক আস্থা তৈরির জায়গা তৈরি করছে।"

তার মতে, প্রযুক্তিগত আলোচনায় নিয়ম, সময়সূচি ও যাচাই পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়, কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য প্রয়োজন আস্থা ও নেতৃত্বের সমর্থন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই ইরানের বড় লক্ষ্য ইরানের বিষয়ে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি বলেন, পেজেশকিয়ানের সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী, তবে সতর্কও রয়েছেন।

তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে দূরে থাকতে ইরান প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে কাজ করতে পারে। তবে ইরানের মূল লক্ষ্য হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

দুররানি বলেন, "ইতোমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানকে বিশ্ববাজারে তেল রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি বড় ধরনের স্বস্তি।"

লেবানন ইস্যুতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ইসরায়েল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা মেনে চলে।

পেজেশকিয়ানের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাও বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফর পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়াবে। ইরান প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে শুধু বার্তাবাহক নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে, সফরটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

খানজাদেহ বলেন, "এই সফরের মাধ্যমে পেজেশকিয়ান দেখাতে চাইছেন যে, কূটনীতি আত্মসমর্পণ নয়। ইরান তার সার্বভৌম অবস্থান থেকে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়।" সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
“নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও স্বেচ্ছা রক্তদান” বিষয়ক কর্মশালা

দিনাজপুরে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


দিনাজপুরে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান

“নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন ও স্বেচ্ছা রক্তদান” বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এই প্রতিপাদ্য নিয়ে যে, “প্রতি ফোঁটায় মানবতা, রক্ত দিন, জীবন বাচান”।

দিনাজপুরে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ৩ নম্বর গ্যালারিতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এই কর্মশালায় জেলার ১৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে নিয়মিত ও বিশেষ অবদানের জন্য ২৩ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা সনদ ও ফুল প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে আয়শা সিদ্দিকা নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাটিলেট দানকারী হিসেবেও সম্মাননা লাভ করেন এবং রবিউল ইসলাম রাজু পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাটিলেট দানকারী হিসেবে সম্মাননা পান।

এছাড়া নিয়মিত রক্তদাতা বোরহান জামান লিমন, রিয়াজুল ইসলাম রাজু ও আনোয়ার শাহাদাত মানিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, রিয়াজুল ইসলাম রাজু ও আনোয়ার শাহাদাত মানিক ইতোমধ্যে ৪৮বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন, যা নতুন রক্তদাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসময় নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের গুরুত্ব, স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা এবং রক্তদানে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সেখ সাদেক আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সরওয়ার জাহান, সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মুনছুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা জানান যে, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছায় ও নিয়মিত রক্তদানের কোনো বিকল্প নেই।

একজন স্বেচ্ছা রক্তদাতার প্রদানকৃত রক্ত একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাহলে মানবিক এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

ড্র করলেও কি বাঁচবে নকআউট স্বপ্ন? উজবেকিস্তান ম্যাচে পর্তুগালের সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


ড্র করলেও কি বাঁচবে নকআউট স্বপ্ন? উজবেকিস্তান ম্যাচে পর্তুগালের সমীকরণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে তারা ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার পরে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের সামনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনেকের ধারণা, এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। তবে বাস্তবতা হলো, ড্র করলেও পর্তুগালের নকআউটে ওঠার আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না।

বর্তমানে পর্তুগালের সংগ্রহে রয়েছে ১ পয়েন্ট। যদি তারা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্র করে, তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ২। সেই ক্ষেত্রে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয় পেলে ৫ পয়েন্ট নিয়েও পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারবে। বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপের তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর জন্যও নকআউটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাই এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে ড্র করলে সমীকরণটি কঠিন হয়ে যাবে। তখন শুধু নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্যান্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে। গোল পার্থক্য, করা গোল এবং মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, উজবেকিস্তানের কাছে হারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। প্রথম দুই ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচে নামতে হবে পর্তুগালকে। তখন বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি অন্য দলের ফল নিজেদের পক্ষে যেতে হবে। ফলে বিদায়ের শঙ্কা অনেকটা বাস্তব হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। জয় পেলে নকআউটের দরজা খুলে যাবে, ড্র করলে আশা বেঁচে থাকবে এবং হারলে রোনালদোদের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


নেত্রকোনায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

নেত্রকোনার মোট ৮৬ ইউনিয়নসহ ১০ উপজেলার ৩ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস খাওয়ানো হবে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন (১ম রাউন্ড) উপলক্ষে নেত্রকোনা জেলা সিভিল সার্জনের আয়োজনে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নেত্রকোনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপি আই ভবনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ের সভাপতিত্ব করেন জেলার সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা নাঈম। তিনি জেলার এ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এবং আগামী ২৮ জুন জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট ২১০৭টি কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪৪,৫৭৫ শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৮ শিশুকে ভিটামিনের টিকা খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ২০৯৭টি।

এ সময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো, তরিকুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ চন্দ্র সাহা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%