ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মন্দিরে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মন্দিরে বিদ্যুতের কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে কামাল হোসেন (৪৫) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানের। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামের সর্বজনীন শ্রীশ্রী গোপাল গিরিধারী মন্দিরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফৌজিয়া মোস্তফা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই কামালের মৃত্যু ঘটে।

মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কামাল একটি মই নিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত করছিলেন। এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

নিহত কামাল হোসেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সুলতান খানের ছেলে। তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার একটি ডেকোরেটরের দোকানে কর্মরত ছিলেন।

চরপাতা সর্বজনীন শ্রীশ্রী গোপাল গিরিধারী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমির কর্মকার বলেন, ‘মন্দিরের পূজামণ্ডপে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

রায়পুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি তপন ভক্ত জানান, এটি একটি দুর্ঘটনা। তাঁরা এ ঘটনায় মর্মাহত এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁদের মতে, এ ঘটনায় মণ্ডপ কমিটির কোনো গাফিলতি নেই।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভূঁঞা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঙ্গোতে এডিএফের হামলায় ৭৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ এম


কঙ্গোতে এডিএফের হামলায় ৭৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের মামবাসা অঞ্চলে সন্দেহভাজন সশস্ত্র গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এডিএফ) হামলায় গত সেপ্টেম্বর মাসে অন্তত ৭৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে।

এই তথ্য শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) দ্বারা প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়। হামলাগুলি বিয়াকাতো, বান্দিসেন্দে এবং মামবাসা শহরের উপকণ্ঠে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় বেসামরিক নাগরিকদের ধারালো অস্ত্র ও গুলির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে এবং বাড়িঘরে আগুন ধরানোর ঘটনাও ঘটেছে।

এই অঞ্চলে সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইতুরি প্রদেশ, যা ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আগে থেকেই বিপর্যস্ত, সেখানে সহিংসতা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ এম


আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রিতা এবং অবসরজনিত কারণে এসব পদ শূন্য থাকার ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের ওপর নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজের বাড়তি চাপ পড়ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, সভায় অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের জন্য কাজের চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়, পাঠদান তদারকি, দাপ্তরিক কাজ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের ওপর বর্তায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণে এসব কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হলে তাঁদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে আটজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব এখনো অর্পণ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘৩৮টি বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। অফিসের কাজে বাইরে যেতে হলে তাঁদের ক্লাস মিস হয়। তখন অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’

স্থানীয় অভিভাবক মো. সিরাজ বলেন, “শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক শিক্ষার মান আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

প্রধান শিক্ষকবিহীন একাধিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকেরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দাপ্তরিক কাজ ও সভায় অংশ নিতে গিয়ে অনেক সময় চলে যায়। ফলে পাঠদান যথাযথভাবে তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়; এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের অভিযানে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ এম


শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের অভিযানে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের একটি অভিযান পরিচালনা করে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের সময় উপজেলার গোপালনগর ও উমরপুর এলাকা থেকে এসব সার উদ্ধার করা হয়।

বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে আসা রাসায়নিক সারভর্তি দুটি ভটভটি শ্যামপুরের গোপালনগর ও উমরপুর এলাকায় পৌঁছালে কৃষি অফিস সেখানে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালীন দুটি ভটভটি থেকে ১৬৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৫৫ বস্তা ডিএপি, ৯ বস্তা এমওপি এবং ৫ বস্তা টিএসপি সার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ সময় সারের মালিককে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত সার স্থানীয় শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়।

এদিকে, কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, জব্দকৃত সার শিঘ্রই প্রশাসনের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিতরণ করা হবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি, তবু দাম নাগালের বাইরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ এম


চাহিদার চেয়ে বেশি ফল আমদানি, তবু দাম নাগালের বাইরে

দেশের বাজারে ফলের দাম চড়া থাকলেও চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় সব ধরনের ফলের কেজি প্রতি অন্তত ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা উচ্চ শুল্কহার এবং খরচ বৃদ্ধিকে ফলের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, সরকারের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে আমদানি করা ফলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদেশি ফলের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশি ফলের বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশে বিদেশি ফলের বাৎসরিক চাহিদা ৫২০,০০০ থেকে ৫৪০,০০০ টনের মধ্যে রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশি ফলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৩৮,০০০ টন, যা গড়ে প্রতি মাসে ৪৫,০০০ টনের কাছাকাছি।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে আমদানির পরিমাণ ৪১২,০০০ টন হয়েছে। ৯ মাসে স্বাভাবিক চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ৪০৫,০০০ টন।

চট্টগ্রামের ফলমণ্ডী, যা দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলবাজার, সেখান থেকে ফলের চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি দোকান ও গুদামে বিদেশি ফলের ভাণ্ডার পূর্ণ। সেখানে ধুমধাম বেচাকেনা চলছে। এদিন সাড়ে ছয় কেজির এক ক্যারেট আঙ্গুরের দাম ছিল ১৯০০-২১০০ টাকা। ২৪ কেজির এক ক্যারেট আপেল বিক্রি হয়েছে ৫৩০০-৫৫০০ টাকায়। ২২০ পিচের এক ক্যারেট কমলা বিক্রি হয়েছে চার হাজার টাকায়। ১৫ কেজির এক ক্যারেট মাল্টার দাম ছিল ৪৬০০ টাকা। পাইকারিতে ওইদিন বড় দানার প্রতিকেজি আনার দাম ছিল ৪০০ টাকা।

ফলমণ্ডী পাইকারি বাজার থেকে কয়েকশ মিটার দূরে রেয়াজউদ্দিন বাজার, যেখানে সবচেয়ে সস্তা খুচরা বাজার। এখানে প্রতিটি ফলের দাম প্রতিকেজি অন্তত ৫০ টাকা বেশি। দুই কিলোমিটার দূরে কাজির দেউড়ি কাঁচাবাজার, যেখানে ফলের দোকানের সংখ্যা বেশি। ফলমণ্ডীর পাইকারি বাজারে আঙ্গুরের দাম ছিল ৩২৪ টাকা কেজি, কিন্তু কাজির দেউড়িতে তার দাম ৫০০ টাকা। ফলমণ্ডীতে ২৩০ টাকা কেজির আপেল কাজির দেউড়িতে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৩০০ টাকার মাল্টা ৩৭০ টাকা এবং ২৮০ টাকার কমলা ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কাঁচাবাজারের ফলের দোকানগুলোতে একই চিত্র দেখা যায়। এখানকার বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে ফল কিনে খরচ যুক্ত করে ১৫-২০ শতাংশ লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করেন। তবে বর্তমানে ১০ শতাংশ লাভ হিসাব করেও দাম নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, পাইকারি বাজারে ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে বিক্রির ওপর প্রভাব পড়ছে। অনেক ক্রেতা দাম শুনে ফল না কিনে চলে যাচ্ছেন। দুই মাস আগে ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। দাম কমার কোনো সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা ফলের বড় অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রেফার কনটেইনারে আসে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১,২০০ কোটি টাকার ১,৩৭,০০০ টন আপেল, ৯৫৬ কোটি টাকার ১,০৭,০০০ টন কমলা, ৭২৭ কোটি টাকার ৬৯,০০০ টন আঙ্গুর, ৫৭২ কোটি টাকার ৬৫,৫৮৫ টন মেন্ডারিন এবং ৩৩৮ কোটি টাকার ৩৩,৭৪০ টন অন্যান্য ফল আমদানি হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, আমদানি করা প্রতি কেজি ফলের ভিত্তিমূল্য ৮০ সেন্ট ধরে ১২২ শতাংশ ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ কাস্টম ডিউটি, ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ৩০ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ এআইটি রয়েছে। অর্থাৎ, আমদানিকারক দেশ থেকে ১০০ টাকার ফল কিনে বাংলাদেশে আনতে ১২২ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। জাহাজ ও রেফার কনটেইনার ভাড়া যুক্ত হলে ১০০ টাকার ফল বাংলাদেশে পৌঁছাতে ২৪০ টাকার কাছাকাছি খরচ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির একটি কারণ।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম জানিয়েছেন, ফলের দাম ২০২৩ সাল থেকেই বাড়তে শুরু করেছে। কারণ, ওই সময় যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৩০ টাকা, এখন তা ১১০ টাকা। যে ফলে ট্যাক্স ছিল ৪৫ টাকা, এখন তা ১৪৫ টাকা। জাহাজ ভাড়া ও কনটেইনার ভাড়া সবই গত বছরের তুলনায় কয়েকশগুণ বেড়ে গেছে। খরচ বেশি হলে দাম বাড়বে, এটি স্বাভাবিক।

তিনি আরও জানান, চীন থেকে আসা ফলের দাম এখনো কম রয়েছে। কিন্তু আফ্রিকা থেকে আসা ফলের দাম কিছুটা বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে ওই জাহাজগুলো রুট পরিবর্তন করে আসছে। যে জাহাজের ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল সিঙ্গাপুর, সেই জাহাজ এখন মালয়েশিয়া হয়ে আসছে। ফলে সাপ্লাই চেইনে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, এ মাসের শেষে বেশ কয়েকটি জাহাজ একসঙ্গে আসবে। তখন ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাবে। অনেক আমদানিকারক লোকসানেও পড়তে পারেন, কারণ এগুলো পচনশীল পণ্য। স্টক করে বিক্রি করার সুযোগ সীমিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৫৩৮,০০০ টন বিভিন্ন ধরনের ফল বাংলাদেশে এসেছে, যার মূল্য ৪,৯৬৫ কোটি টাকা। এসব ফল থেকে রাজস্ব এসেছিল ৫,৪৫৮ কোটি টাকা। বিপরীতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ৩,৭৯৯ কোটি টাকার ৪১২,০০০ টন আমদানি করা ফল এসেছে দেশে, যার থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪,৩০০ কোটি টাকা। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব ফল আমদানি করা হয়।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%