ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা


অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান কিংবা শ্রমবাজারের বিষয় নয়। এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি আজ রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) অনুষ্ঠিত 'মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স অ্যাজ আ ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইনস্ট্রুমেন্ট ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক মূল বক্তব্যের সময় এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপিতে এসে পৌঁছালে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানটিতে বিইউপির ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ডিন, শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

মূল বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা শুধু রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড ও ভৌগলিক সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মানুষের নিরাপদ চলাচল, বৈধ কর্মসংস্থান, সীমান্ত অতিক্রমের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত অভিবাসন নিশ্চিত করা না হলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসী আয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশগামী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণা, মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সংকটকালীন সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুসংহত, মানবিক ও নিরাপত্তা সচেতন অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সহ জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি অভিবাসনের অর্থনৈতিক, মানবিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত দিকগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী নীতিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী গবেষণা, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

মূল বক্তব্যের পর এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিইউপির শিক্ষার্থীরা অভিবাসন নীতি, মানব পাচার, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপির শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা, নীতিগত আলোচনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোতে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


মরক্কোতে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : মরক্কোর রাজধানী রাবাতের বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন করেছে।

এসময় জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এবং জাতীয় ঐক্যের আদর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

গতকাল বুধবার আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন। দূতাবাসের কাউন্সেলর রাজিব ত্রিপুরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন।

এসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আলোকে বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে মরক্কোতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


শিকলমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়তে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এসময় মন্তব্য করেন যে, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে সরকার একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ জাতিকে শিকল পরাতে না পারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতেই হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তাদেরই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে।’

অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায় ও গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতো, পরে তা লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার জনগণের কাছে পৌঁছাতে আমরা পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সক্ষম হচ্ছি না, সেই কারণে রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’

তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ কর হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদফতরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাভের পাল্লা কি ইরানের দিকেই ঝুঁকছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


লাভের পাল্লা কি ইরানের দিকেই ঝুঁকছে?

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার জন্য একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি যা কার্যকর হলে তেহরানকে অনেক বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে সহযোগিতা করবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই তথ্যটি রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুইজন অন্যান্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে।

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান পাঁচ মাসের উত্তেজনা কমাতে এই উদ্যোগটা নেওয়া হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি সম্ভবত আসছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন রুটে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ তারা কখনোই মানবেন না।

বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, প্রণালির চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যটি তেহরানের পক্ষে পরিচালিত হতে পারে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং এর জন্য কোনো ফি দিতে হতো না।

বর্তমানে কূটনৈতিক সংশোধন হিসেবে ইরান ও ওমান তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ নিজেদের উত্তর এবং দক্ষিণ চ্যানেল দিয়ে হরমুজ প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করে। ইরান জানায়, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আসা ও যাওয়া উভয় পথের জাহাজগুলো অবশ্যই ইরানি জলসীমা অতিক্রম করবে।

এদিকে, তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে যে, যদি ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা হবে। এই তথ্য পাঁচটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, ইরানের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট; যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তারা উপসাগ্রীয় অঞ্চলের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে।

এখন পর্যন্ত ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তেহরানের অনুমতি ছাড়া আসা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাধা দিচ্ছে। তবে লাস ভেগাসে সমর্থকদের এক সমাবেশে ট্রাম্প কূটনীতির প্রতি নিজের পছন্দের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তিনি চুক্তি করতে আগ্রহী, কারণ তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না।

ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে তিন হাজার চারশর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে ১৮ জন মার্কিন সামরিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছে।

তবে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক ও ইরানি সূত্রগুলো বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। চুক্তি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, ট্রাম্পের এ ব্যাপারে বক্তব্যের সাথে তারা দ্বিমত প্রকাশ করেছে।

একটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, হরমুজের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আগেই মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। উপসাগরীয় মধ্যস্থতাকারীরা চাচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো যেন জাহাজ পরিদর্শন তদারকি করে এবং যেকোনো ফি প্রদান স্বেচ্ছাধীন থাকে।

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার মতে, তাদের দেশ এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি দাবি করছে। অন্যদিকে, ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে, কিন্তু ওয়াশিংটন কোনো ফি প্রদানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও জানান, খসড়া চুক্তিতে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের কি ভূমিকা থাকবে, তার উপর মূল মতবিরোধ রয়ে গেছে।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আসা এবং যাওয়ার উভয় পথেই ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমা অতিক্রম করবে, এমনভাবে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। উভয় দেশের সাথে আলোচনা মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছে গেছে এবং এই অগ্রগতি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেও জানান তিনি।

গারিবাবাদি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তে ফিরে আসতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য এটি একটি প্রধান শর্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাই ট্রাম্পের ওপর সংকট সমাধানের চাপ বাড়ছে। জুলাইয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক হামলা চালিয়েও প্রণালিতে ইরানের দিক থেকে প্রভাব কমানো যায়নি। এছাড়া, মার্কিন সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে সামরিক কমান্ডাররা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্প ইরান সংকট অবসানের আলোচনার কথা তুলে ধরে নতুন হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরে গত দুই দিনে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগ আমলের অর্থ লোপাটে বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


আওয়ামী লীগ আমলের অর্থ লোপাটে বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাংক খাতের এক তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় ২ কোটি আমানতকারী এখন বিপাকে পড়েছেন।

গভর্নর আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এক তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে। যেটাকে আমরা খেলাপি বলছি, সেটা আসলে খেলাপি নয়, বরং চুরি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত বাংলা কিউআর নিয়ে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই কারণে ২ কোটি আমানতকারী ভোগান্তিতে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাত ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। যা এ খাতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ১৮ মাসের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ৬ মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে এক্সিটের সুযোগ প্রদান করা হবে। বাকি ১ বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও অর্থ ঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উক্ত আইন দুটি আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে পারে।

বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি করতে সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ চালু করা হবে, জানান তিনি। এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার ব্যাপারেও অবহিত করেন গভর্নর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%