০১:১০ পি.এম
উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল সম্প্রসারিত ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করবে।
এই বিশ্বকাপে তিন দেশের ১৬টি শহরের মোট ১৬টি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব প্রান্তের বোস্টন থেকে শুরু করে কানাডার পশ্চিম উপকূলের ভ্যাঙ্কুভার এবং মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলের গুয়াদালাহারা পর্যন্ত বিস্তৃত।
১. আটলান্টা স্টেডিয়াম
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
অবস্থান: আটলান্টা, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৭৫,০০০
নির্মাণ: ২০১৭
ম্যাচ সংখ্যা: ৮টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ৩টি)
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ম্যাচ সূচি:
* স্পেন বনাম কেপ ভার্ডে
* চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
* স্পেন বনাম সৌদি আরব
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
* মরক্কো বনাম হাইতি
* কঙ্গো ডিআর বনাম উজবেকিস্তান
* গ্রুপ এল বিজয়ী বনাম গ্রুপ ই/এইচ/আই/জে/কে তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
* সেমিফাইনাল
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের এই শহরটি (৫ লক্ষেরও বেশি জনসংখ্যা) ফুটবলের জন্য নয় বরং আমেরিকান কলেজ ফুটবলের জন্যও বিখ্যাত। এখানে এমএলএসের ক্লাব আটলান্টা ইউনাইটেডের হোম গ্রাউন্ড রয়েছে।
স্টেডিয়ামটি আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম উদাহরণ, যেখানে রয়েছে রিট্র্যাক্টেবল ছাদ এবং ৩৬০-ডিগ্রি হ্যালো ভিডিও ডিসপ্লে। স্পনসরশিপের কারণে এটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত।
এই ভেন্যুতে গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আসন্ন বিশ্বকাপে এখানে মোট আটটি ম্যাচ হবে, যার মধ্যে একটি সেমিফাইনালও রয়েছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দল স্পেন এখানে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ খেলবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
২. বোস্টন স্টেডিয়াম
অবস্থান: ফক্সবোরো, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৬৫,০০০
নির্মাণ: ২০০২
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
ম্যাচ সংখ্যা: ৭টি (গ্রুপ পর্বের ৫টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* হাইতি বনাম স্কটল্যান্ড
* ইরাক বনাম নরওয়ে
* স্কটল্যান্ড বনাম মরক্কো
* ইংল্যান্ড বনাম ঘানা
* নরওয়ে বনাম ফ্রান্স
* গ্রুপ ই বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ/বি/সি/ডি/এফ-এর তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
বোস্টন শহর থেকে প্রায় ২২ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই বহুমুখী স্টেডিয়ামটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দল নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস এবং এমএলএসের ক্লাব নিউ ইংল্যান্ড রেভলিউশনের হোম গ্রাউন্ড।
এটি আগে বহু বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৩ এর নারী ফুটবল বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিও এবং কনকাকাফ গোল্ড কাপ।
বোস্টন স্টেডিয়াম সমর্থকদের কাছে সাধারণত 'গিলেট স্টেডিয়াম' নামে পরিচিত। বিশ্বকাপের আগে স্টেডিয়ামটিতে বড় ধরনের সংস্কার করা হয়েছে। এখন এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আউটডোর হাই-ডেফিনিশন ভিডিও বোর্ড রয়েছে, যার আয়তন ২২,০০০ বর্গফুট।
৩. ডালাস স্টেডিয়াম
অবস্থান: আর্লিংটন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৯৪,০০০
নির্মাণ: ২০০৯
ম্যাচ সংখ্যা: ৯টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ৪টি)
ম্যাচ সূচি:
* নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান
* ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া
* আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া
* জাপান বনাম সুইডেন
* জর্ডান বনাম আর্জেন্টিনা
* গ্রুপ ই রানার্স-আপ বনাম গ্রুপ আই রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* গ্রুপ ডি রানার্স-আপ বনাম গ্রুপ জি রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
* সেমিফাইনাল
ডালাস স্টেডিয়াম ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভেন্যু। এর দর্শক ধারণক্ষমতা ৯৪,০০০ এবং ভেতরে ২৫,০০০ বর্গফুট ভিডিও ডিসপ্লে আছে।
এখানে মোট ৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা টুর্নামেন্টের মধ্যে সর্বাধিক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ ম্যাচ (যার মধ্যে আছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দুটি ম্যাচ) এবং চারটি নকআউট ম্যাচ, যার মধ্যে একটি সেমিফাইনালও আছে।
২০০৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এটি এনএফএলের দল ডালাস কাউবয়েজের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পাশাপাশি কোপা আমেরিকা ও মেক্সিকো জাতীয় দলের ম্যাচও আয়োজন করেছে।
স্টেডিয়ামটি 'জেরি ওয়ার্ল্ড' নামে পরিচিত, কারণ ডালাস কাউবয়েজের মালিক জেরি জোন্স এটিকে একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
৪. হিউস্টন স্টেডিয়াম
অবস্থান: হিউস্টন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৭২,০০০
নির্মাণ: ২০০২
ম্যাচ সংখ্যা: ৭টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* জার্মানি বনাম কুরাসাও
* পর্তুগাল বনাম কঙ্গো ডিআর
* নেদারল্যান্ডস বনাম সুইডেন
* পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান
* কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব
* গ্রুপ সি বিজয়ী বনাম গ্রুপ এফ রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
এই বহুমুখী স্টেডিয়ামটি এনএফএলের দল হিউস্টন টেক্সান্সের হোম গ্রাউন্ড এবং এটিই প্রথম এনএফএল ভেন্যু যেখানে রিট্র্যাক্টেবল ছাদ ব্যবহার করা হয়েছিল।
স্টেডিয়ামটির 'বুল পেন' সেকশনটি বিখ্যাত, যেখানে হিউস্টন টেক্সান্স সমর্থকদের সবচেয়ে কট্টর ও উচ্ছ্বসিত অংশ অবস্থান করে।
এটি শুধু আমেরিকান ফুটবল নয়, বরং সকার (ফুটবল) ম্যাচের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এমএলএস অল-স্টার ম্যাচ, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর জাতীয় দলের ম্যাচ, এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
৫. কানসাস সিটি স্টেডিয়াম
অবস্থান: কানসাস সিটি, মিজৌরি, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৭৩,০০০
নির্মাণ: ১৯৭২
ম্যাচ সংখ্যা: ৬টি (গ্রুপ পর্ব ৪টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া
* ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও
* তিউনিসিয়া বনাম নেদারল্যান্ডস
* আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া
* গ্রুপ কে বিজয়ী বনাম গ্রুপ ডি/ই/আই/জে/এল তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* সেমিফাইনাল
এই স্টেডিয়ামটিও এনএফএলের আরেক দল কানসাস সিটি চিফসের হোম গ্রাউন্ড। ২০১৪ সালে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে ম্যাচে ১৪২.২ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রেকর্ড করে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জোরালো আউটডোর স্পোর্টস ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এটি সাধারণত 'অ্যারোহেড ফিল্ড' নামে পরিচিত এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত টানা পাঁচটি এনএফএল কনফারেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে।
৬. লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম
অবস্থান: ইনগলউড, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৭০,০০০
নির্মাণ: ২০২০
ম্যাচ সংখ্যা: ৮টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ৩টি)
ম্যাচ সূচি:
* যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে
* ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড
* সুইজারল্যান্ড বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
* বেলজিয়াম বনাম ইরান
* তুরস্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র
* গ্রুপ এ রানার্স-আপ বনাম গ্রুপ বি রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* গ্রুপ এইচ বিজয়ী বনাম গ্রুপ জে রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* কোয়ার্টার ফাইনাল
মাত্র কয়েক বছর আগে উদ্বোধন হওয়া লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামটি ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে নতুন। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এখানে তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলবে। এটি এনএফএল দল এলএ রামস এবং এলএ চার্জার্সের হোম গ্রাউন্ড।
স্পনসরশিপের কারণে এটি সোফি স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে এই স্টেডিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও এখানে অনুষ্ঠিত হবে।
৭. মায়ামি স্টেডিয়াম
অবস্থান: মায়ামি গার্ডেন্স, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৬৫,০০০
নির্মাণ: ১৯৮৭
ম্যাচ সংখ্যা: ৭টি (গ্রুপ পর্ব ৪টি, নকআউট ৩টি)
ম্যাচ সূচি:
* সৌদি আরব বনাম উরুগুয়ে
* উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্ডে
* স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল
* কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল
* গ্রুপ জে বিজয়ী বনাম গ্রুপ এইচ রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
* কোয়ার্টার ফাইনাল
* তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ
মায়ামি স্টেডিয়ামটি খেলাধুলার বড় বড় ইভেন্ট আয়োজনের জন্য পরিচিত। এখানে এনএফএলের বিখ্যাত দল মায়ামি ডলফিনস খেলে। পাশাপাশি ফর্মুলা ওয়ান মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স ও মায়ামি ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হয়।
এটি 'হার্ড রক স্টেডিয়াম' নামেও পরিচিত এবং এখানে ছয়টি সুপার বোল, বহু বড় কনসার্ট এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮. নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়াম
অবস্থান: ইস্ট রাদারফোর্ড, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৮২,৫০০
নির্মাণ: ২০১০
ম্যাচ সংখ্যা: ৮টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, ফাইনালসহ নকআউট ৩টি)
ম্যাচ সূচি:
* ব্রাজিল বনাম মরক্কো
* ফ্রান্স বনাম সেনেগাল
* নরওয়ে বনাম সেনেগাল
* ইকুয়েডর বনাম জার্মানি
* পানামা বনাম ইংল্যান্ড
* গ্রুপ আই বিজয়ী বনাম গ্রুপ সি/ডি/এফ/জি/এইচ তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
* ফাইনাল
এই বিশাল মাল্টিপারপাস স্টেডিয়ামটি এনএফএলের দল নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস ও নিউ ইয়র্ক জেটসের হোম গ্রাউন্ড। এটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। অত্র মাঠে ১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি মেটলাইফ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। এখানে ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল ও সেমিফাইনাল আয়োজন করা হয়েছিল।
নিউ জার্সি অঞ্চলটি সংগীত সংস্কৃতির জন্যও বিখ্যাত। এই স্টেডিয়ামে বিয়ন্সে, এড শিরান ও টেইলর সুইফটের মতো বিশ্ব তারকা পারফর্ম করেছেন।
৯. ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
অবস্থান: ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৬৯,০০০
নির্মাণ: ২০০৩
ম্যাচ সংখ্যা: ৬টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ১টি)
ম্যাচ সূচি:
* আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর
* ব্রাজিল বনাম হাইতি
* ফ্রান্স বনাম ইরাক
* কুরাসাও বনাম আইভরি কোস্ট
* ক্রোয়েশিয়া বনাম ঘানা
* রাউন্ড অব ১৬
এই স্টেডিয়ামটি এনএফএল সুপার বোল ৫৯তম চ্যাম্পিয়ন ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের হোম গ্রাউন্ড। গত বছর এখানে ক্লাব বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল গ্রুপ ম্যাচ, রাউন্ড অব ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল।
লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড নামে পরিচিত এই স্টেডিয়ামটি ডেলাওয়ার নদীর তীরে অবস্থিত। ২০০৩ সালে এর প্রথম টিকিটেড ইভেন্টে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বার্সেলোনাকে ৩–১ গোলে হারিয়েছিল, যেখানে ৬৮,০০০-এরও বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
১০. সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম
অবস্থান: সান্তা ক্লারা, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৭১,০০০
নির্মাণ: ২০১৪
ম্যাচ সংখ্যা: ৬টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ১টি)
ম্যাচ সূচি:
* কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড
* অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান
* তুরস্ক বনাম প্যারাগুয়ে
* জর্ডান বনাম আলজেরিয়া
* প্যারাগুয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া
* গ্রুপ ডি বিজয়ী বনাম গ্রুপ বি/ই/এফ/আই/জে তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
এটি এনএফএলের দল সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্সের হোম স্টেডিয়াম এবং তুলনামূলকভাবে নতুন ভেন্যুগুলোর একটি, যা ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে।
স্টেডিয়ামটি সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৪ কিমি) দক্ষিণে অবস্থিত। এটি সাধারণত লেভিস স্টেডিয়াম নামে পরিচিত।
এখানে সুপার বোলসহ বড় বড় ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সুপার বোল ইভেন্টে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় শিল্পী ব্যাড বানি হাফটাইম শোতে পারফর্ম করেছিলেন।
১১. সিয়াটল স্টেডিয়াম
অবস্থান: সিয়াটল, ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র
ধারণক্ষমতা: ৬৯,০০০
নির্মাণ: ২০০২
ম্যাচ সংখ্যা: ৬টি (গ্রুপ পর্ব ৪টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* বেলজিয়াম বনাম মিশর
* যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া
* বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাবান্ধবগ বৈসভটি কাপা
* মিশর বনাম ইরান
* গ্রুপ জি বিজয়ী বনাম গ্রুপ এ/ই/এইচ/আই/জে তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
এই স্টেডিয়ামটি এমএলএসের ক্লাব সিয়াটল সাউন্ডার্স, এনএফএল দল সিয়াটল সিহকস এবং এনডব্লিউএসএল দল সিয়াটল রেইনের হোম গ্রাউন্ড।
এটি লুমেন ফিল্ড নামে পরিচিত এবং এর বিশেষত্ব ঘোড়ার খুর আকৃতির নকশা। খোলা উত্তর প্রান্ত থেকে সিয়াটল শহরের স্কাইলাইনের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়।
স্টেডিয়ামটি সিয়াটল ডাউনটাউনের খুব কাছেই অবস্থিত এবং সহজেই হাইওয়ে ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়া যায়।
১২. টরন্টো স্টেডিয়াম
অবস্থান: টরন্টো, অন্টারিও, কানাডা
ধারণক্ষমতা: ৪৫,০০০
নির্মাণ: ২০০৭
ম্যাচ সংখ্যা: ৬টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট পর্ব ১টি)
ম্যাচ সূচি:
* কানাডা বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
* ঘানা বনাম পানামা
* জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট
* পানামা বনাম ক্রোয়েশিয়া
* সেনেগাল বনাম ইরাক
* গ্রুপ কে রানার্স-আপ বনাম গ্রুপ এল রানার্স-আপ
টরন্টো স্টেডিয়াম ২০২৬ বিশ্বকাপে কানাডার প্রথম ভেন্যু হিসেবে ম্যাচ আয়োজন করবে। এটি মূলত ২০০৭ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নির্মিত হয়।
স্টেডিয়ামটি ২০১৪ সালের নারী অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপও আয়োজন করেছে। এখানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ স্টাইলের ছাদ কাভার এবং দুই প্রান্তে খাড়া গ্যালারি রয়েছে।
১৩. বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার
অবস্থান: ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা
ধারণক্ষমতা: ৫৪,০০০
নির্মাণ: ১৯৮৩
ম্যাচ সংখ্যা: ৭টি (গ্রুপ পর্ব ৫টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরস্ক
* কানাডা বনাম কাতার
* নিউজিল্যান্ড বনাম মিশর
* সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা
* নিউজিল্যান্ড বনাম বেলজিয়াম
* গ্রুপ বি বিজয়ী বনাম গ্রুপ ই/এফ/জি/আই/জে তৃতীয় স্থান (রাউন্ড অব-৩২)
* রাউন্ড অব ১৬
ভ্যাঙ্কুভারের ফলস ক্রিক উপকূলে অবস্থিত এই বহুমুখী স্টেডিয়ামটি এমএলএস ক্লাব ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস, কানাডিয়ান ফুটবল দল বিসি লায়ন্স এবং রাগবি সেভেন্স সিরিজের 'কানাডা সেভেন' টুর্নামেন্ট আয়োজন করে।
স্টেডিয়ামটি তার আইকনিক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে ২০১৫ সালের নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল এখানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কার্লি লয়্ডের হ্যাটট্রিকে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।
এই বিশ্বকাপে এটি আয়োজক কানাডার দুটি গ্রুপ ম্যাচ আয়োজন করবে।
১৪. মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
অবস্থান: মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো
ধারণক্ষমতা: ৮৩,০০০
নির্মাণ: ১৯৬৬
ম্যাচ সংখ্যা: ৫টি (গ্রুপ পর্ব ৩টি, নকআউট ২টি)
ম্যাচ সূচি:
* মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
* উজবেকিস্তান বনাম কলম্বিয়া
* চেক প্রজাতন্ত্র বনাম মেক্সিকো
* গ্রুপ এ বিজয়ী বনাম গ্রুপ সি/ই/এফ/এইচ/আই তৃতীয় স্থান
* রাউন্ড অব ১৬
ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও আজতেকা পুনর্নির্মাণের পর বর্তমানে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। আসন্ন বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়াম ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে, কারণ এটি প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।
এখানে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা খেলেছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচও এখানে হবে, যেখানে আয়োজক মেক্সিকো ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। এটি ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পুনরাবৃত্তি।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ মিটার (৭,২০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতীকী ভেন্যু। এটি মেক্সিকো জাতীয় দল এবং ক্লাব আমেরিকার হোম গ্রাউন্ডও।
১৫. এস্তাদিও গুয়াদালাহারা
অবস্থান: জাপোপান, জালিস্কো, মেক্সিকো
ধারণক্ষমতা: ৪৮,০০০
নির্মাণ: ২০১০
ম্যাচ সংখ্যা: ৪টি (গ্রুপ পর্ব)
ম্যাচ সূচি:
* দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র
* মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
* কলম্বিয়া বনাম কঙ্গো ডিআর
* উরুগুয়ে বনাম স্পেন
এস্তাদিও গুয়াদালাহারা সাধারণত “এস্তাদিও আকরন” নামে পরিচিত। এটি একটি বহুমুখী স্টেডিয়াম হলেও মূলত ফুটবল ম্যাচের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং লিগা এমএক্স ক্লাব সিডি গুয়াদালাহারার হোম গ্রাউন্ড।
উঁচু জমির ওপর নির্মিত এবং গোলাকার কলোসিয়াম-ধাঁচের নকশার কারণে এটি উত্তর আমেরিকার অন্যতম আকর্ষণীয় স্টেডিয়ামগুলোর একটি। এটি ২০১১ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপও আয়োজন করেছিল।
১৬. এস্তাদিও মন্টেরে
অবস্থান: গুয়াদালুপে, নুয়েভো লিওন, মেক্সিকো
ধারণক্ষমতা: ৫৩,৫০০
নির্মাণ: ২০১৫
ম্যাচ সংখ্যা: ৪টি (গ্রুপ পর্ব ৩টি, নকআউট ১টি)
ম্যাচ সূচি:
* সুইডেন বনাম তিউনিসিয়া
* তিউনিসিয়া বনাম জাপান
* দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
* গ্রুপ এফ বিজয়ী বনাম গ্রুপ সি রানার্স-আপ (রাউন্ড অব-৩২)
এই স্টেডিয়ামটি লিগা এমএক্স ক্লাব মন্টেরের হোম গ্রাউন্ড। এটি ২০২২ সালের কনকাকাফ ওমেন চ্যাম্পিয়নশীপের কিছু ম্যাচও আয়োজন করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন