প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দুই মাসের মধ্যে ৪ কিলোমিটার খননের ফলে সাহাপাড়া খাল দিয়ে পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা মুক্ত হয়েছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর। এজন্য সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এ অঞ্চলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, খাল খননের পাশাপাশি জেলায় রাস্তা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। ফলে সেচ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষকেরা সরাসরি লাভবান হবেন। জমিতে সেচ ছাড়াও জলাবদ্ধতা নিরসন, খালের দুপাশে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ, মৎস্য ও হাঁস পালন করা হবে।
এ বিষয়ে বলরামপুরের কৃষক সমিরউদ্দিন জানিয়েছেন, খালটি খনন শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ খাল খনন হলে আমরা ভালো সেচ সুবিধা পাব। জলাবদ্ধতা থাকবে না।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রকল্পের ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে। ফলে ধানের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। জলাবদ্ধতার কারণে যে জমি আবাদ হতো না, সেই জমিগুলোও চাষাবাদের আওতায় আসবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।
এদিকে সম্প্রতি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এলাকার সংসদ সদস্য ও বোর্ডের কর্মকর্তারা খাল পরিদর্শন করেন।
এ সময় সংসদ সদস্য মনঞ্জুরুল ইসলাম খাল খননকে যুগান্তকারী কর্মসূচি উল্লেখ করে বলেন, ‘খাল খনন শুধু সেচ দেয়ার জন্য নয়, সারা বছর পানি ধরে রাখলে পানির স্তর ওপরে উঠবে; এর সুফল পাবে সাড়ে তিন লাখ মানুষ। সবচেয়ে লাভবান হবেন ক্যানেলের আশপাশে বসবাসরত মানুষ। খালগুলো ভরাট থাকলে জলাধারের সৃষ্টি হবে। এতে পানির স্তর ওপরে উঠবে এবং এলাকাবাসী অতি সহজে পানি পাবেন।’
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী খাল খনন পরিদর্শনের পর বলেন, অতীতে নদী ও খাল খননের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। আমরা সমন্বিতভাবে খনন করার পর খালগুলো ভবিষ্যতে পুনরায় ভরাট না হয়ে যায়। এজন্য সমন্বয় করে খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে এ অঞ্চলে কৃষি ও প্রকৃতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং এলাকার মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ কোদাল দিয়ে মাটি কেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে এতে মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সেচ ব্যবস্থার অভাব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সুফল পেতে শুরু করেছে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায়বাসী। দুই মাসের মধ্যে ৪ কিলোমিটার খননে সাহাপাড়া খাল দিয়ে পানিপ্রবাহ শুরু হয়েছে। জলাবদ্ধতার সমস্যাও কেটে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতির কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগটিকে সে কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ১২ কিলোমিটার সাহাপাড়া খাল খননসহ রাস্তা, কালভার্ট ও একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন