০৪:১১ পি.এম
রাজধানীর জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে সরকার স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিষয়টি উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালগুলো থেকে পলি-বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি অপসারণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান পাম্প স্টেশন থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
পানির সঞ্চালন বাড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জনসচেতনতাও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়াও, ওয়ার্ডভিত্তিক এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি প্রবাহের বাধা (ব্লকেজ) নিরসনের কাজও চলমান রয়েছে।
“মধ্যমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় পদক্ষেপগুলো হলো— খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৪টি বৃহৎ খাল উন্নয়নের কার্যক্রম চলছে। জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কার্যক্রমও চলছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যমান নর্দমা সংস্কার ও মেরামতের কার্যক্রমও কার্যকরীভাবে চলছে।
“দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় গৃহীত পরিকল্পনাগুলো হলো— জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ অন্যান্য খাল (প্রায় ৫০ কি.মি.) উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে (অঞ্চল-০১ থেকে ০৫) জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য অধিক সংখ্যক আউটলেট নির্মাণ এবং পাম্প স্টেশনের স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করে প্রবাহ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট ইত্যাদি) ডাক্ট নির্মাণের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে টেকসই ও যুগোপযোগী করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন