ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই গ্রেপ্তার


জমি বিরোধে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে ভাইকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী একটি কোচে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং ভুক্তভোগী উভয়ই বিরামপুর কৃষ্ট চাঁদপুর চার নাম্বার ওয়ার্ডের মনিরুদ্দীনের সন্তান।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর রাত ৯টার সময় কৃষ্ণ চাঁদপুর এলাকায় ছোট ভাই মুকুল হোসেনের ধানের জমিতে বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন (৫০) এবং মেজো ভাই এটিএম শামসুজ্জামান মাস্টার (৪৫) ময়লা ফেলেন। ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই মুকুল হোসেন বড় ভাইদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় বড় ভাই এবং মেজো ভাই মুকুল হোসেনকে কিল, ঘুষি এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এর ফলে ছোট ভাই মুকুল হোসেন বুকের ডান পাশে গুরুতর আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারান।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তার মৃত্যু ঘটে।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ৮ নভেম্বর শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনি ডেপ কি ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে ফিরছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


জনি ডেপ কি ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হয়ে ফিরছেন?

হলিউডের তারকা জনি ডেপ ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রে আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। জনপ্রিয় ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ কিস্তিতে তার অভিনয়ের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে তিনি সরাসরি ফেরার ঘোষণা দেননি। ডেপ জানিয়েছেন, প্রিয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সমাপ্তি যদি আরও সুন্দর ও স্মরণীয় করার সুযোগ থাকে, তবেই তিনি যুক্ত হতে চান।

এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনি ডেপ জানান, ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির একটি সুন্দর সমাপ্তি নিশ্চিত করা তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি সত্যিই শুধু একটাই বিষয়ে যুক্ত থাকতে চাই, আর তা হলো তাদের আরও ভালো একটি সমাপ্তি উপহার দেওয়া।”

ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রযোজক জেরি ব্রুকহাইমারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ডেপ বেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা জানান, জেরি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তিনি বলেন, “জেরি ডাকলে আগামীকালই তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আমি।” কাজটি কী, সেটি তার কাছে বড় বিষয় নয়। তিনি জেরির প্রতি গভীর আস্থা ও বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের গ্রীষ্মে এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেরি ব্রুকহাইমার জানিয়েছিলেন, নতুন ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ সিনেমা নিয়ে জনি ডেপের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চিত্রনাট্য পছন্দ হলে ডেপ ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রে আবারও ফিরতে পারেন। তিনি জানান, সিনেমাটির চিত্রনাট্য তৈরির কাজ চলছে এবং নির্মাতারা উপযুক্ত গল্প খুঁজছেন।

২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান : দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল’ সিনেমার মাধ্যমে জনি ডেপ ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রে যাত্রা শুরু করেন। এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পাঁচটি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। বিশ্বজুড়ে সিনেমাগুলো প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার আয় করে। এর মধ্যে ‘ডেড ম্যানস চেস্ট’ (২০০৬) ও ‘অন স্ট্রেঞ্জার টাইডস’ (২০১১) এককভাবে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে।

তবে ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি জটিলতার কারণে পরবর্তীতে ডেপের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০২০ সালে ‘দ্য সান’ পত্রিকার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় হেরে যাওয়ার পর ‘ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস : দ্য সিক্রেটস অব ডাম্বলডো’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাকে। পরে তার জায়গায় গ্রিন্ডেলওয়াল্ড চরিত্রে অভিনয় করেন ম্যাডস মিকেলসেন। ২০২২ সালে সাবেক স্ত্রী অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলাও তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। ওই মামলায় জুরি বোর্ডের রায় ডেপের পক্ষে গেলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

এদিকে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান ৬’ নির্মাণের পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। ২০২০ সালে ডিজনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন দুটি সিনেমা নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করে। এর একটি ছিল মার্গট রবির সঙ্গে নতুন গল্প, অন্যটি মূল ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ কিস্তি। তবে নারীপ্রধান গল্পের মার্গট রবি অভিনীত প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি।

২০২৪ সালে প্রযোজক জেরি ব্রুকহাইমার জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্যকার জেফ নাথানসন ষষ্ঠ সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন। বিশেষ করে গল্পের শেষ অংশটি তার দারুণ পছন্দ হয়েছে। বাকি অংশের কাজ শেষ করে সিনেমাটি নির্মাণের দিকে এগোতে চান তারা। ব্রুকহাইমার আরো জানিয়েছিলেন, তার সিদ্ধান্ত হলে নতুন সিনেমায় জনি ডেপকেই রাখতে চান। কারণ, ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রটি ডেপের অভিনয়শৈলী ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়েই অনন্য হয়ে উঠেছে।

জনি ডেপ নতুন সিনেমা ‘এবেনিজার’-এর মাধ্যমে হলিউডে প্রত্যাবর্তনের পথে রয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৮ সালে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা লায়ন্সগেটের থ্রিলার ‘ডে ড্রিঙ্কার’-এও তাকে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো হিসেবে ডেপের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ ভক্তরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুটেক্সের পাঁচ শিক্ষার্থী পেলেন চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


বুটেক্সের পাঁচ শিক্ষার্থী পেলেন চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ

চীন সরকার প্রতিবছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে, যা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে। এর মধ্যে অন্যতম হল চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (সিজিএস), যা চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের (সিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বৃত্তির আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। স্কলারশিপের শর্ত ও ধরন অনুযায়ী এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা এবং মাসিক ভাতার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) পাঁচজন কৃতী শিক্ষার্থী। তাদের স্কলারশিপ অর্জনের অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মো. শাহরিয়ার ইসলাম।

মো. জিয়াউর রহমান

বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউর রহমান বর্তমানে চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। তিনি চীন সরকারের ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের আওতায় এই সুযোগ পেয়েছেন। স্কলারশিপ পাওয়ার সময় তিনি একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাসিক ভাতার সুবিধা থাকায় এটি কর্মজীবন থেকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

জিয়াউর রহমান নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, "উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি।" তিনি জানান, ইমেইলের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের স্কোর এবং একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, "সেখানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য অধ্যাপকদের অধীনে পৃথক ল্যাব আছে।" এসব ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা তৈরি করতে সক্ষম।

জিয়াউর রহমানের মতে, বুটেক্সে স্নাতক পর্যায়ে এ ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক গবেষণার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং গবেষণার দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

মো. রাকিব হাসান গাজী

বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাকিব হাসান গাজী চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আওতায় চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।

স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রাকিব বলেন, "টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমার।" আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রাকিব চীনে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কিছু বিষয় গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, "ভালো সিজিপিএ বজায় রাখার পাশাপাশি গবেষণাপত্র, সম্মেলনে প্রকাশনা ও প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে।" এছাড়া পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অধ্যাপকদের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত রাখা জরুরি।

ভাষাগত দক্ষতার বিষয়ে রাকিব বলেন, "ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো পরীক্ষার স্কোর সুবিধা দিতে পারে।" প্রাথমিক চীনা ভাষা শেখা দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগে সহায়ক হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চীনে যাওয়ার পর প্রথম দিকে ভাষার পার্থক্য, খাবার ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন রাকিব। তিনি জানান, "অনুবাদের অ্যাপ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চীনা বাক্য অনুশীলন, উপযোগী খাবারের জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।"

মেহেদী হাসান ইমন

বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন চীনের ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের (সিএসসি) আওতায় এই সুযোগ অর্জন করেন।

স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, "টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতার পর উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ইচ্ছা ছিল।" স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি তাঁকে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ করেছে। তাঁর মতে, এই সুযোগ একাডেমিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।

নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, "প্রথমে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের শর্ত সম্পর্কে খোঁজ নেই।" এরপর একাডেমিক কাগজপত্র, সিভি, স্টাডি প্ল্যান ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আইইএলটিএসসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেন এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইমন বলেন, "স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য, স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা, ভালো একাডেমিক ফলাফল বজায় রাখা এবং গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা জরুরি।" পাশাপাশি নিজের সিভি শক্তিশালী করা, সুস্পষ্ট স্টাডি প্ল্যান তৈরি এবং সুপারিশপত্রের জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

স্কলারশিপের শর্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নিজে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

হাসান মাজহারুল হক

বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান মাজহারুল হক বর্তমানে চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি পেয়েছেন। এই বৃত্তির আওতায় তাঁর টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা এবং মাসিক ভাতার সুবিধা রয়েছে।

স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাসান বলেন, "বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন আমার অনেক দিনের।" তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি তাঁর কাছে আনন্দ, আবেগ ও কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত হয়ে আসে।

বুটেক্সে পড়ার সময় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। ফাইবার কম্পোজিট, টেকসই উপকরণ, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেক্সটাইলের স্থায়িত্ব নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণার আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করেছে। হাসানের মতে, গবেষণার এই অভিজ্ঞতা এবং নিজের আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা তাঁর আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে কোনো একটি বিষয়কে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি মনে করেন।

বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসান পরামর্শ দেন, "একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।" শুধু সার্টিফিকেট বা প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শেখার মানসিকতা, গবেষণার মৌলিক দক্ষতা এবং নিজের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।

হাসানের মতে, বিদেশে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সবার প্রোফাইল একই রকম হওয়া প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন

বুটেক্সের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন বর্তমানে চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে এই সুযোগ পেয়েছেন।

স্কলারশিপ অর্জনকে নিজের ও পরিবারের জন্য আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন শাওন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শাওনের কাছে এই অর্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

গবেষণা নিয়ে শাওন জানান, "বুটেক্স ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে।" গবেষণার সুযোগ এবং উন্নত ল্যাবে হাতে-কলমে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চীনে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শাওন জানান, "উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোজেলের মতো উন্নত উপাদান নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পেয়েছি।"

বুটেক্সের যেসব শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যায়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা প্রকাশনার সুযোগ হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে পিএইচডি করার আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য সিএসসি স্কলারশিপকে সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শাওন। তাঁর মতে, এই ধরনের বৃত্তি আন্তর্জাতিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সুযোগ করে দিতে পারে শিক্ষার্থীদের।

শাওন জানান, চীনে আসার জন্য ভাষা পরীক্ষা বা চীনা ভাষা জানা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে নতুন ভাষা শেখা চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও, অন্য দেশের সংস্কৃতি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও গবেষণার পরিবেশ ভালোভাবে বুঝতে সে দেশের ভাষা শেখা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শাওন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের কথাই দিয়াকে শক্তি দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


‘তুমি অবশ্যই পারবে’, বাবা-মায়ের কথাই দিয়াকে শক্তি দিয়েছে

বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দিয়া চৌধুরীকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের ধারণা ছিল, বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে দিয়া হয়ত পাশ করতে পারবেন না। এই ধরনের কথা শুনে তার মন খারাপ হয়েছিল। তবে দমে যাননি দিয়া। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

পড়াশোনার চাপের মধ্যে কখনো কখনো ভেঙেও পড়তেন দিয়া। তখন পাশে পেয়েছেন চায়ের দোকানি বাবা-মাকে। তাদের আশ্বাস ছিল, ‘তুমি অবশ্যই পারবে।’ বাবা-মায়ের এই কথাই কঠিন সময়ে তাকে সাহস জুগিয়েছে।

সেই সাহস সঙ্গে নিয়েই কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে খুশি পরিবার। মেয়ের অর্জনে গর্বিত বাবা-মায়ের স্বপ্ন, একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবেন দিয়া।

দিয়ার মতো চায়ের দোকানি বাবা-মায়ের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে গত ২৭ অক্টোবর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘নাম্বার ওয়ান’।

‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৩৫ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তাদেরও সম্মানিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদ, বৃত্তির নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নাম্বার ওয়ানের সহায়তায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের দুই বছরের জন্য দেওয়া হয় টেন মিনিট স্কুলের বিভিন্ন একাডেমিক কোর্স করার সুযোগ।

চায়ের দোকানের সীমিত আয় আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করে তোলার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাবা-মা। তাদের সন্তানদের সেই স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিতে গত তিন বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে নাম্বার ওয়ান।

দিয়ার বাবা লিটন চৌধুরী ‘পুষ্প স্টোর ২’ নামে একটি চায়ের দোকান চালান। দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন তিনি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

দিয়ার কাছে এসএসসির এই ফল শুধু পরীক্ষায় ভালো করার সাফল্য নয়। এর পেছনে রয়েছে নিজের চেষ্টা, পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সাহস জোগানো।

দিয়া বলেন, ‘বাবা-মায়ের সমর্থন না থাকলে আমি কখনোই এই ফল করতে পারতাম না। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যখন যা প্রয়োজন হয়েছে, তারা আমাকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পড়াশোনা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লে তারা আমাকে সাহস দিয়েছেন।’

দিয়ার ভাষ্য, কক্সবাজারে বিজ্ঞানের ভালো শিক্ষকের সংকট রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দরকার। শিক্ষকের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই বাড়তি চেষ্টা করতে হয়। দিয়ার পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা ছিল।

দিয়া বলেন, ‘আমি যখন বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সিদ্ধান্ত নিই, তখন অনেকে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। বলেছেন, আমি পাস করতে পারব না। তাদের কথা শুনে খারাপ লাগত। তবে বাবা-মা সব সময় বলতেন, আমি পারব।’

এসএসসির পর দিয়া এখন কক্সবাজারের একটি কলেজে পড়ছেন। ভবিষ্যতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করার পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে চান।

নাম্বার ওয়ানের উদ্যোগে পাওয়া টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো এই প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে বলে আশা দিয়ার। তিনি বলেন, ‘নাম্বার ওয়ানের মাধ্যমে টেন মিনিট স্কুলের যে কোর্সগুলো করার সুযোগ পাচ্ছি, সেগুলো আমার লক্ষ্য পূরণে কাজে লাগবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে এইচএসসিতে ভালো ফল করার প্রস্তুতি নিতে পারব বলে আশা করছি। ভালো ফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাব এবং চিকিৎসক হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের সম্মাননা পাওয়াও দিয়ার কাছে বিশেষ আনন্দের। দিয়া বলেন, ‘নাম্বার ওয়ানের এই আয়োজন আমাদের অনেক উৎসাহ দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছি, যখন দেখেছি আমার বাবা-মাকে সম্মানিত করা হচ্ছে। আমার সাফল্যের কারণে তারা সম্মান পেয়েছেন, এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি চাই, ভবিষ্যতেও ভালো ফল করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।’

মেয়ের সাফল্যে গর্বিত লিটন চৌধুরীও। চায়ের দোকান চালিয়ে মেয়েকে পড়াশোনা করানোর পেছনে তার আশা ছিল, দিয়া একদিন নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাবে। এখন মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়তে এবং চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান তিনি।

লিটন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও সে ভালো ফল করবে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে এবং একদিন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে আমাদের আরও গর্বিত করবে। মেয়েকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমরা সব সময় পাশে থাকতে চাই।’

দিয়ার পড়াশোনার পথে সহায়তার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় নাম্বার ওয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান লিটন চৌধুরী। তার মতে, উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতিতে টেন মিনিট স্কুলের কোর্সগুলো মেয়ের কাজে আসবে। এই সহযোগিতা দিয়াকে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে আশা তার।

এই আয়োজন সম্পর্কে এমজিআই এর চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. রহমতুল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বাবা-মায়ের সন্তানদের এই সাফল্য তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের ফল। নাম্বার ওয়ানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের বাবা-মায়ের অবদানকে সম্মান জানাতে চাই। শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পড়াশোনার পথে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা তাদের পাশে থাকতে চাই। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত রেখে আরও শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করা এবং তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী ঘূর্নিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম, বহু এলাকা প্লাবিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


শক্তিশালী ঘূর্নিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম, বহু এলাকা প্লাবিত

ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্নিঝড় ‘মুরাসু’ (Cyclone Murasu) আঘাত হেনেছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। পাশাপাশি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানায়, ঘূর্নিঝড়টি উপকূলে পৌঁছানোর সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার ছিল, যা কখনো কখনো ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা, কৃষ্ণ ও প্রকাশম জেলাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মারাত্মক প্রভাব অন্ধ্র প্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশা ও তামিলনাডু রাজ্যেও পড়েছে।

রাজ্য সরকারগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। অন্ধ্র প্রদেশ এবং ওড়িশার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে এনডিআরএফ (NDRF) ও রাজ্য উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ফ্লাইট ও ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে এবং উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এক সপ্তাহ আগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্র্নাব’-এর প্রভাব কাটতে না কাটতেই, এই নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%