ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিংড়ি মহাল কমিটির পুনর্গঠন


রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিংড়ি মহাল কমিটির পুনর্গঠন

সরকার চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। সরকারি রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো লিজ নেওয়া জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, স্মরণে নানা আয়োজন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিংড়ি চাষের উপযোগী এবং ইতিমধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে—এমন খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়ার পাশাপাশি চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের তাগিদ দেন। তিনি উপকূলীয় বনাঞ্চল নির্ধারণ ও সীমানা চিহ্নিত করে পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি ১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "উপকূলীয় পরিবেশ ও বনাঞ্চল রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"

সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "চিংড়ি খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।" তিনি জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়, বরং এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বৈঠক শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দেশের চিংড়ি মহালগুলো থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ভূমি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য হচ্ছে, "হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া।" তিনি জানান, চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় যেসব সিদ্ধান্ত

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেসব জমিতে বনাঞ্চল নেই, সেসব জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। এছাড়া বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বেলা) করা হাইকোর্টের রিট মামলা নম্বর ৭৪৮৩/২০১২-এর কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং

এ ছাড়া ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং চিংড়ি মহালের আগের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়ম কমবে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। চিংড়িচাষিদের বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় মাহবুব আলী খানের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


বগুড়ায় মাহবুব আলী খানের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল

বগুড়া, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বগুড়ায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বাদ আছর, মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে নগরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে এই কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিএনপি নেতা ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, শহিদ উন নবী সালাম এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান।

মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকেও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল, সাইদুজ্জামান শাকিল, আল আমিন সরকার, সৈয়দ আব্দুল গফুর দারা এবং উজ্জ্বল হোসেন।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষ্ণসাগর এখন বিশ্বের সর্বাধিক বিপজ্জনক নৌপথ, রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও নাবিকের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


কৃষ্ণসাগর এখন বিশ্বের সর্বাধিক বিপজ্জনক নৌপথ, রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও নাবিকের প্রাণহানি

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান যুদ্ধে বেশ কিছু নৌপথ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা হরমুজের বিকল্প হয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন হামলা কৃষ্ণসাগরকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক নৌপথে পরিণত করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত এক ডজন বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য অবরুদ্ধ করা, কারণ এই বন্দরগুলো দিয়ে দেশটির উৎপাদিত প্রায় সব শস্য রপ্তানি হয়। বেশ কিছু হামলা ন্যাটোর দুই সদস্য রাষ্ট্র রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার খুব কাছাকাছি বা ভেতরে সংঘটিত হয়েছে। কৃষ্ণসাগর এবং এর পার্শ্ববর্তী আজভ সাগরে রাশিয়ার বন্দরগুলো ব্যবহার করা জাহাজগুলোর ওপর ইউক্রেনের কয়েক মাসব্যাপী হামলার পর রাশিয়া এই পালটা অভিযান শুরু করেছে।

নৌযান চলাচল এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, রাশিয়া একাধিক ঘটনায় সামুদ্রিক ও আকাশপথের ড্রোনকে একসঙ্গে যুক্ত করে যৌথ হামলা চালিয়েছে। তারা সম্প্রতি উদ্ভাবিত জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে, যা অধিক গতিসম্পন্ন এবং এগুলোকে রুখে দেওয়া বেশ কঠিন। এছাড়া তারা চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন ড্রোনও ব্যবহার করছে। নৌপথ ট্র্যাকিং পরিষেবা এবং রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে অন্তত ৩০ জন নাবিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

গত সপ্তাহে একটি কনটেইনার জাহাজ রোমানিয়ার একটি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় তিনটি ড্রোন সেটিতে আঘাত হানে। একটি ফরাসি নজরদারি বিমান ‘কনটশিপ জেট’ নামের ওই জাহাজটির দিকে একটি সামুদ্রিক ড্রোন ধেয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধারণ করে এবং পরবর্তী ভিডিওতে জাহাজটিকে ডুবে যাওয়ার আগে একপাশে মারাত্মকভাবে হেলে পড়তে দেখা যায়। আঘাতের সময় জাহাজটি বুলগেরিয়ার উপকূল থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা বলেছেন যে, হামলার এই ঊর্ধ্বগতি কৃষ্ণসাগরকে বেসামরিক নৌযান চলাচলের জন্য একটি বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত করছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউক্রেন সেপ্টেম্বরে ১.০৯ মিলিয়ন টন গম রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের ২.০৫ মিলিয়ন টনের তুলনায় অর্ধেক। ইউক্রেনীয়রা তাদের রপ্তানি কার্যক্রম রোমানিয়ার সীমান্ত ঘেঁষা দানিউব নদীর ছোট ছোট বন্দরগুলোতে স্থানান্তরের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু রাশিয়ার ড্রোন সেখানেও তাদের পিছু নিয়েছে।

হামলার এই তীব্রতা শুরু হয় অক্টোবরের শুরুর দিকে, যখন মিসর থেকে রোমানিয়ার সুলিনা বন্দরের দিকে যাওয়া তুর্কি মালিকানাধীন ‘আলফা ওয়াতান’ জাহাজটি আকাশ ও নৌ ড্রোনের হামলার শিকার হয়। এতে সিরিয়ার ৯ জন এবং মিশরের ১ জন ক্রু সদস্য নিহত হন এবং জাহাজটি ডুবে যায়। এর ঠিক ছয় দিন পর, বুলগেরিয়ার উপকূলে রাতে ‘এইচএস ডিগনিটি’ জাহাজটি আক্রান্ত হলে সেটির ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সিরিয়ার নাগরিক। সিরিয়ার নাবিকদের একজন অধিকারকর্মী মোহাম্মদ হাজ্জৌজ সিএনএন-কে বলেন যে, ডিগনিটি জাহাজে প্রথম আঘাতের পর ক্রু সদস্যরা একটি চালকবিহীন সামুদ্রিক যান এগিয়ে আসতে দেখেন, যা পরবর্তীতে জাহাজটিতে আছড়ে পড়ে। লাইফবোটগুলো পুরোপুরি চালু করতে না পেরে ক্রু সদস্যরা পানিতে ঝাঁপ দেন। হাজ্জৌজ বলেন, ‘তারা একে অপরকে ডাকতে শুরু করেছিল এবং একসাথে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং পানি অত্যন্ত ঠান্ডা হওয়ায় ক্রু সদস্যরা একে অপরের থেকে দূরে ভেসে যান।’

হাজ্জৌজ বলেন, ’অর্থনৈতিক অনটন নাবিকদের বিপজ্জনক অঞ্চলে কাজ করতে বাধ্য করে। কখনো কখনো অতিরিক্ত বেতনের লোভ দেখিয়ে তাঁদের প্রলুব্ধ করা হয়। আবার অন্যদের কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে এসব এলাকায় কাজ করতে বাধ্য হতে হয়।’

রোমানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ানা-সিলভিয়া তোইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আরও চারটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার মধ্যে রোমানিয়ার আঞ্চলিক জলসীমা এবং এর একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে ৮ জন প্রাণ হারান।

কৃষ্ণসাগর থেকে দানিউব নদীতে প্রবেশের পথ সুলিনা খালের কাছাকাছি দুটি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার— 'ওয়াইন ট্রেডার' এবং 'ইয়ারা জে'; আঘাতের শিকার হওয়ার পর সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। 'ওয়াইন ট্রেডার' জাহাজের অপারেটরের মতে, জাহাজটিতে তিনটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল, যার ফলে বেনিনের ৬ জন এবং রাশিয়ার ১ জন নাগরিক নিহত হন।

শিপিং ইন্টেলিজেন্স ফার্ম অ্যামব্রের সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, ’রুশ বাহিনী এখন ন্যাটোর দুই সদস্য রাষ্ট্রের ভেতরে ইউক্রেনীয় বাণিজ্যের সাথে যুক্ত জাহাজগুলোতে আঘাত হানছে।’ অ্যামব্রে আরও যোগ করেছে, ‘রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার জলসীমাকে এখন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।’ তারা জানায় যে, বেশ কয়েকটি জাহাজকে খুব সম্ভবত ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানির সাথে সম্পৃক্ততার কারণেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

মস্কো অবশ্য সব হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে বেশ কয়েকটি ঘটনায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে লক্ষ্যবস্তু করা জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ’সামরিক এবং দ্বৈত-ব্যবহারের মালামাল’ বহন করছিল।

তবে রাশিয়ার এই হামলা নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল খণ্ডিত। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ’রাশিয়ার হামলা জোটের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ায় এই জোট ইতোমধ্যেই আমাদের পূর্ব প্রান্তে নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে।’ রাশিয়ার সাথে তুলনামূলকভাবে ভালো সম্পর্ক থাকা বুলগেরিয়ার সরকার মস্কোকে দোষারোপ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে এখন এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়া উভয়ই তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দিমিতার স্টয়ানোভের মতে, বুলগেরিয়া তার প্রতিরক্ষা বাড়াতে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য ন্যাটোর কাছে অনুরোধ করেছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে বুলগেরিয়া ন্যাটোর একটি ড্রোন-বিরোধী উদ্যোগে যোগ দেবে।

রোমানীয়রা উপকূলজুড়ে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের টহল মোতায়েন করা শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিমান অক্টোবরের শেষের দিকে রোমানিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার ওপর রাশিয়ার সর্বশেষ প্রজন্মের দুটি ড্রোন গুলি করে নামায়। রোমানিয়া এও বলেছে যে তারা কৃষ্ণসাগরে মাইন এবং ড্রোন মোকাবিলা করার জন্য নজরদারি সক্ষমতা এবং যন্ত্রপাতির বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো জাহাজ কোম্পানিগুলোকে আশ্বস্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা তীব্রভাবে কমে গেছে, অন্যদিকে বীমার হার আকাশচুম্বী হয়েছে।

লন্ডনের বীমা বাজারের ঝুঁকি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ওয়ার কমিটি গত মাসে ’উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত অঞ্চলের পরিধি বাড়িয়ে সমগ্র কৃষ্ণসাগর অঞ্চলকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এতে তুরস্ক, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং জর্জিয়ার আঞ্চলিক জলসীমাকে বাদ রাখা হয়েছে।

উচ্চ বীমা প্রিমিয়াম ইউক্রেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি রপ্তানির জন্য একটি খারাপ খবর, যার ৯০ ভাগ এই নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইউক্রেন বিশ্বব্যাপী ভুট্টা রপ্তানির প্রায় ১৫ ভাগ এবং গমের ১০ ভাগ সরবরাহ করে এবং দেশটি সূর্যমুখী তেলের বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল কৃষ্ণসাগরকে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষের জীবনরেখাকে নিজেদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা নওশাদ আলম গ্রেপ্তার, উদ্ধার এলজি ও দেশীয় অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ পি.এম


মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা নওশাদ আলম গ্রেপ্তার, উদ্ধার এলজি ও দেশীয় অস্ত্র

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নওশাদ আলম (২৮) নামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে মিরসরাই থানায় হস্তান্তর করে। নওশাদ আলম শাহেরখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ডিবি পুলিশ নওশাদ আলমকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দফাদারকে গ্রাম পুলিশ প্রধান, মহল্লাদার হবে গ্রাম পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ পি.এম


দফাদারকে গ্রাম পুলিশ প্রধান, মহল্লাদার হবে গ্রাম পুলিশ

সরকার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ‘দফাদার’ পরিচিত হবে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ নামে, এবং ‘মহল্লাদার’ পরিচয় পাবে ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ও ৪৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, মূল বিধিমালার সর্বত্র ব্যবহৃত ‘দফাদার’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%