০৯:২১ পি.এম
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরত মানুষের চাপের কারণে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক থেকে বগুড়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকানো অবস্থায় থাকায় উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা যাওয়ার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয় হলো, যমুনা সেতুর টাঙ্গাইল প্রান্তে দুই লেনের পরিবর্তে এক লেন দিয়ে যান চলাচল করানোর ফলে এবং যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক থেকে বগুড়ার রহবল এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে।
এদিকে, জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে উত্তরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ একসঙ্গে রাজধানীর দিকে ফিরতে থাকায় শুক্রবার থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি, সেতুর ওপর ঘটনাক্রমে গাড়ি বিকল হওয়া, দুর্ঘটনা এবং অনিয়ন্ত্রিত থামার ঘটনাও যানজটকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪, পুলিশের জিম্মায় গাড়ি
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল মোহায়মিনুল মাহির জানালেন, তিনি শুক্রবার বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের ঠনথমিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এবং শনিবার বেলা ১১টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান। যেটি স্বাভাবিকভাবে চার ঘণ্টায় অতিক্রম হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তার সময় লেগেছে প্রায় ১৮ ঘণ্টা। অনেক যাত্রীকে বেশি সময়ের ভোগান্তি সহ্য করতেও হয়েছে বলে তিনি জানান।
এক যাত্রী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, যমুনা সেতুর টাঙ্গাইল প্রান্তে দুই লেনের একটি বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে সব যানবাহনকে একটি লেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
বাসচালক এবং যাত্রীরা জানান, স্থানীয় ছোট যানবাহন, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক এবং ব্যক্তিগত গাড়ি একসঙ্গে ঢাকামুখী হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে যাত্রীরা বিশেষ দুর্ভোগে পড়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, নারী এবং বয়স্করা অধিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, যমুনা সেতুর ওপর অনেক যানবাহন অপ্রয়োজনে থেমে গিয়ে যাত্রীদের ছবি তোলা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে সময় নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া কিছু পরিবহন শ্রমিক নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন: পাঁচ শিক্ষকেই ৫ শত ৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়
হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবু তোরাব মো. শামসুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর উত্তরাঞ্চল থেকে রাজধানী মুখী যাত্রীর চাপ বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে কিছু সময়ের জন্য যানজট তৈরি হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন