মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
০৯:২৬ পি.এম
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম চিম্বুলুই সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বিজিবি সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন (৫৪ বিজিবি)-এর হাবিলদার মো. এলাহান মিয়া (৪৯) কান্তালং বিওপি থেকে লিংক টহলে অংশ নিয়ে চিম্বুলুই বিওপির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তাঁর বাম হাত ও বাম পায়ে তীব্র ব্যথা ও অবশভাব দেখা দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর মধ্যে ‘লেফট-সাইডেড হেমিপেরেসিস’-এর উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর বিজিবির অপারেশন ও চিকিৎসা শাখার সমন্বয়ে একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। হেলিকপ্টারটি দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে চিম্বুলুই বিওপি থেকে উড্ডয়ন করে নিরাপদে চট্টগ্রাম সিএমএইচে অবতরণ করে। বর্তমানে তিনি সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের জীবন ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কোনো সদস্য অসুস্থ বা আহত হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
বাহিনীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সদস্যদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ কারণে দুর্গম পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চল থেকেও জরুরি পরিস্থিতিতে আধুনিক চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অসুস্থ সদস্যকে দ্রুত চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা, মতামত ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির যুগ্ম সমন্বয়ক মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন এবং অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এ উদ্বেগ জানান।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন অতিক্রম করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দেশবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
মন্ত্রীর পদত্যাগকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করা জরুরি। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
সরকারের প্রতি অবিলম্বে সময়সীমাবদ্ধ চুক্তি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান বিবৃতিদাতারা। পাশাপাশি চুক্তির অন্যতম পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ শুরুর দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিধানসভায় হারের পর নানা সংকটে টানা তিনবার রাজ্য শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এখন অভ্যন্তরে বিদ্রোহ ও ভাঙনের মুখে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছেন।
নজিরবিহীন এই সংকট মোকাবিলা করতে প্রবীণ ও অনুগত নেতাদের ভূমিকা বাড়িয়ে দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন তিনি।
এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কথা রয়েছে। যদিও পদ থাকলেও এককভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করা ঠেকানো হয়েছে এই টিএমসি নেতার জন্য। তিনি আর এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, এমনকি অভিষেকের ক্ষমতা সীমিত করার জন্য রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় তিনজন অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
লাকসাম হাইওয়ে ক্রসিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ওসমান গনী ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে চলছিল। এ সময় দ্রুত গতির শাহ আলী নামক একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়, ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন যাত্রী নিহত হয়। দুর্ঘটনার ফলে অটোরিকশাটি ভেঙে যায় এবং একটি যাত্রী গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
লাকসাম হাইওয়ে ক্রসিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ওসমান গনী বলেন, নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিহত তিনজনই দিনমজুর এবং তাদের বাড়ি রংপুর অঞ্চলে হতে পারে। তারা কাজের উদ্দেশ্যে এ এলাকায় এসেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। এই জালগুলো পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার সারদানগর ও হুলহুলিয়া বিলে যৌথভাবে এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানে মোট ৫৫টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল রিফাত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জব্দ করা জালগুলো ধ্বংস করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেনও।
এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘চলনবিলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যক্তি মা মাছ ও পোনা মাছ নিধনে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে।
এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।’
তিনি আরো জানান, বিলের মাছ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ