ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কোন চুক্তি নয়, যুদ্ধেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ?


কোন চুক্তি নয়, যুদ্ধেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ?

চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছায় ও পাকিস্তানের প্রচেষ্টায়   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ভার্সাই চুক্তির সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের ক্রমাগত হামলা-ই প্রমাণ করে, কোন চুক্তি নয় বরং যুদ্ধের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতি? 

 
২০২৬ সালের ২৮ মার্চ ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ৪ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে এমন এক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কাগজে লেখা শান্তিচুক্তির চেয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক প্রতিরোধই যেন বাস্তবতার ভাষা হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের শুরুতে অনেকের ধারণা ছিল, বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার এর শক্তি, উন্নত প্রযুক্তি, বিমানশক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার জোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুব দ্রুত ইরানকে কৌশলগতভাবে কোণঠাসা করবে, তাদের ইসলামী বিপ্লবী সরকারের পতন ঘটাবে, ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু সংঘাত যত দীর্ঘ হয়েছে, ততই সেই ধারণা স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রমাণ হয়েছে যে এই যুদ্ধ কোনো একতরফা সামরিক অভিযানের নাম নয়; এটি পরিণত হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ, পাল্টা আঘাত এবং সক্ষমতার পরীক্ষায়।

ইরান শুরু থেকেই বারবার ঘোষণা করেছে যে তারা সরাসরি সামরিক চাপের মুখেও আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেবে না, এবং তারা এমন জাতি যে কারো কাছে কোন কালে নতি স্বীকার করবে না। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক মিত্রদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে তারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও ইরানের সামরিক অবকাঠামো, কমান্ড কাঠামো এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের সাফল্যের দাবি করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করতে সর্বোচ্চ বিধি নিষেধ আরোপ করে রেখেছে। তারপরেও যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্য উঠে এসেছে তা পরাশক্তি আমেরিকা এবং ইসরাইলের জন্য লজ্জাজনক। এ কারণে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র আজও নানা তথ্য, পাল্টা তথ্য ও বিশ্লেষণের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে।

তবে এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। এবং এই খুঁটি এতটাই যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আর একটিও অক্ষত নেই। একই সঙ্গে এটিও সত্য যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানও সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি বিষয়টা তেমন নয়। তবে তুলনামূলকভাবে বিশ্ব পরাশক্তি ও ইসরাইল এর যৌথ শক্তি মিলে নিষেধাজ্ঞা গ্রস্ত একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে একপ্রকার পরাজয় ইরানকে এই যুদ্ধে জয়ী করেছে বলে ধরে নেয়া হয়। অর্থাৎ এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই মূল্য না দিয়ে এগোতে না পারলেও পশ্চিমা বিশ্ব প্রথমবারের মতো ইরানের কাছে নাকানি চুবানি খেয়েছে।

এরপর আসে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার আলোচনা। অনেকেই ভেবেছিলেন, এটাই হয়তো সংঘাত কমার সূচনা। কিন্তু হরমুজ প্রণালী, লেবানন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও সেই আশাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যদি যুদ্ধবিরতির অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অভিযান ফিরে আসে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই ধরনের চুক্তি কি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি, নাকি সাময়িক বিরতি মাত্র?

এখানেই ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত শিক্ষা লুকিয়ে আছে। যদি কোনো সমঝোতার পরও সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ফিরে আসে, তবে শুধু কাগুজে আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা ইরানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইরানের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমা বিশ্ব কিংবা মার্কিন বিশ্বস্ত মিত্র ইহুদীবাদী ইজরাইলের মনোভাব কি তা ইরানের নতুন করে জানার প্রয়োজন নেই। ইরানের জন্য এই ধারণা পরীক্ষিত । মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বহুবার দেখিয়েছে, কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধক্ষমতাই আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের নিজেদের সার্বভৌমত্বের মধ্যেকার অংশ হিসেবে তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে এ কথা বলে আসছে। এসব সত্য মেনেই হোক বা না মেনেই হোক যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির টেবিলে বসেছিল। তার অর্থ দাঁড়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করবে এটাই আমেরিকা মেনে নিয়েছে। তবে এখন কেন তা মানতে নারাজ এবং পরীক্ষামূলক ভাবে ওমান সাগরের পাশ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা? যার ফলশ্রুতিতে জাহাজে হামলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ উন্মুক্ত করার বা ওমানের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পাল্টা হামলার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে, নাকি নতুন করে বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেবে—তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু যদি উভয় পক্ষ আবারও ধারাবাহিক সামরিক সংঘর্ষের পথেই এগোয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক ঘোষণার চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতাই বেশি প্রভাবিত করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—যখন বিশ্বাসের সংকট গভীর হয়, তখন শান্তিচুক্তি টেকসই হতে হলে শুধু স্বাক্ষর নয়, পারস্পরিক আস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতাও প্রয়োজন। অন্যথায়, প্রতিটি যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সংঘাতের আগে একটি সাময়িক বিরতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বহন করে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রশ্নই আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কি আলোচনার টেবিলে নির্ধারিত হবে, নাকি আবারও যুদ্ধক্ষেত্রেই তার উত্তর খোঁজা হবে? প্রশ্নটা হয়তো কঠিন, তবে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের যে অবিশ্বাসের সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিন থেকে পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক ইরান ধ্বংসের চক্রান্ত এই নতুন কাগজে স্বাক্ষর করা সম্পর্ক তাকে আস্থায় পরিণত করতে পারবে না। তা সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলাই প্রমাণ করেছে। সুতরাং শান্তি চুক্তির প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম হতে না হতেই হামলা ও পাল্টা হামলা-ই প্রমাণ করে ইরানের পক্ষে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে হয়তো চুক্তি নয়, যুদ্ধের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে-এবং ইরান হয়তো তা করেও দেখাবে - এমন কথা আজকের দিনে বলা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ আটক তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ আটক তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

 

 
পিরোজপুরের কাউখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কাউখালী থানা পুলিশ। অভিযানে উত্তর বাজারের লেপ-তোষকের দোকানের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ হাওলাদার ছেলে ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল রাজ্জাক (৪২)কে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে কাউখালী থানার এসআই মাসুদ আল মামুন, এসআই মোঃ জিয়াউল হকসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি। কাউখালী উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। কোনো মাদক কারবারি বা সেবনকারীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
সচেতন এলাকা বাসিন্দারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত হলে যুবসমাজ রক্ষা পাবে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। আমরা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত 
 জানাই। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম একসঙ্গে চললে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিলেন খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিলেন খোকন

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং কালো টাকার উৎস বন্ধকরণে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব প্রদান করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আজ রবিবার, জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মাহবুব উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ নিজেদের বাসায় সংরক্ষণ করছেন। যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন অথবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রেখেছেন। ফলে, প্রচুর টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

তাহলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সে প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, যদি সরকার এই নোটগুলো বাতিল করে এবং দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে সেটি বৈধ করতে পারবেন। এর ফলে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংকগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পাবে, এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

মাহবুব উদ্দিন দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ‘এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।’ এই সংসদ সদস্য ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকরী করার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি টাকা পাচারকেই দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনেকবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো সম্ভব হয়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

মাহবুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব থাকে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের লোকজন বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

এ পাক্ষিক, নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির থাকলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

বক্তব্যে তিনি অব্যাহত রাখেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যে বাজেটটি এসেছে। এজন্যই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাজেয় যাত্রায় মেসিরা, ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড থেকে এখনও কত দূরে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


অপরাজেয় যাত্রায় মেসিরা, ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড থেকে এখনও কত দূরে?

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ ব্যবধানের ধাক্কার পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বমঞ্চে আর হারেনি। জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আর্জেন্টিনা ২৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ১১টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার একটি দুর্দান্ত রেকর্ড ধারণ করেছে। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ, নকআউট পর্বের ৪টি ম্যাচ (যার মধ্যে ডাচদের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জয়ও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ড্র বা অপরাজিত ধরা হয়) এবং চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ মিলিয়ে এই অপরাজেয় দৌড় ধরে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন দল।

তবে, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এটি আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা ধারাবাহিকতা হলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ডটি ভাঙতে মেসিদের এখনো বেশ কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার ইউনিক রেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের দখলে আছে। সেলেসাওরা বিশ্বকাপে টানা ১৩টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল, যা আজ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ১৯৬২ সালের চিলির বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ৩টি আসর জুড়ে এই ব্রাজিলের অপরাজেয় রাজত্ব বিস্তৃত ছিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ, ১৯৬২ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বুলগেরিয়াকে হারিয়ে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হাঙ্গেরির কাছে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভেঙেছিল পেলের ব্রাজিলের সেই অমর রেকর্ড।

সে অনুযায়ী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এই সর্বকালের সেরা নজিরটি স্পর্শ করতে আর্জেন্টিনা থেকে কেবল ২টি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে যদি তারা কেপ ভার্দকে হারায় বা ড্র করে (টাইব্রেকারে ফল যাই হোক) তাহলে আর্জেন্টিনার অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা ১২-এ পৌঁছাবে। এরপর যদি তারা রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচটিতেও অপরাজিত থাকতে পারে, তবেই তারা ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ১৩ ম্যাচের মহাকাব্যিক রেকর্ডটিকে ছুঁয়ে ফেলবে। ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যে উড়ন্ত ফর্ম, তাতে ব্রাজিলের ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন দেখতেই পারেন আকাশী-সাদা সমর্থকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কংগ্রেস সদস্যের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কংগ্রেস সদস্যের

ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা কংগ্রেসে এ সপ্তাহে পাস হওয়া যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, না হলে আমরা তাকে বাধ্য করতে প্রয়োজনে আদালতে যাব।’

গত ৩ জুন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে একই ধরনের আরেকটি বিল পাস করার পর মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাস হয়।

বেন গভিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহার করবেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প কেবল তখনই ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন, যখন ‘যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে অথবা কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অনুমোদনের মাধ্যমে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।

এর আগে, ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%