ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান


বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর সামনে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে তাদের সদর দপ্তরে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম চার ব্যাংকের তিনটি- ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি), অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। এছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানি এতে অংশগ্রহণ করেছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশের বস্ত্র ও পোশাক প্রদর্শনী

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার-বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক মূল উপস্থাপনা পেশ করেছে।

উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এত বিশাল বাণিজ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম শুরু করেনি। যদিও কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে চীনা ব্যাংকগুলো সফলভাবে সেবা প্রদান করছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চট্টগ্রামে অবস্থিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তার জন্য চীনা ব্যাংকগুলোর উপস্থিতি জরুরি।’

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপযোগী অংশীদারত্ব। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে। এতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ দেওয়াও সহজ হবে।

চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, ‘একটি পলিসি ব্যাংক হিসেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বর্তমানে প্রায় ৪০টি প্রকল্প পরিচালনা করছে। আগামীতে বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে, যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে নেটওয়ার্কিং পর্বে অংশগ্রহণকারী চীনা উদ্যোক্তা ও ব্যাংক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, সহজ অর্থায়ন ও সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক পেলেন দেশসেরা শিক্ষিকা ডলি রানী দেব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক পেলেন দেশসেরা শিক্ষিকা ডলি রানী দেব

নবীগঞ্জের দেশসেরা শিক্ষিকা অদম্য নারী ডলি রানী দেব। তিনি দেশের সেরা আটজন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিত। গজনাইপুর ইউনিয়নের গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন। এলাকার মানুষ তার প্রতি গর্ব অনুভব করে। ৬ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কৃত হন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষিকা ডলি রানী দেব এই প্রাপ্তিকে জীবনের সেরা অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। অদম্য নারী হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা জুড়ে প্রশংসার পাত্র হয়েছেন ডলি দেব।

জীবনের অসংখ্য প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে অনবদ্য নজির স্থাপন করেছেন ডলি রানী দেব। তিনি আমার দেশকে জানান, ২০০১ সালে গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০৭ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ভরারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভরারী থেকে ২০১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি নোওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এর পুরস্কার হিসেবে ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়া সফর করেন। ২০১৭ সালের ৩০শে এপ্রিল গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবার প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে বৃটিশ কাউন্সিলের কানেক্টিং ক্লাসরুমে নেপাল, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ ৭টি স্কুলের সঙ্গে কাজ করে ফুল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন তিনি।

২০২০ সালে বৃটিশ কাউন্সিল থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও করোনার কারণে যাওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে অদম্য নারী হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তৃক ভূষিত হন। দেশের সেরা ৮ জন প্রধান শিক্ষিকার একজন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন ডলি দেব। এই ঘটনাকে তিনি দেশ ও জাতির কাছে ঋণী হিসেবে অভিহিত করেন।

এছাড়া শিক্ষক বাতায়নে একাধিকবার সেরা কন্টেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে নির্মাতা ও শিক্ষক বাতায়নে সফলতার গল্পে সেরা নিরর্থক ২০২৪ নির্বাচিত হয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলা অ্যাম্বাসেডর আইসিটি, প্রজেক্টে টিভি বেতারে বাংলা বিষয়ের পাঠদানে সিলেট বিভাগ থেকে নির্বাচিত হন।

৬ বার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক নির্বাচিত হন। মৃত সুধাংশু রঞ্জন দেব এবং মাতা মৃত জ্যোতিকা রানী দেবের প্রথমা কন্যা ডলি রানী দেব। তিনি উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের কুড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

তার ছোট আরও এক বোন ও তিন ভাই রয়েছে। স্বামী রাসেন্দ্র চন্দ্র দাশ পারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রাসেন্দ্র চন্দ্র দাশ শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবার শিবপাশা গ্রামের মৃত রুক্ষিণী মোহন দাশের ছেলে। তাদের একমাত্র সন্তান অভিজিৎ চন্দ্র দাশ সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে সিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা করছে।

ডলি রানী দেব তার এই অনবদ্য সফলতায় সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে শিক্ষা ও মানব কল্যাণে কাজ করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশ প্রাইমারী শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল মিয়া মন্তব্য করেন, ডলি রানী দেবের অর্জন নবীগঞ্জবাসীকে গর্বিত করেছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার বিরোধীদলকে সম্মান দিতে ব্যর্থ: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


সরকার বিরোধীদলকে সম্মান দিতে ব্যর্থ: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধীদলকে সম্মান প্রদানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির এবং সেক্রেটারি জেনারেলকে দাওয়াত কার্ড পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের সূচিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিদের নাম থাকলেও রুলস অব প্রেসিডেন্ট অনুযায়ী পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সরকার তার প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ছোট করার জন্য এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাই তিনি সেখানে যাননি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এটি অন্যায় এবং বিরোধী দলের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন। এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে সমসাময়িক সাতটি বিষয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরার জন্য।

তিনি বলেন, সরকারের অভ্যন্তরে গত সাত আট মাসে কি ঘটেছে, তা আমাদের জানা নেই। তবে তাদের কথাবার্তা ও সিদ্ধান্তে সমন্বয়হীনতা, বৈপরিত্য এবং দ্বিচারিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের এই হীন অপচেষ্টা বর্তমানে হাস্যকরভাবে উপভোগ করছে জাতি। সাত আট মাস না যেতেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, তেল, বিদ্যুৎ, কেরোসিন, অকটেন ও ডিজেলের দাম চার-পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে। এই কয়েক মাসে তিনজন মন্ত্রী ও একজন এমপি বিদায় নিয়েছেন, অথচ সামনে আরো সাড়ে চার বছর রয়েছে। সরকারের মধ্যে এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অস্থিরতা চলছে, ফলে প্রধানমন্ত্রী, তার মন্ত্রীপরিষদের সদস্য এবং অনেক এমপি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। এ কারণে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই অসংলগ্ন কথাবার্তার ব্যাপারে আমাদের দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে হচ্ছে।

জামায়াতকে জুলাইবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের জনগণ, জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারসহ সবাই সাক্ষী- জামায়াত ও বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে। তিনি বলেন, "মানুষ তার দুর্বলতা, ব্যর্থতা, অকৃতজ্ঞতা ঢাকবার জন্য কথা বলে, তারও একটা মাত্রা থাকে। কিন্তু বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে না- এত হাস্যস্কর অসত্য তথ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উপস্থাপন করেছেন, আমরা এটার নিন্দা জানাই।"

তিনি আরো বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জুলাইকে ধারণ করে, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে না, কারণ তারা গণভোটকে অস্বীকার করেছে এবং বাতিল করেছে। জামায়াত জুলাইকে ধারণ করে, কিন্তু সরকার জুলাই সনদকে ধারণ করছে না।

তিনি বলেন, "যদি সরকার জুলাই সনদকে ধারণ করতেন, তাহলে জুলাই সনদে যে সমস্ত ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি- দলীয়করণ, দুর্নীতি, ভিন্ন মতের বিরুদ্ধে দমননীতি- এগুলো থেকে পরিহার করা উচিত। বিএনপি সেদিকেই হাঁটছে, অর্থাৎ তারা জুলাই সনদকে ধারণ করছে না।"

তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার সব সাংবিধানিক, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছে। সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্র কাঠামো নির্মাণের জন্য সংবিধানকে ফ্যাসিবাদী ফ্রেমে রাখছে। তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের নামে এগিয়ে যাচ্ছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, "এরকম সংশোধিত গঠনতন্ত্রে যে রাষ্ট্র আসবে, যে প্রধানমন্ত্রী হবে, সে আরেকটা হাসিনাতে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে। আমরা সেই পথকে থামাতে চেয়েছি।"

সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার নিন্দা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার তিনটি জিনিসকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে। রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দলের মধ্যে যে পার্থক্য আছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের সমস্ত গণবিরোধী কাজের বিরোধিতা করা। "এটা জুলাই শহীদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে, বলবেন? আপনি তো সরকার ও সরকারি দলকে এক করে ফেলেছেন। এজন্য নিজেদের দলীয়করণ, ব্যর্থতা, দুর্নীতি ঢাকার জন্য জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দায় বিরোধী দলের ওপরে চাপাবার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

তিনি বলেন, "আমরা কখনো এই ফ্যাসিস্টকে আসার সুযোগ করে দিচ্ছি না। বরং আপনারা এত বড় বিরোধী দলের সমস্ত আন্দোলনকে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে যে অরজকতা-অস্থিতিশীলতা তৈরি করছেন, এই পথ দিয়ে বরং আপনারা ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগকে ঢুকার পথ করে দিচ্ছেন।"

বিএনপি মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, তিনি জানতে চেয়েছেন- ফ্যাসিবাদের পথ কোনটা? "আপনি সাত মাসের মধ্যেই ফ্যাসিস্ট ভুলে গেলেন? আপনি ফ্যাসিস্ট চিনতে গেলে জনগণের কাছে ফেরত যান। আপনার দলীয় কর্মীদের কাছে ফেরত যান, আপনার যেসব দলের যারা ধান খেতে পালাইছিল, ওদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন এই ফ্যাসিস্ট কাকে বলে, ওরা বলতে পারবে।"

তিনি বলেন, "চাদাবাজি, ধর্ষণ, খুন ও লুটপাটের পথই হল ফ্যাসিবাদের পথ। সরকারের সব পদে নিজে দলের লোক বসানোই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পথ। জনগণকে ভুল বুঝিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করে বিচারিতার পথ অবলম্বন করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করে গণভোটের রায় উপেক্ষ করাই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পথ। বিরোধী দলের নেতা এসব পথের কথাই বলেছেন।"

তিনি রাজশাহীতে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির এলাকায় ওয়াজ মাহফিল করতে না দেয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এছাড়া ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আলিম-ফাজিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটিকে ভেঙে দেয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রসঙ্গে বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় সরকারি নিজস্ব চিন্তার লোকদের দিয়ে মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিতে চাচ্ছে। তিনি রিজভীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এটা কোন রাস্তা? এই পথে কিন্তু শেখ হাসিনা হাঁটছিল। হাঁটতে হাঁটতে দিল্লির দিকে চলে গেছে পথ ভুলে।"

তিনি বিরোধীদলীয় এমপিদের বরাদ্দ না দেয়ার প্রতিবাদ জানান। ভবিষ্যতে যেন জামায়াত আমিরকে নিয়ে কোন অসত্য তথ্য বক্তব্য দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সৌদিতে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা রয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে কওমি-আলিয়া এসব ওলামায়ে কেরামের মধ্যে বাংলাদেশে কোন বিরোধ নেই। এই বিরোধকে আমরা মানি না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহাগড়ার নলদী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিয়ার রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


লোহাগড়ার নলদী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিয়ার রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মশিয়ার রহমান মোল্যা তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী, গ্রামবাসী ও সমর্থকদের নিয়ে দু’দিন (মঙ্গল ও সোমবার) ধরে নলদী ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান মোল্যা বলেন, আপনারা (হিন্দু সম্প্রদায়) বুক উঁচিয়ে পূজা-পার্বন ও দুর্গোৎসব পালন করবেন। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি আমরা আপনাদের পাশে আছি। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্ম যেন কেউ করতে না পারেন।

প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি। আর শেষ বা পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ওই বছরের ২৭ মে। এই ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিতকায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ১ নম্বর নলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিয়ার রহমান মোল্যা নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি নিয়মিত এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার, পথ-প্রান্তর, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন ও গণসংযোগ করছেন। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে ২৫৭ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার অনুদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


ময়মনসিংহে ২৫৭ পূজামণ্ডপে জেলা পরিষদের ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার অনুদান

ময়মনসিংহ, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে জেলার ২৫৭ টি পূজামণ্ডপে মোট ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকাসহ ২৫৭টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে সরকারি অর্থে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর সাহা উল্লেখ করেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন। দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দ এবং ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সরকারী বিভিন্ন দপ্তর এবারের পূজা আয়োজনে সম্পৃক্ত হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপের জন্য আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সাধারণ বরাদ্দের চাল পাঁচশ’ কেজি থেকে ছয়শ’ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে। জেলা পরিষদ, ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ জেলার ১৪টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৫৭টি পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%