ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ আটক তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড


কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবাসহ আটক তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড

 

 
পিরোজপুরের কাউখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কাউখালী থানা পুলিশ। অভিযানে উত্তর বাজারের লেপ-তোষকের দোকানের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ হাওলাদার ছেলে ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল রাজ্জাক (৪২)কে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে কাউখালী থানার এসআই মাসুদ আল মামুন, এসআই মোঃ জিয়াউল হকসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি। কাউখালী উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। কোনো মাদক কারবারি বা সেবনকারীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
সচেতন এলাকা বাসিন্দারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত হলে যুবসমাজ রক্ষা পাবে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। আমরা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত 
 জানাই। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম একসঙ্গে চললে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিলেন খোকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিলেন খোকন

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং কালো টাকার উৎস বন্ধকরণে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব প্রদান করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আজ রবিবার, জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মাহবুব উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ নিজেদের বাসায় সংরক্ষণ করছেন। যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন অথবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রেখেছেন। ফলে, প্রচুর টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।

তাহলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সে প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, যদি সরকার এই নোটগুলো বাতিল করে এবং দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে সেটি বৈধ করতে পারবেন। এর ফলে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংকগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পাবে, এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

মাহবুব উদ্দিন দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ‘এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।’ এই সংসদ সদস্য ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকরী করার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি টাকা পাচারকেই দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনেকবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো সম্ভব হয়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

মাহবুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব থাকে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের লোকজন বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’

এ পাক্ষিক, নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির থাকলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।

বক্তব্যে তিনি অব্যাহত রাখেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যে বাজেটটি এসেছে। এজন্যই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাজেয় যাত্রায় মেসিরা, ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড থেকে এখনও কত দূরে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


অপরাজেয় যাত্রায় মেসিরা, ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ড থেকে এখনও কত দূরে?

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ ব্যবধানের ধাক্কার পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বমঞ্চে আর হারেনি। জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আর্জেন্টিনা ২৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ১১টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার একটি দুর্দান্ত রেকর্ড ধারণ করেছে। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচ, নকআউট পর্বের ৪টি ম্যাচ (যার মধ্যে ডাচদের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জয়ও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ড্র বা অপরাজিত ধরা হয়) এবং চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ৩টি ম্যাচ মিলিয়ে এই অপরাজেয় দৌড় ধরে রেখেছে লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন দল।

তবে, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এটি আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা ধারাবাহিকতা হলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা রেকর্ডটি ভাঙতে মেসিদের এখনো বেশ কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার ইউনিক রেকর্ডটি এককভাবে ব্রাজিলের দখলে আছে। সেলেসাওরা বিশ্বকাপে টানা ১৩টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল, যা আজ পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ১৯৬২ সালের চিলির বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ৩টি আসর জুড়ে এই ব্রাজিলের অপরাজেয় রাজত্ব বিস্তৃত ছিল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ, ১৯৬২ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচ এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বুলগেরিয়াকে হারিয়ে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হাঙ্গেরির কাছে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভেঙেছিল পেলের ব্রাজিলের সেই অমর রেকর্ড।

সে অনুযায়ী, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এই সর্বকালের সেরা নজিরটি স্পর্শ করতে আর্জেন্টিনা থেকে কেবল ২টি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে। আগামী ৩ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে যদি তারা কেপ ভার্দকে হারায় বা ড্র করে (টাইব্রেকারে ফল যাই হোক) তাহলে আর্জেন্টিনার অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা ১২-এ পৌঁছাবে। এরপর যদি তারা রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচটিতেও অপরাজিত থাকতে পারে, তবেই তারা ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ১৩ ম্যাচের মহাকাব্যিক রেকর্ডটিকে ছুঁয়ে ফেলবে। ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যে উড়ন্ত ফর্ম, তাতে ব্রাজিলের ৬০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন দেখতেই পারেন আকাশী-সাদা সমর্থকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কংগ্রেস সদস্যের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কংগ্রেস সদস্যের

ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান রো খান্না বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা কংগ্রেসে এ সপ্তাহে পাস হওয়া যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, না হলে আমরা তাকে বাধ্য করতে প্রয়োজনে আদালতে যাব।’

গত ৩ জুন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে একই ধরনের আরেকটি বিল পাস করার পর মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাস হয়।

বেন গভিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহার করবেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প কেবল তখনই ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন, যখন ‘যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে অথবা কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অনুমোদনের মাধ্যমে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।

এর আগে, ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে : সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


সুদ বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে : সংসদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ না করতে চাইলে দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে এবং জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। এই জন্য তিনি আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের, জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করার এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। এসময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সুদের বিধান ও কুফল প্রসঙ্গে বলেন, সুদ খাওয়াকে মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল বলা হয়েছে। তাই আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ করতে না চাইলে সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করা অবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক দেশে সুদমুক্ত অর্থনীতি রয়েছে এবং সেখানকার ব্যাংকগুলোও সুদমুক্ত।

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটি প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক ইসলামিক কাউন্টার খুলেছিল, এটি প্রমাণ করে যে সুদমুক্ত ব্যাংক কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, সুদ চলতে থাকলে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যায়। তার মতে, সুদের টাকায় শরীরের যে অংশ গঠিত হবে, সেটি জাহান্নামে পুড়বে। তিনি জানান, যদি সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা যায়, তাহলে ২ লাখ কোটি টাকা বের হতে পারে এবং বাংলাদেশের ঘাটতি বাজেট পূরণ হয়ে যাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা জাকাত বোঝে না এবং চুরি করে তাঁদের হাতে জাকাত দিলে হবে না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এই জন্য আলেমদের নিয়ে একটি কমিটি করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার মাধ্যমে সুদভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কালোটাকা সাদা করা যাবে না। যদি এটি চালু থাকে, তাহলে অন্যায় বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মদ ও বিড়ি যাতে মানুষ না খায়, সেজন্যই দাম বাড়ানো হয়েছে, এর জন্য তিনি সরকারের প্রশংসা করেন। তবে প্রশ্ন তুলে বলেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেন দাম কমাতে বললেন জানি না।

মদিনার ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মদিনার ইসলামে সুদ ছিল না, বরং জাকাত ছিল। তাই সুদ বন্ধ করে জাকাত চালু করতে হবে। তিনি বলেন, ফসলের ওশর এবং অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত, কাফফারার সঙ্গেও অর্থনীতির সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে একটি জাকাত মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা উচিত এবং তা আলেমদের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। কওমি মাদ্রাসার প্রতি বাজেট থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি কথা বলেন।

প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২৩৪ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা এবং ৩৪৬টি ধারায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহ বাজেটের মালিক। তিনি বলেছেন, খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। তবে প্রতিবেদনে অপচয়ের কথা অর্থমন্ত্রী বলেছেন কি না, তিনি জানেন না।

ঋণের কুফল সম্পর্কে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, ঋণ পরিশোধ না করে মরতে হবে। তিনি বলেন, কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা যাবে না। ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ঋণ রেখে কারো মারা যাওয়া উচিত নয়। ঋণ করা মানে এক প্রকার ফকিরের হাত।

তিনি বলেন, ঋণ করে ঘি খাওয়া যাবে না এবং এই ঋণ নিয়ে দেশ চালানো যাবে না। জাতি ও দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মনে করেন।

মসজিদে রাজনীতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মসজিদে নববীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিটি মসজিদ থেকেও একইভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী প্রাইমারির বাচ্চাদের জন্য জুতা-পোশাক দেবেন, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্যও জুতা-জামা দেওয়ার দাবি রাখছেন।

তিনি শিক্ষকদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের কথা বলেন এবং জানান, শিক্ষকদের সম্মানের হতে হবে। যদি শিক্ষকরা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, যেগুলো যোগ্য তাদের এমপিও চালু এবং যেগুলোর ঘাটতি রয়েছে তাদের শর্তসাপেক্ষে চালু করা উচিত। বাকিগুলো যাচাই-বাছাই করে তিন কিস্তিতে এমপিওভুক্ত করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত হবে।

শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, জনগণের হাতে কাজ প্রদান করা উচিত, শুধুমাত্র কার্ড নয়। তা না হলে তাদের ভিক্ষার হাতেই থাকতে হবে। রাসুল (সা.) কাজের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কাজ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মহিলা শ্রমিকদের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাতীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত যে, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সসহ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব এমপির সম্মান রক্ষার্থে গঠনমূলক উন্নয়ন কাজের দিকে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, এই সংসদে আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাঁরা সরাসরি নেতাদের প্রতি স্মরণ করেছেন এবং দোয়া করেননি, তারা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর এসব নির্দেশ মানলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%