ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা


রাজশাহীতে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহীতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে শুরু হয়ে এই পদযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে culminate করেছে তারা।

সমাবেশে বক্তাদের মধ্যে একজন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগে হাঁটছে বিএনপি, এবং সারা দেশে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং সহিংসতার অভিযোগ করা হয়েছে।

এনসিপির মূখ্য সংগঠন (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সমাবেশে মন্তব্য করেন যে, রাজশাহী শহর ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম রণক্ষেত্র। তবে জুলাই আন্দোলনের দুই বছর অতিক্রম হলেও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার সাড়ে চার মাস অতিক্রম করেছে এবং এখানে তারা একশটি ভুল তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি এ সময় উল্লেখ করেন, সাড়ে চার মাসে বিএনপি ৭০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে এবং ব্যাংক খাতে কাদের বসানো হয়েছে, তা সবার জানা। তিনি প্রশ্ন তুলেন, খাল খননের নামে নেতাকর্মীরা যেভাবে লুটপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে?

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার কাছে যেভাবে মাথা নত করতে রাজি হয়নি, আগামীতে পুরোনো কোনো বন্দোবস্তের কাছে আবারও মাথা নত করবেন না। বিএনপি যে নীতিতে চলছে, সেটি নিয়ে তিনি আলাদা কিছু দেখছেন না এবং বলেন, আলাদা শুধুমাত্র এটুকু যে, আগে নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এখন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।

সভার পরে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ বলেন, বিএনপি সরকার বারবার বলছে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তবে তারা মনে করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন মানে আওয়ামী লীগের কায়দায় ফেরত আসা। তিনি জানান, বিএনপির ভাইয়েরা মুখে মুখে জুলাই চেতনাকে ধারণ করছেন কিন্তু তারা জুলাই চেতনা নস্যাৎ করার পাঁয়তারা করছেন। বিএনপি সরকারকে তিনি অনুরোধ করেন যে, আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিলে জুলাই চেতনাকে অস্বীকার করা হবে।

সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের সময়ে যেমন পরিস্থিতি ছিল, বর্তমানে সেখানেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। আগে খাম্বা ছিল কিন্তু কারেন্ট ছিল না, এখনো তাই। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলন লন্ডন কিংবা সিলেট থেকে হয়নি। বরং, বাংলাদেশে জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করেছে।

বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আগেও তত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বিলোপের কারণে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। আবারও যদি জুলাই সনদ মোতাবেক তত্বাবধায়ক সরকার গঠন না করা হয়, তাহলে জনগণ কি করবে সে বিষয়টি জানেন।

আরও পড়ুন: মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার

সমাবেশে সদস্য সচিব আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নারী শক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম-সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানসহ কেন্দ্রীয়, রাজশাহী জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথার কারণ কী হতে পারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ এম


খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথার কারণ কী হতে পারে?

খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা সমস্যাটি অনেকের জন্য পরিচিত একটি সমস্যা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি তলপেটের জ্বালাপোড়া দিয়ে শুরু হয় এবং তা বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আবার কিছু মানুষের পেটে মোচড়, ফাঁপাভাব বা নির্দিষ্ট স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে এমন সমস্যা স্বাভাবিক হলেও, খাবারের পর নিয়মিত ব্যথা অনুভব করলে সেটিকে শুধুমাত্র বদহজম ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

খাবার গ্রহণের পরপরই পরিপাকতন্ত্রের কর্মকাণ্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় পাকস্থলীতে অ্যাসিডের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, পেশিগুলো সংকুচিত হয় এবং পিত্তথলি ও অন্ত্র হজমের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় যদি কোনো অংশে সমস্যা দেখা দেয়, তবে খাবার খাওয়ার পরই ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার ধরন, অবস্থান, কতোক্ষণ পর শুরু হচ্ছে এবং কোন ধরনের খাবারের পর ব্যথা বাড়ছে—এসব তথ্য রোগের কারণ নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন, তলপেটের উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা পাকস্থলীর প্রদাহ (গ্যাস্ট্রাইটিস) বা আলসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, চর্বিযুক্ত খাবারের পর পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা দেখা দিলে, সেটি পিত্তথলির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আবার নাভির চারপাশে খিঁচুনি বা ব্যথা ক্ষুদ্রান্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

যদি খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকের নিচে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা শুরু হয়, তবে এর পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর আলসার দায়ী থাকতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এ পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে বুকজ্বালা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে। একইভাবে, গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের রোগীদের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ানোর ফলে প্রদাহ আরও তীব্র হয়ে যেতে পারে এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

তবে খাবার-পরবর্তী পেটব্যথার উৎস সর্বদা পাকস্থলী হয় না। বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পর যদি পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তাহলে পিত্তপাথরের কারণে পিত্তথলির প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার হজমের সময় পিত্তথলি সংকুচিত হয় এবং পাথর যদি পিত্তরসের পথ আটকে দেয়, তাহলে ব্যথা শুরু হয়।

অন্যদিকে, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকলে স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার সময় অন্ত্রের সংকোচনও ব্যথার কারণ হতে পারে। আবার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের মতো খাদ্য অসহিষ্ণুতায় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দেওয়াও স্বাভাবিক।

তলপেটের ব্যথাও অনেক সময় কোলনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। খাবার অন্ত্রে পৌঁছানোর পর কোলন নতুন খাবারের জন্য জায়গা তৈরি করতে সংকুচিত হয়। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস আটকে গেলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোলাইটিস বা ডাইভার্টিকুলার ডিজিজে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অতিমাত্রায় গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়ে হঠাৎ পেটে ক্র্যাম্প এবং দ্রুত শৌচাগারে যাওয়ার তীব্র তাগিদ তৈরি করতেও পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, যদি খাবারের পর নিয়মিত পেটব্যথা, তীব্র জ্বালাপোড়া, দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি অথবা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ দ্রুত কারণ চিহ্নিত করতে পারলে জটিলতা এড়ানো এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ এম


বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে বর্তমানে বন্দি বিনিময়ের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদি এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়, তবে মালদ্বীপের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিরা মানবিক বিবেচনায় নিজেদের দেশে ফিরে বাকি সাজা ভোগ করার সুবিধা পাবেন।

এই তথ্যটি শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হাইকমিশন জানিয়েছে, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হয়ে কার্যকর হবে। এর ফলে দুই দেশের আইনি এবং মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যা বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও সামাজিক পুনর্বাসনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সে দেশের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করেছে।

এ পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দল কারাগারে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

হাইকমিশন জানায়, বর্তমানে মাফুশি কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত, এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পোশাক, আবাসন এবং সামগ্রিক কারা পরিবেশের খোঁজখবর নেন।

পরে, মালদ্বীপের কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠকে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরে দ্রুত তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি আরও বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিরা তাদের নিজ দেশের মধ্যে সাজা ভোগ করতে পারবেন, যা প্রবাসে আটক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র জ্বর হলে যেভাবে বুঝবেন আপনার ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ এম


তীব্র জ্বর হলে যেভাবে বুঝবেন আপনার ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু হয়েছে

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই জ্বর, সর্দি-কাশি সহ নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যায়। একই সময়ে, যখন বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়, তখন ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ফলে, যখন হঠাৎ জ্বর আসে, তখন অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান—এটি কি সাধারণ ভাইরাল জ্বর, নাকি ডেঙ্গু?

সমস্যা হলো, ডেঙ্গু ও সাধারণ ভাইরাল জ্বরের শুরুর দিকের উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, বর্ষাকালে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

চিকিৎসকরা বলেন, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ এবং ডেঙ্গুকে একসূত্রে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। কারণ, ডেঙ্গু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শুরু থেকেই লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের শুরুতে যে সব সাধারণ উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত—

• হঠাৎ জ্বর

• শরীরে দুর্বলতা ও অবসাদ

• শরীরব্যথা

• অতিরিক্ত ক্লান্তি

তবে, এসব উপসর্গ থাকলেই যে ডেঙ্গু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। আবার এগুলোকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলাও করা উচিত নয়।

যেসব উপসর্গ ডেঙ্গুর আশঙ্কা বাড়ায়, সেগুলি হলো—

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ ভাইরাল জ্বরের তুলনায় ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত বেশি তীব্র হয়। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—

• তীব্র জ্বর

• প্রচণ্ড মাথাব্যথা

• চোখের পেছনে ব্যথা

• পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা

• বমি বমি ভাব বা বমি

• শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দাগ

চিকিৎসকরা জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে বা কালো দাগ দেখা দিতে পারে, এবং তীব্র পেটব্যথাও হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কখন ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত? চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে জ্বর হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বরের প্রথম দিকেই ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যকর। প্রয়োজন অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে পিসিআর (PCR) পরীক্ষাও করা হয়।

অন্যদিকে, যদি জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হয় বা বৃদ্ধি পায়, তাহলে চিকিৎসক ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও জ্বরের সময়কাল বিবেচনা করে কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক।

বর্ষার সময়ে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে অবহেলা না করে শুরু থেকেই সতর্ক থাকুন। সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসাই ডেঙ্গুর জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে ঘামাচি কমে, কতটা সত্য?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ এম


বৃষ্টির পানিতে ঘামাচি কমে, কতটা সত্য?

বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের হয়ে থাকে। কর্মস্থলে যাওয়া-আসা কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাইরে থাকা মানুষেরা যেমন অনিচ্ছাকৃতভাবে বৃষ্টিতে ভিজে পড়েন, তেমনই গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজে নিয়োজিত অনেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যান।

আবার অনেক তরুণ-তরুণী শখের বশে বা আনন্দের জন্য ইচ্ছা করে বৃষ্টিতে ভিজে থাকেন। এরপর বেশির ভাগ মানুষ পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করেন, কারণ প্রচলিত বিশ্বাস—এতে নাকি ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করার অভ্যাস অবশ্যই ভালো। তবে এর উদ্দেশ্য ঠান্ডা-সর্দি প্রতিরোধ নয়। তিনি জানান, গোসল করলে ঠান্ডা লাগবে না—এমন ধারণা কেবল একটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস।

এদিকে, বর্তমানে শহরের বাতাসে ধুলাবালি, দূষিত কণা, বিভিন্ন রাসায়নিক ও অম্লীয় উপাদান মিশে থাকে। বৃষ্টির ফোঁটা নিচে নামার সময় এসব ক্ষতিকর উপাদান সঙ্গে নিয়ে আসে। ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ত্বকে লেগে থাকলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, র‌্যাশ বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভেজার পর যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

বৃষ্টির পানিতে ভিজলে ঘামাচি কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বৃষ্টির পানির কোনও বিশেষ গুণের কারণে নয়, বরং শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে সাময়িকভাবে ঘামাচি বা হিট র‌্যাশের উপসর্গ কমে আসে। একই ফল সাধারণ ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলেও পাওয়া যায়। অর্থাৎ ঘামাচি কমার সঙ্গে বৃষ্টির পানির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; মূল বিষয় হলো শরীরকে ঠান্ডা রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%