প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা সমস্যাটি অনেকের জন্য পরিচিত একটি সমস্যা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি তলপেটের জ্বালাপোড়া দিয়ে শুরু হয় এবং তা বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আবার কিছু মানুষের পেটে মোচড়, ফাঁপাভাব বা নির্দিষ্ট স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে এমন সমস্যা স্বাভাবিক হলেও, খাবারের পর নিয়মিত ব্যথা অনুভব করলে সেটিকে শুধুমাত্র বদহজম ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
খাবার গ্রহণের পরপরই পরিপাকতন্ত্রের কর্মকাণ্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় পাকস্থলীতে অ্যাসিডের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, পেশিগুলো সংকুচিত হয় এবং পিত্তথলি ও অন্ত্র হজমের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় যদি কোনো অংশে সমস্যা দেখা দেয়, তবে খাবার খাওয়ার পরই ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার ধরন, অবস্থান, কতোক্ষণ পর শুরু হচ্ছে এবং কোন ধরনের খাবারের পর ব্যথা বাড়ছে—এসব তথ্য রোগের কারণ নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন, তলপেটের উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা পাকস্থলীর প্রদাহ (গ্যাস্ট্রাইটিস) বা আলসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, চর্বিযুক্ত খাবারের পর পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা দেখা দিলে, সেটি পিত্তথলির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আবার নাভির চারপাশে খিঁচুনি বা ব্যথা ক্ষুদ্রান্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
যদি খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকের নিচে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা শুরু হয়, তবে এর পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর আলসার দায়ী থাকতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এ পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে বুকজ্বালা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে। একইভাবে, গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের রোগীদের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ানোর ফলে প্রদাহ আরও তীব্র হয়ে যেতে পারে এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
তবে খাবার-পরবর্তী পেটব্যথার উৎস সর্বদা পাকস্থলী হয় না। বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পর যদি পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তাহলে পিত্তপাথরের কারণে পিত্তথলির প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার হজমের সময় পিত্তথলি সংকুচিত হয় এবং পাথর যদি পিত্তরসের পথ আটকে দেয়, তাহলে ব্যথা শুরু হয়।
অন্যদিকে, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকলে স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার সময় অন্ত্রের সংকোচনও ব্যথার কারণ হতে পারে। আবার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের মতো খাদ্য অসহিষ্ণুতায় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দেওয়াও স্বাভাবিক।
তলপেটের ব্যথাও অনেক সময় কোলনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। খাবার অন্ত্রে পৌঁছানোর পর কোলন নতুন খাবারের জন্য জায়গা তৈরি করতে সংকুচিত হয়। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস আটকে গেলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোলাইটিস বা ডাইভার্টিকুলার ডিজিজে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অতিমাত্রায় গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়ে হঠাৎ পেটে ক্র্যাম্প এবং দ্রুত শৌচাগারে যাওয়ার তীব্র তাগিদ তৈরি করতেও পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, যদি খাবারের পর নিয়মিত পেটব্যথা, তীব্র জ্বালাপোড়া, দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি অথবা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ দ্রুত কারণ চিহ্নিত করতে পারলে জটিলতা এড়ানো এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন