ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরীক্ষার ফি নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন জারি


বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরীক্ষার ফি নির্ধারণে প্রজ্ঞাপন জারি

সরকার বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি পরিদর্শন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অনুমোদন নবায়নের ফি নির্ধারণ করে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০-এ সংশোধন এনেছে।

নতুনভাবে নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি উপকেন্দ্রের ক্ষমতার ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিফট, এনার্জি মিটার, ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফিও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৫৯ ধারার অধীনে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০-এর তফসিল-১ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন তফসিল অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্রের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের জন্য এ দুটি ফি যথাক্রমে ২৫ হাজার ও ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ক্ষমতার উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ৬০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৩০ হাজার টাকা। ৫ এমভিএ উপকেন্দ্রের জন্য এ ফি যথাক্রমে এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। ১০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি এক লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন উপকেন্দ্রের জন্য ফি আরো বেশি। ২০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি দুই লাখ টাকা এবং নবায়ন ফি এক লাখ টাকা। ৫০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ দুটি ফি যথাক্রমে চার লাখ ও দুই লাখ টাকা। ১০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ফি সাত লাখ টাকা এবং নবায়ন ফি তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ তালিকাভুক্ত ৫০০ এমভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ৩০ লাখ টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বিদ্যুৎ সিস্টেমে লিংকেজ পরীক্ষার ফি দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ডায়াগ্রামসহ সেফটি প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ৫০ কিলোওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৫০ কিলোওয়াট বা তদূর্ধ্ব ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য ১১ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত সরঞ্জামের জন্য পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ৫০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৩ হাজার ভোল্ট বা তদূর্ধ্ব ক্ষমতার সরঞ্জামের জন্য এ ফি যথাক্রমে ৭৫ হাজার ও ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।

ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়ন ফি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

এনার্জি মিটার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য দুই হাজার টাকা, থ্রি-ফেজ মিটারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং মেইন মিটার বা এইচটি মিটারের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। বৈদ্যুতিক লিফটের আর্থিং পরীক্ষার ফি প্রতি ইলেকট্রোডে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিফট পরিদর্শন ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্যাসেঞ্জার, ক্যাপসুল ও বেড লিফটের জন্য ছয় হাজার টাকা এবং অনুমোদন নবায়নের জন্য তিন হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে কার্গো, গুডস, কার, ফায়ার ফাইটিং ও সার্ভিস লিফটের পরিদর্শন ও পরীক্ষা ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তফসিলে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ফি উল্লেখ না থাকলে সমজাতীয় ক্যাটাগরির অব্যবহিত আগের ও পরের ক্যাটাগরির ফি-এর আনুপাতিক হারে পরিদর্শন ফি নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন কর্মকর্তা।

নির্ধারিত ফি কর-বহির্ভূত রাজস্ব হিসেবে ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইনে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত কোডে জমা দিতে হবে। যে ভবন বা স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রহণ বা ব্যবহার করা হয় বা হবে, সেই ভবন বা স্থানের দখলদারকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা দেওয়ার পর চালানের মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

এতে আরো বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগের ২০১৪ সালের ২১ মে জারি করা ‘বৈদ্যুতিক স্থাপনা বা সরঞ্জামাদি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিদ্যুৎ লাইসেন্স জারি আদেশ, ২০১৪’ রহিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় অপ্রতিরোধ্য পকেটমার চক্র, আড়ালে গডফাদাররা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


বগুড়ায় অপ্রতিরোধ্য পকেটমার চক্র, আড়ালে গডফাদাররা!

বগুড়া শহরে পকেটমারদের কার্যকলাপ যেন থামার নাম নিচ্ছে না। বাজার, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশন—জনসমাগমের স্থানগুলোতে সক্রিয় রয়েছে পকেটমার চক্র। গ্রাম-গঞ্জ থেকে জীবিকার তাগিদে কিংবা প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে আসা মানুষরা তাদের খপ্পরে পড়ে হারাচ্ছেন টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র।

সম্প্রতি, পকেটমার সন্দেহে একজনকে আটক করার সময় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার পর পুলিশ পকেটমার চক্রের সর্দার হিসেবে পরিচিত রতন ব্যাপারীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই ও পকেটমারির সঙ্গে সম্পর্কিত ২৮টি মামলা রয়েছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় অন্তত ৩০০ জন পকেটমার বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন নারী এবং ৩০ জন শিশু রয়েছে। তালিকায় ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধও অন্তর্ভুক্ত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় পকেটমারদের কার্যকলাপ চললেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। গণগ্রেপ্তার, আটক ও অস্ত্র আইনে মামলা—কোনো পদক্ষেপেই তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। অনেকের অভিযোগ, অজ্ঞাত কারণে তাদের অপরাধ নির্মূলে পুলিশের সমন্বিত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত ৩০০ জনের মধ্যে অন্তত শতাধিক বগুড়া শহরের বাইরে গিয়ে পকেটমারির সঙ্গে জড়িত। তারা রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিভিন্ন হাট-বাজার, মেলা ও জনবহুল এলাকায় সক্রিয় থাকেন। নিয়মিত যাতায়াত করেন নওগাঁ, সান্তাহার, জয়পুরহাট, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জে। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে যে, কয়েকজন পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও গিয়ে পকেটমারি করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর চেলোপাড়ার চিহ্নিত পকেটমার পাথারু, মমতাজ ও শাহ আলম পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়ে পকেটমারি করেন। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়াতেও একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আরো অন্তত ২০ জন একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পকেটমার ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ

গত ২০ অক্টোবর দুপুরের পর বগুড়া শহরের দত্তবাড়ী এলাকায় যানজট নিরসন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালায় সদর থানা পুলিশ। এই অভিযানের সময় মাটিডালীগামী সড়কে শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের বাঁ পাশে রতন ব্যাপারীকে আটক করতে যান এএসআই উজ্জ্বল। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রতনের মারধরে ওই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন বলে পুলিশের দাবি। পরে রতনের সহযোগী ও স্থানীয় কয়েকজন নারীও তার ওপর চড়াও হন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রতন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, ছিনতাই ও পকেটমারিসহ ২৮টি মামলা রয়েছে। তাকে আটক করার মাধ্যমে চক্রটির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। তবে একের পর এক মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও পকেটমারদের দৌরাত্ম্য কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে থানায় যেতে চান না।

বগুড়া শহরে পকেটমারদের তৎপরতার শিকার হচ্ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বগুড়ার ফটো সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, সদর থানার সামনে থেকেই তার পকেট থেকে মোবাইলফোন চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করেও আজ পর্যন্ত ফোনটি উদ্ধার করতে পারেননি।

মহাস্থান এলাকার মোস্তফা আলম জানান, গত ১৫ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে তার ব্যাগ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খোয়া যায়। টাকা হারিয়ে কেনাকাটা না করেই বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

থানায় অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় গিয়ে কী হবে? আরো ঝামেলা বাড়বে মনে করে বাড়ি ফিরে যাই।

ভুক্তভোগীদের এমন অনীহা পকেটমারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে পুলিশ মনে করছে। অনেকেই টাকা হারানোর পর থানায় অভিযোগ করেন না। ফলে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করা হলেও নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। আবার কাউকে ধরে মামলা দিয়ে চালান দিলেও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলীর।

পকেটমারের হটস্পট

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের সাতমাথা, নিউমার্কেট, সদর থানা মোড়, রেলগেট, দত্তবাড়ী, রেলস্টেশন, শজিমেক হাসপাতাল, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, বড়গোলা, চেলোপাড়া ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় পকেটমারদের উৎপাত বেশি।

সপ্তপদী মার্কেটের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন জানান, সাতমাথা এলাকায় প্রতিনিয়ত পকেটমারদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ।

রহমাননগরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, শজিমেক ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পকেটমারদের উৎপাত থাকে। অনেক মানুষ প্রতিনিয়ত সর্বস্ব হারাচ্ছে এদের খপ্পরে।

প্রতি মাসে হারায় দুই শতাধিক মোবাইল

বগুড়া সদর থানা সূত্র জানায়, পকেটমারের খপ্পরে পড়ে টাকা খোয়া গেলে খুব কমসংখ্যক মানুষ থানায় অভিযোগ করতে আসেন। তবে মোবাইলফোন হারালে অনেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। মোবাইল হারানো সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতি মাসে থানায় দেড় থেকে দুই শতাধিক জিডি হয়। এর অধিকাংশই শহরে পকেটমারের খপ্পরে পড়ে মোবাইল হারানোর ঘটনা বলে পুলিশের ধারণা। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচটি মোবাইলফোন হারানোর ঘটনা থানার নথিতে আসছে।

বগুড়া জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, পকেটমাররা গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে এলেও মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত না হওয়ায় অনেক সময় জামিন পেয়ে যায়।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পকেটমার চক্রের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের পুলিশ ভালোভাবেই চেনে। অথচ রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, প্রায় ৩০০ পকেটমার আছে চেলোপাড়া এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তালিকা ধরে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও জনবহুল পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পকেটমারদের সর্দার রতন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, পকেটমারের খপ্পরে পড়ে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় থানায় অভিযোগ করতে চান না। এতে পকেটমার আটকের পর পুলিশকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে যারা অভিযোগ করেন, তাদের অনেকের খোয়া যাওয়া টাকাও উদ্ধার করে দেওয়া হয়।

পুলিশের তালিকায় ৩০০ পকেটমার, একের পর এক গ্রেপ্তার ও মামলা, তবু থামছে না তাদের দৌরাত্ম্য। প্রশ্ন উঠছে, এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে কারা? কারা দেয় তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়? আসল গডফাদার কে? বারবার গ্রেপ্তারের পরও কীভাবে তারা একই অপরাধে ফিরে আসে? প্রশাসন তাদের দমনে সমন্বিত উদ্যোগ কেন নেয় না? চুনোপুঁটিদের পাশাপাশি চক্রের মূল হোতা ও নেপথ্যের মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি বগুড়াবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারস্য উপসাগরে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


পারস্য উপসাগরে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না: ইরান

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে ইরান একটি কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সামরিক বা যুদ্ধজাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কঠোর বার্তা এসেছে।

তেহরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মতে, নিজেদের জলসীমা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, যেকোনো বিদেশি আগ্রাসন বা অনধিকার প্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সতর্কবার্তা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রুট এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডের সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানবন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী ​চট্টগ্রাম

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


সীতাকুণ্ডের সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানবন্ধন

বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার সীতাকুণ্ড উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সংবাদ পরিবেশন করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ ধরণের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা স্বাধীন সংবাদপত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। অনতিবিলম্বে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে পরবর্তীতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিলক-নীতিশের রেকর্ড জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


তিলক-নীতিশের রেকর্ড জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত

তিলক ভার্মা এবং নীতিশ কুমারের রেকর্ড জুটির সাহায্যে ভারত এক বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সফরকারীরা এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করতে সক্ষম হলো।

ক্রাইস্টচার্জে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে ২২৫ রানের বিশাল স্কোর গড়লেও জয় পেতে পারেনি। ওই ম্যাচে সাঞ্জুস্যামন, নামান ধীর এবং অধিনায়ক স্রেয়াশ আইয়ারের ব্যাটিংয়ের ফলে ভারত ২ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে জয়লাভ করে।

আজ শনিবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করে। ১২০ বলে ১৮১ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ভারত ১১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে।

তিলক ভার্মা এবং নীতিশ কুমার সপ্তম উইকেটে রেকর্ড ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে এক বল আগেই দলের জয় নিশ্চিত করেন। তাদের কল্যাণে ভারত ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায়।

টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ভারতের হয়ে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ ৬৩ রানের পার্টনারিশ গড়েছিলেন দীনেশ কার্তিক ও করুনাল পান্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%