বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫৮ পি.এম
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার পর প্রতিবাদ হিসেবে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভকারীরা ‘ফেদোরভকে বরখাস্ত করা যাবে না’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমবেত হন। এ সময় তারা ‘ধিক্কার’ স্লোগানও দেন।
বিবিসিকে ইউক্রেনের এক সৈনিক ওলেক্সান্ডার বলেন, ‘জেলেনস্কি তার পুরো প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এটাই সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন।’ তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
ফেদোরভের বরখাস্তকে ঘিরে ইউক্রেনের বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা ফেদোরভের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর কারণ প্রকাশের দাবি জানান। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো এ সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ করেননি। এ পদক্ষেপটি রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
সৈনিক ওলেক্সান্ডার আরো বলেন, ‘ফেদোরভের দলের ওপর আস্থা থাকায় এ বছরের শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। আমি এমন কাউকে চিনি না যে, তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। সেনাবাহিনীতেও না, সমাজেও না।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমার অনেক বন্ধু আছে। তাদের অনেকেই মারা গেছে। আমি চাই না এটা চলতে থাকুক।’
মধ্য কিয়েভের ইভান ফ্রাঙ্কো স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ৩১ বছর বয়সী মারিয়া লাভরিনেটস বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ফেদোরভের কাজের ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। আমরা সৈন্যদের মনোবলও দেখছি। আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।’
তিনি বলেন, ফেদোরভের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, এবং এ কারণে তার অপসারণের সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
এই ঘটনার পর দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে গতি আনেন, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন এবং তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে সামরিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পার্লামেন্টে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেনকোকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফেদোরভের অপসারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, তার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির মতবিরোধ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আবার অন্যদের মতে, সেনাবাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগ ও সমাবেশ সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে না পারাও তার অপসারণের একটি কারণ হতে পারে।
মিখাইলো ফেদোরভ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। ইউক্রেনের অনেকের মতে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সোভিয়েত আমলের পুরোনো ধ্যানধারণায় আটকে ছিল। ডিজিটাল রূপান্তর বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী হিসেবে ফেদোরভ ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে সাইবার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার অভিযান চালানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘ইউক্রেনের আইটি আর্মি’ গঠনে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘আর্মি অব ড্রোনস’ নামে একটি সফল তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, যার মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য ড্রোন সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হতো।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরও মিখাইলো ফেদোরভ ড্রোন প্রযুক্তি, আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার দায়িত্বকালে তিনি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছে আহ্বান জানান, যাতে রাশিয়া ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে না পারে। ইউক্রেনের দাবি, এ পদক্ষেপ রাশিয়ার সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।
ফেদোরভের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় মস্কো-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। গত মাসে তিনি মাঝারি পাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছিলেন। বরখাস্ত হওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ তার বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভাবন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে খ্যাতনামা ড্রোন ইউনিট কমান্ডার পাভলো ইয়েলিজারভ ফেদোরভের বরখাস্তের প্রতিবাদে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় লাভের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর গোটা আর্জেন্টিনা উল্লাসে মেতে উঠেছে। রাজধানী বুয়েনস আইরেস থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সবচেয়ে নজরকাড়া উদযাপনটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার নিউকুয়েন প্রদেশের কুত্রাল কো শহরে। সেখানে লিওনেল মেসির সদ্য নির্মিত ৮৫ ফুট (২৬ মিটার) উঁচু এক বিশাল মূর্তির পাদদেশে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছাতেই সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।
আগামী রোববার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দেশ হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে অপেক্ষা করছে।
কুত্রাল কো শহরের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী লুকাস রোমেরো বলেন, "এটি ছিল এক চরম কষ্টের জয়, কিন্তু মেসির অবদানের জন্য এই মূর্তি ও জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল।"
স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসার তৈরি মেসির এই বিশাল মূর্তিটি চলতি বছরের জুনে উদ্বোধন করা হয়, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি ভাস্কর্য হিসেবে পরিচিত। ম্যাচ শেষে মূর্তির মাথার চারপাশে লাল-কমলা আতশবাজির আলোতে পুরো আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার এই ম্যাচটি কেবল ফুটবলের লড়াই ছিল না, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ বিতর্ক, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের স্মৃতি এই দ্বৈরথকে এক আবেগের যুদ্ধে রূপ দেয়।
ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, "ইংরেজদের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই অন্য কিছু। এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি ডিয়েগোর লড়াই এবং এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ।"
বুয়েনস আইরেসে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের এক যৌথ প্রদর্শনীতে খেলা দেখার পর ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ যোদ্ধা হুয়ান কার্লোস সালিনাস চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে বলেন, "এই জয় আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সের্গেই কোরেৎস্কিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষিত মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে ইউক্রেনের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সের্গেই কোরেৎস্কির বয়স ৪৮ বছর। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও অর্থনীতিবিদ। এর আগে কখনোই তিনি সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হওয়া এবং দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিতি তার জন্য বড় সুবিধা। ইউক্রেনের পেন্টা থিংক ট্যাংকের পরিচালক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার সমন্বয়ই কোরেৎস্কিকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। সের্গেই কোরেৎস্কির জ্বালানি খাতে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি তেল উৎপাদন, পরিশোধন, খুচরা ও পাইকারি জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিয়ে কাজ করেছেন। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের গ্যাস উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশ পরিচালনা করে। এর আগে তিনি ইউক্রেনের বৃহত্তম তেল প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতার প্রধান ছিলেন, যা নাফতোগাজ গ্রুপের একটি অংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওয়েস্টার্ন অয়েল গ্রুপ, কন্টিনিয়াম গ্রুপ এবং ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি স্টেশন চেইন ডব্লিউজিওজির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পশ্চিম ইউক্রেনের লুতস্ক শহরে জন্ম নেওয়া কোরেৎস্কি একটি কফি চেইন ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোরেৎস्कির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীতের জন্য ইউক্রেনকে প্রস্তুত করা। গত শীতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নেওয়াই নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নির্বাচনী ইশতিহারে ঘোষিত কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড' বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে এ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায় উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের আড়কান্দি কৃষি ব্লকে (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) উদ্বোধন করা হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সব কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের জন্য একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি করার লক্ষ্যে এবং সরকারি কৃষি সহায়তা, প্রণোদনা ও অন্যান্য সেবা সহজে ও কার্যকরভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কাজ হবে।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এজন্য কৃষকদের নিজ বাড়িতে উপস্থিত থাকতে হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এর মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
এছাড়া একজন নমিনি নির্ধারণ করতে হবে, যিনি নিজ এনআইডির মূল কপিসহ উপস্থিত থাকবেন। কৃষি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ জানান, "জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার সকল কৃষক ও কৃষাণীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়িতে গেলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন এবং কৃষক নিবন্ধন নিশ্চিত করুন।"
তিনি আরও বলেন, "কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারি কৃষি সহায়তা, বিভিন্ন প্রণোদনা এবং অন্যান্য কৃষিসেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।"
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, দেশের অন্যান্য উপজেলার মতো বালিয়াকান্দিতেও পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের সকল কৃষি ব্লকে এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সরকারের কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন উদ্যোগ সফল করতে সকল কৃষককে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় আগুনের ঘটনায় ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে, ১০টার সময় বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
যাদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থার আশঙ্কা রয়েছে।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দগ্ধ ১০ শ্রমিককে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। আহত শ্রমিকরা বলেন, কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে আছেন, দিদারুল আলম (৩২), উজ্জ্বল দাশ (৫৩), মোহাম্মদ লিটন (২৮), সিরাজুল ইসলাম (৩৪), জাহিদুল আলম (৪২), মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), নূর নবী (২৫), মোহাম্মদ আলম (৪৫), মাহামুদুল হক (৪৫) এবং সেলিম উদ্দিন (৩০)। এছাড়া, আহসানুল হক (৪৫) নামের আরও একজন শ্রমিক বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এমনটি জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারজানা।
বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার বলেন, তাঁরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও, এর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তাই তাঁদের কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘কারখানার জেনারেটরে সংস্কারের কাজ চলাকালে, ওয়েল্ডিংয়ের আগুনের জন্য দুটি এসি বিস্ফোরিত হলে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।’
কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক মো. বোরহান উদ্দীন বলেন, ‘জেনারেটরের কাজ করার সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ