ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কাল সংসদে উঠছে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬


কাল সংসদে উঠছে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬

উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু বগুড়া এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা একটি আধুনিক, পরিকল্পিত এবং পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার মহান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ উত্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ কর্তৃক প্রকাশিত কার্যসূচির তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হতে যাওয়া সংসদের বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বিলটি উত্থাপনের জন্য অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং পর্যালোচনা করে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৪তম বৈঠকে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ -এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদিত এই আইনটির উদ্দেশ্য হলো বগুড়া অঞ্চলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা এবং পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ঘটানো।

আরও পড়ুন: ঢাকায় গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে নিহত জামশেদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা সহায়তা

খসড়া আইন অনুযায়ী, বগুড়া সিটি করপোরেশন ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে একজন চেয়ারম্যান, সার্বক্ষণিক সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠিত হবে। এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সংশোধিত সীমানার মধ্যে কোনো ভবন নির্মাণ বা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করা যাবে না।

প্রস্তাবিত আইনে জলাশয়, নদী-নালা ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন নির্মাণ ও জলাধার ভরাটের মতো অপরাধের জন্য কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ল্যান্ড রিডজাস্টমেন্ট ও ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে দ্রুততম সময়ে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন: দেবিদ্বারে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভা, এমপি রাশেদা বেগম হীরার গাড়িবহরে হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে যুবদল নেতা শরীফের মরদেহ ঝিরি থেকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


বান্দরবানে যুবদল নেতা শরীফের মরদেহ ঝিরি থেকে উদ্ধার

বান্দরবান জেলা শহরের কসাইপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ পাহাড়ি ঝিরিতে পড়ে থাকা অবস্থায় স্থানীয় যুবদল নেতা শরীফ (৩৮) এর মরদেহ উদ্ধার করেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কসাইপাড়ার পাহাড়ি ঝিরি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শরীফ জেলা শহরের তালুকদারপাড়ার বাসিন্দা জহিরের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। স্থানীয়দের মতে, ঝিরিতে পা পিছলে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে স্থানীয়রা কাজ করতে গিয়ে ঝিরিতে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, বান্দরবান জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার মন্তব্য করেছেন যে, জেলা শহরের কসাইপাড়া এলাকার একটি ঝিরি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শি চিনপিংয়ের হাতে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, বিপাকে পড়তে পারে চীনের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


শি চিনপিংয়ের হাতে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, বিপাকে পড়তে পারে চীনের অর্থনীতি

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পাশাপাশি চীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনির্ধারণী সম্মেলন ‘ফিফথ প্লেনাম’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হলেও, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং তার ক্ষমতাকে আরো নিরঙ্কুশ ও শক্তিশালী করেছেন।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের প্রায় ১৪ বছর পরও শি চিনপিংয়ের দল পূর্ণ আনুগত্য এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সর্বস্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে স্থানীয় নেতাদের ওপর বেইজিংয়ের রাজনৈতিক নজরদারি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিংয়ের এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই প্রবণতার প্রভাব চীনের নতুন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিকস ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন উদ্ভাবনের জন্য স্বাধীনভাবে চিন্তা করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োজনে প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু রাজনৈতিক আনুগত্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে কর্মকর্তা, গবেষক ও উদ্যোক্তারা ব্যর্থতার ঝুঁকি নিতে কিংবা নতুন উদ্যোগ গ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও দলীয় শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রশাসনের ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থকদের যুক্তি হলো, এতে প্রশাসনিক অনিয়ম কমবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকারিতা বাড়বে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

চীনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা। কারণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নতুন অর্থনীতির বিকাশে শুধু রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সৃজনশীলতা, স্বাধীন গবেষণা এবং নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ।

তাহলে বলা যায়, শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার নীতি দীর্ঘ মেয়াদে চীনের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে সীমিত করে দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুয়েটের অধ্যাপক আখতার হোসেন বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো নির্বাচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


বুয়েটের অধ্যাপক আখতার হোসেন বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো নির্বাচিত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আখতার হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান একাডেমি দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের (টিডব্লিউএএস) ফেলো হিসেবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিজ্ঞানচর্চার অগ্রগতি, গবেষণা ও বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই সম্মাননা লাভ করেছেন। তাঁর ফেলোশিপ আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

গত ৫ নভেম্বর, টিডব্লিউএএসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক কোয়ারাইশা আবদুল করিমের স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে অধ্যাপক আখতার হোসেনকে তাঁর নির্বাচনের বিষয়টি জানানো হয়। অভিনন্দন বার্তায় সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, "বিজ্ঞান এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে বিজ্ঞানচর্চার প্রসারে অধ্যাপক হোসেনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।" নবনির্বাচিত ফেলোদের আনুষ্ঠানিক অভিষেক আগামী সাধারণ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আখতার হোসেন শিক্ষকতা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পরে যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ১৯৯৮ সালে পরীক্ষণমূলক কঠিন অবস্থা পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিশেষত কলোসাল ম্যাগনেটোরেজিস্ট্যান্স।

২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্সের বৃত্তির আওতায় জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন তিনি।

১৯৯৪ সালের জুনে বুয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক আখতার হোসেন। ২০০৮ সালের আগস্টে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। বর্তমানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বুয়েটের স্নাতকোত্তর শিক্ষা অনুষদের সহযোগী ডিন হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বুয়েটের তিতুমীর হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক হোসেনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র পরীক্ষণমূলক কঠিন অবস্থা পদার্থবিজ্ঞান এবং উন্নত কার্যকরী পদার্থের বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধান। তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কলোসাল ম্যাগনেটোরেজিস্ট্যান্স, অতিপরিবাহিতা, ন্যানো-কাঠামোবিশিষ্ট ফেরাইট, ফেরোইলেকট্রিক ও মাল্টিফেরোইক পদার্থ, ডাইলিউট ম্যাগনেটিক সেমিকন্ডাক্টর, ন্যানোক্রিস্টালাইন সংকর ধাতু এবং নতুন প্রজন্মের কার্যকরী পদার্থ। এসব পদার্থের গঠনগত, বৈদ্যুতিক, চৌম্বকীয় ও চৌম্বক-বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রে এগুলোর সম্ভাব্য প্রয়োগ নিয়ে তিনি গবেষণা করে আসছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে তাঁর অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ১৪ জন পিএইচডি, ৪৪ জন এমফিল এবং ২২ জন এমএসসি পর্যায়ের গবেষককে তত্ত্বাবধান করেছেন।

তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি এবং বাংলাদেশ ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো। টিডব্লিউএএসের ফেলো নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও গবেষণাজীবনে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

উল্লেখ্য, দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেস (টিডব্লিউএএস) একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিজ্ঞান একাডেমি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ সাধন, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে কাজ করে সংস্থাটি। অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আখতার হোসেনের এ অর্জন বুয়েটসহ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাশয় ঘিরে বরগুনার স্বাবলম্বিতার হাতছানি, উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


জলাশয় ঘিরে বরগুনার স্বাবলম্বিতার হাতছানি, উজ্জ্বল সম্ভাবনা

বরগুনা জেলা, যা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এই জেলার নদী, খাল, পুকুর, দিঘি, বিল এবং অসংখ্য জলাশয় মাছ চাষের জন্য অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তবে, এসব জলাশয়ের একটি বড় অংশ এখনো পরিকল্পিত মাছ চাষের আওতায় আসেনি। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা গেলে, এই জলাশয়গুলো প্রান্তিক জনগণের স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম অবলম্বন হতে পারে।

বিশেষ করে দরিদ্র জেলে পরিবার, ভূমিহীন মানুষ, বেকার যুবক ও নারীদের সমবায়ভিত্তিক মাছ চাষের উদ্যোগে যুক্ত করা গেলে, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস পালন, পুকুরপাড়ে সবজি ও ফলদ বৃক্ষের চাষ এবং উপযোগী জলাশয়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে একই জলাশয় থেকে বহুমুখী আয় করা সম্ভব।

মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট মাছ উৎপাদনের ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ে চাষ থেকে আসে। ওই অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন ছিল ৫০ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বদ্ধ জলাশয়ে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৭৮ লাখ মেট্রিক টন। এই পরিসংখ্যান জলাশয়ভিত্তিক মাছ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বেতাগী ও বামনা- এই ছয়টি উপজেলায় মাছ চাষের উপযোগী বিভিন্ন জলাশয় বিদ্যমান। পানির লবণাক্ততা, গভীরতা ও পরিবেশের ভিত্তিতে কোথাও কার্প, তেলাপিয়া ও পাঙাশ, আবার কোথাও চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া উপযোগী জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষ এবং মাছের সঙ্গে মুক্তা চাষের মতো বিকল্প উদ্যোগও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিন মন্তব্য করেন, "জেলার জলাশয়গুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মাছের উৎপাদন ও গ্রামীণ মানুষের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।" তিনি বলেন, জলাশয়ের ধরন অনুযায়ী মাছের প্রজাতি নির্বাচন, মানসম্মত পোনা, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে চাষিরা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলায়। সেখানে প্রান্তিক জনগণ বিভিন্ন জলাশয়ে সমন্বিতভাবে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বরগুনায়ও অসংখ্য জলাশয় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব জলাশয় মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে প্রান্তিক জনগণের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ জন্য স্থানীয় সচেতন মহলের উচিত জলাশয়গুলোকে মাছ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, "জলাশয়কে ঘিরে পরিকল্পিত মৎস্য অর্থনীতি গড়ে তোলা গেলে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।" তিনি উল্লেখ করেন, এ ক্ষেত্রে সরকারি জলাশয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মৎস্য চাষি জাকির হোসেন মিরাজ মনে করেন, জলাশয়ের তালিকা তৈরি, মালিকানা ও ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই এবং উপজেলাভিত্তিক মৎস্য চাষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, উৎপাদিত মাছের ন্যায্যমূল্য, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।

জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বরগুনা সদর উপজেলার কালিরতব গ্রামের মো. আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, নদী ও সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া কিংবা মাছের স্বল্পতার সময় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। স্থানীয় জলাশয়ে দলগতভাবে মাছ চাষের সুযোগ পেলে তাঁদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা হবে। এ জন্য প্রশিক্ষণ, পোনা, মাছের খাদ্য ও স্বল্পসুদে ঋণ প্রয়োজন।

তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের আব্বাসউদ্দিন হাওলাদার জানান, পুঁজি, উপযুক্ত জলাশয় ও কারিগরি জ্ঞানের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ মাছ চাষে আগ্রহী হয়েও উদ্যোগ নিতে পারেন না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলে তাঁরা উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হতে পারবেন।

পাথরঘাটার মৎস্য চাষি মো. খলিলুর রহমান পহলান বলেন, মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রির নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকাসহ বড় বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সমবায়ভিত্তিক বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে পুঁজির সংকট, মাছের খাদ্যের উচ্চমূল্য, মানসম্মত পোনার অভাব, রোগবালাই, পানির লবণাক্ততা ও বাজারজাতকরণের দুর্বলতা বড় প্রতিবন্ধকতা। উপকূলীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে। পাশাপাশি মাছ চাষের নামে জলাশয় দখল, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বন্ধ কিংবা পরিবেশের ক্ষতি রোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথমে ছয়টি উপজেলায় সম্ভাবনাময় জলাশয়ের তালিকা ও জরিপ করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। প্রকৃত জেলে ও দরিদ্র পরিবারকে সমবায়ের মাধ্যমে জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ, প্রশিক্ষণ, মানসম্মত পোনা, স্বল্পসুদে ঋণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত মাছের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বরগুনার জলাশয়গুলো শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, এসব জলাশয় ঘিরেই সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত। এখন প্রয়োজন সম্ভাবনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%