০৫:২২ পি.এম
বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে গা গরমের ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠে নেমেছিল। শনিবার রাতে নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচে দুই দলই জয় পেয়ে মাঠ ছেড়ে বের হয়েছে। তবে মাঠে দল জেতার পরও সমর্থকদের মনে আক্ষেপ সৃষ্টি করেছে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতি। এই দুই মহাতারকাকে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার ফলে দুই দলের আক্রমণভাগে জাদুকরী সেই ছোঁয়া অনুপস্থিত ছিল এবং এটা ফুটবলপ্রেমীদের চোখে স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। তবে, ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মূল বিশ্বকাপ শুরু হলে এই চিত্র পুরোপুরি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রাজিল, যা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল মিশর। বল দখলের লড়াইয়ে মিশর সেলেসাওদের বেশ ভালো টক্কর দিয়েছে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল মাত্র ৫১ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আক্রমণের দিক থেকে তারা পরিমাণে এগিয়ে ছিল। ব্রাজিলিয়ানরা মিশরের গোলমুখে ১২টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টি শট ছিল অন-টার্গেট। ফলে ম্যাচটিতে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এবারের মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা তরুণ তুর্কি এন্ড্রিক ম্যাচের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ৫৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। রাফিনহা ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও ভালো খেললেও, ম্যাচটিতে চেনা ছন্দের ধারটি দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ইনজুরির কারণে নেইমারকে হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে দেখা নাও যেতে পারে, তবে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্রাজিলের জন্য তার পায়ের জাদু কতটা প্রয়োজন হবে, সেই প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও কোস্টারিকা
এদিকে, দিনের অন্য ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়েছিল হন্ডুরাসের। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। হন্ডুরাসকে কোনো সুযোগই দিচ্ছে না আলবিসেলেস্তেরা, এমনকি পুরো ম্যাচে তারা আর্জেন্টিনার গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেনি। হন্ডুরাস মাত্র ২৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখতে পেরেছিল। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। এরপর ৫৫ মিনিটে মার্তিনেজের পাস থেকেই দলের হয়ে দ্বিতীয় ও শেষ গোলটি করেন জিউলিয়ানো সিমেওনে।
যদিও আর্জেন্টিনা ম্যাচে আধিপত্ত্ব দেখিয়েছে, মাঝমাঠ দিয়ে চিরাচরিত আক্রমণের অভাব ছিল স্বচ্ছ। লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার আক্রমণগুলো মূলত ছিল উইং বা প্রান্তভিত্তিক। রক্ষণভেদের যে জাদুকরী কারিশমা মেসির সহজাত বৈশিষ্ট্য, তা ছাড়া মাঝমাঠ কিছুটা খেই হারিয়েছিল। তবে ফুটবল বোদ্ধাদের মনে করেন, বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলে মেসি দলে ফিরলে আর্জেন্টিনার রণকৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন