ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ ‘সরকার পতনের’ কান্না


মোদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রমাণ ‘সরকার পতনের’ কান্না

একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, যখন সরকার জনগণের প্রতিবাদকে ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করে, তখন তা মূলত প্রকাশ্যে নিজের নিরাপত্তাহীনতা তুলে ধরে। এটি একদিকে সমালোচকদের অবস্থানকে উঁচুতে তুলে ধরে, অন্যদিকে নিজের ক্ষমতায় থাকার বিষয়টিকে একটি ‘জাতীয় বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে মনে করে। এর ফলে জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট গণতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিক: সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনযোগ্য।

যিনি তাঁর শাসনকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার জন্য ঈশ্বরপ্রদত্ত বা ‘নন-বায়োলজিক্যাল’ মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করতে অভ্যস্ত, তাঁর দলের বর্তমান ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটাররা হয়তো নরেন্দ্র মোদীকে প্রত্যাখ্যান করে ভারতের জন্য অন্য কোনো—সম্ভবত আরও ভালো—ভবিষ্যৎ বেছে নিতে পারেন। যুক্তিসঙ্গত রাজনৈতিক ভিন্নমতকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে বিজেপি মূলত সরকার পরিবর্তনের সেই বাস্তব সম্ভাবনাকে অনাবৃত করে দিয়েছে, যা প্রতিটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

বিজেপি প্রতিবেশী দেশগুলোতে জেন-জি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক গতিপথ অনুসরণ করলেও তাদের সাধারণ মিলটি ছিল তরুণদের ক্ষোভ, যা ক্ষমতাসীনদের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল। মোদী সরকার 'Gen Z' শব্দটির ব্যাপারে এতটাই সংবেদনশীল যে তাদের সরকারি বিবৃতিতে এখন 'যুব সমাজ' শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওগুলো ব্যাপক জনসমক্ষে উপহাসের পাত্র হওয়ার পর আচমকা বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?

সংবাদ টিভির বিতর্ক ও সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যেই বিজেপি নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো গঠনমূলক আলোচনায় তারা যাচ্ছে না। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন বিরোধী দল, প্রাক্তন সচিব, দিল্লির প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং সুশীল সমাজের নেতাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর চরম শক্তি প্রদর্শনই এখন নাগরিক ও বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যখন প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার অবরুদ্ধ করা হয় এবং পুলিশ সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে ওঠে, তখন জবাবদিহিতার বিষয়টি মোদী শাসনের অবাধ ক্ষমতা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে একটি বড় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর ১৩তম বছরে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন আর তিনি পূর্বসূরিদের ওপর দোষ চাপিয়ে বা নিজেকে 'এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী' দাবি করে পার পাচ্ছেন না। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বিক্ষোভকারীরা ক্রমান্বয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র এবং ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির সমর্থক পরিবার ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলো থেকে আসছে। সরকার যখন তাদের দমনপীড়নের মুখে ফেলে, তখন তা মোদীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর মারাত্মক আঘাত হানে।

সংসদে আসন সংখ্যা ২৪০-এ নেমে আসার পর বিজেপি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা

যে ৭টি কারণে উদ্বেগে মোদী সরকার:

১. নির্ভরযোগ্য বন্ধু দলগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার

যেসব দল রাজনৈতিক সংকটে বিজেপির পাশে থাকত, তারা এখন সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে। ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দলের মতো মিত্ররা এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জগন মোহন রেড্ডি তো এমনও বলেছেন যে, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিল সমর্থন করা তাঁর ভুল ছিল। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং সিইসির অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।

২. তীব্র অর্থনৈতিক অসন্তোষ

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

শিরোনামের জিডিপি প্রবৃদ্ধি জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না, কারণ নিরাপদ কর্মসংস্থান ও বাস্তব আয় অধরাই রয়ে গেছে। যুব সমাজ, শহর ও গ্রামাঞ্চলে চরম বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং স্থবির গ্রামীণ মজুরির কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্স মাসের পর মাস নিম্মমুখী।

এর সাথে যোগ হয়েছে বিদেশি পুঁজির রেকর্ড পরিমাণ চলে যাওয়া, টাকার মানের রেকর্ড দরপতন এবং আমেরিকার সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে তরুণদের এইচ-১বি ভিসার অনিশ্চয়তা। সাধারণ মানুষের সাথে সাথে ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

৩. আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো

চলমান গণবিক্ষোভ ভারতের আমলাতন্ত্রের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে। আমলারা যখন বুঝতে পারেন যে সরকার পরিবর্তন হতে পারে, তখন তাঁরা ভবিষ্যতের জবাবদিহিতার ভয়ে সতর্ক হয়ে ওঠেন। জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের ('জুলাই ক্রান্তি') পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ আমলাতন্ত্রের ভেতর বড় ধাক্কা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলিম তরুণদের দায়ী করা হচ্ছে

এমনকি নির্বাচন কমিশনের ভেতরের মতভেদের খবর সংবাদপত্রে ফাঁস হওয়া প্রমাণ করে যে, কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত মোদী সরকারের ওপর আমলাদের সেই ভয় আর নেই।

৪. প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে জনরোষ

বিজেপি এতদিন নির্বাচন কমিশন বা বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে আসছিল। তবে সোশ্যাল মিডিয়া, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ এখন এই 'প্রতিষ্ঠান দখলের' রাজনীতি বুঝতে পারছে। শীর্ষ আদালত বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন আর সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, বরং রাজপথের আন্দোলনের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

৫. ‘এমওয়াই' (মহিলা ও যুব) ভোটব্যাংক ভাঙন

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা

বিজেপি এতদিন 'মহিলা ও যুব' (এমওয়াই) শক্তিকে তাদের নিশ্চিত ভোটব্যাংক হিসেবে দাবি করত। কিন্তু বর্তমানে দেশে জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৩৮ কোটি তরুণ সরকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। চাকরির পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব এবং পুলিশের লাঠিচার্জের সম্মুখীন হয়ে তরুণ ও নারী সমাজ এখন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছে।

৬. দলিত নেতা অভিজিৎ ডিপকের উদয়

কাকরোজ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের দলিত পরিচয় বিজেপির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি কেবল জাতিগত বা সামাজিক পরিচয়ের রাজনীতি করছেন না, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতাকে এক সুতোয় গেঁথে তরুণ সমাজকে একত্রিত করছেন। দলিত অধিকারের সাথে যুব সমাজের বেকারত্বকে যুক্ত করার এই সমীকরণ বিজেপির হিন্দুত্ববাদী ও নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরনের আঘাত এনেছে।

৭. আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা দল রাজপথের শক্তি বোঝে

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দাপট কমে, ইসরাইলে ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে

বিজেপি নিজেই ৮০ ও ৯০-এর দশকে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল। তাই তারা ভালো করেই জানে যে, রাজপথের জনস্রোত কীভাবে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারে এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। মোদী শাসনের ১৩তম বছরে দাঁড়িয়ে আরেকটি তরুণ-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন দেখে দিল্লি ও নাগপুরে (আরএসএস সদর দফতর) উদ্বেগ তৈরি হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

যদি মোদী সরকার দমনপীড়ন বা এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রাখে, তবে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও বেগবান হবে। ভিন্নমতকে 'সরকার উৎখাতের চক্রান্ত' বা 'রিজিম চেঞ্জ' বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা মূলত তরুণ সমাজকে তাঁদের সম্মিলিত শক্তি আবিষ্কার করতেই বেশি উৎসাহিত করছে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তের অভিযোগে বাউফলে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দর, যা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার এবং ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টায় কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এতে অংশ নেন।

বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, সালাম খান, যিনি ব্যারিস্টার সালাম নামেও পরিচিত, তার কারণে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে, যা বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুর এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা জানান, সম্প্রতি বন্দরের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড় সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পূবালী ব্যাংক কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। কিন্তু ব্যারিস্টার সালাম খান পুকুরের পাড় নিজের জায়গা দাবি করে কাজটি বন্ধ করে দেন।

বক্তাদের অভিযোগ, সালাম খান বিগত সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে ১৫০ শতাংশ জমি দাবি করেছেন। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, "বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানের প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়?" তারা সরকারের জায়গা উদ্ধার করে বন্দরের সার্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

কালাইয়া মার্চেন্ট পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, "কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত।" তিনি আরও বলেন, "বন্দরের জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত।" একই সঙ্গে তিনি বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম খান বলেন, "এই জায়গা সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় আমার পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। জায়গার সপক্ষে আমার সকল প্রমাণাদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া আছে। আমার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে তা স্রেফ অপপ্রচার।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, "সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক তা আমি নিজেও চেয়েছি। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা

রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলকে যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এই শাস্তি আরোপের দায়িত্ব পালন করেন আইসিসি এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। পাকিস্তান নির্ধারিত সময়ে দুই ওভার পিছিয়ে ছিল, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা এক ওভার পিছিয়ে ছিল।

আইসিসির খেলোয়াড় ও খেলোয়াড়দের সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম ওভার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভারের জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস উভয়ই অভিযোগ স্বীকার করে প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

মাঠের দুই আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও ওয়েইন নাইটস, তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ এবং চতুর্থ আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি এই অভিযোগের বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


তুর্কি পার্লামেন্টে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তি উপস্থাপন

তুর্কি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (মেক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স) চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য দেশের পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আল অ্যারাবিয়ার একজন প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যদি পার্লামেন্টে এটি পাস হয়, তবে সউদী আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন পথ উন্মুক্ত হবে।

‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামে পরিচিত এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সউদী আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে একটি শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।

এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। সউদী কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সউদী আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে: স্পিকার মেজর হাফিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে: স্পিকার মেজর হাফিজ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের সময় অন্যায় করলে এমপিত্ব চলে যায়। অন্যায়কারীদের প্রতি কোনো ছাড় দেয়া হয় না। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, বড় বড় মাস্তানরা ভারতে পালিয়েছে। "আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না।" তাদের দুর্নীতির বিচার দুদুকের মাধ্যমে হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনে শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী এমপিরা দেশে এত লুটপাট করেছে যা পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি। তারা (আওয়ামী লীগ) চুরি ও লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করে নিয়ে গেছে। সেই টাকা দিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রাসাদ নির্মাণ করেছে। এই লুটপাটের নজির আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিশ্বের ইতিহাসে এত বড় চোরের দল মানুষ কখনো দেখেনি। দেশের সম্পদ ও টাকা লুটপাট করে তারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা এখন চেষ্টা করছে কিভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায়।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে লালমোহন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আইপিইউ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তানজানিয়ায় ১৬৭টি দেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকে ছয়টি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। "আমাকে অঞ্চলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে কেউ এ পদে নির্বাচিত হননি। এই সম্মান আমার একার নয়, এটি সবার সম্মান।" এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে।

মেজর হাফিজ আরো বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া হবে না। বিএনপি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট মাস। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের একজন নারী সংসদ সদস্যকে দখলবাজির অভিযোগের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ায় একজন প্রতিমন্ত্রীকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। "এটা শুধুমাত্র এদেশে বিএনপি সরকারই করেছে। অন্য কোনো সরকারের এমন নজির দেশে নেই।" অন্যায় করলে মন্ত্রিত্ব এমপিত্ব চলে যায়। বিএনপি কাউকে ছাড় দেয় না।

তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) চুরি ও লুটপাট করে সম্পদ নিয়ে গেছে। টাকা দিয়ে আইন-আদালত কিনে ফেলেছিল। বিএনপি জিয়াউর রহমান দল সরকারে থাকলে দেশে ন্যায় বিচার কায়েম থাকে। বিএনপি সরকার ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে চায় বলেও জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। অতীতে এত আনন্দ উৎসবের মাঝে কখনো পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপিত হয়নি। হিন্দু সম্প্রদায় যাকে নির্ভিগ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিগত সরকারের সময়ে অন্ধকার যুগের কথা চিন্তা করতে বলেন। তাদের মত কাজ করবেন না। "আল্লাহ আছেন তিনি সব দেখেন।" পরকালের চিন্তা করে চলবেন। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। সৎ লোকের শাসন কায়েম করতে চাই। বিএনপি জিয়াউর রহমানের দল। সততার দল।

লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল পাঞ্চায়েতের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফান বিন সাদেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ, লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, পৌরসভা বিএনপির নেতা জাকির ইমরান, যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদার, লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ লালমোহন উপজেলার ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%