০৬:৩৭ এম
ইয়েমেনের যুদ্ধ যেন শেষ হয়ে যাচ্ছিল না, বরং এটি থমকে ছিল। দীর্ঘ চার বছর ধরে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছিল। তবে সংঘাতের মূল কারণগুলো কখনোই সমাধান হয়নি। তেল সম্পদের ভাগাভাগি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়াচ্ছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। দুই চিরবৈরী দেশের উত্তেজনার আঁচ এবার ইয়েমেনেও লেগেছে। ফলস্বরূপ, বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন এক সর্বনাশা যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা।
বিশ্লেষকরা মত দেন যে, হুতিদের কাছে যেকোনো সমস্যার একটাই সমাধান—যুদ্ধ। তারা মনে করছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে এবং কাঙ্ক্ষিত তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য বাড়বে। অপরদিকে, নানা সংকটে জর্জরিত সৌদি আরব শান্তি বজায় রাখার জন্য অর্থ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু হুতি নেতা আবদুলমালিক আল-হুতি এক ভাষণে পরিষ্কার জানিয়েছেন, তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। পাল্টা জবাবে, সৌদি রাষ্ট্রদূত হুতিদের বিরুদ্ধে ইরান-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন।
হুতিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হামলার সময় বেছে নিয়েছে। মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায়, সৌদি আরব এখন পুরোপুরি লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরশীল। ঠিক এই বৃহৎ সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছে হুতিরা। সম্প্রতি, তারা সৌদির দিকে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে, বাধ্য হয়ে সৌদি জোট হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর উজোবাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: পুলিশ সুপার
এটি বলা যেতে পারে যে, ২০২৩ সালের শেষে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল বিবদমান এই দুই পক্ষ। কিন্তু গাজা যুদ্ধ সব হিসাব পাল্টে দেয়। এরপর ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে হুতিদের 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে ঘোষণা করেন এবং চাপ বাড়ান।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ইরানি ফ্লাইট। প্রায় এক বছর পর সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান নামার চেষ্টা করলে, অস্ত্র বহনের অভিযোগে সৌদি জোট সেখানে বিমান হামলা চালিয়ে ফ্লাইটটিকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য করে। এর পরপরই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে অবরোধের ডাক দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। এভাবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ শুরু হয়।
ইয়েমেন আবারও পুরোদস্তুর যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ওপর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২৩ জুলাই, কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন যে, সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখলে হুতিদের চরম ‘সামরিক শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, রাজনৈতিক সম্পর্কের বিতর্ক তীব্র
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন