০৭:০৫ এম
গরমে ব্যায়াম করা শুধু অস্বস্তিকর নয়, কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে।
তবে গরমের কারণে একেবারে ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়াও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়, স্থান ও ব্যায়ামের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলেই তীব্র গরমেও নিরাপদে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে অনেক মানুষ গরমের সময় শারীরিক কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশি তাপ উৎপন্ন করে। শরীর তখন ঘাম এবং ত্বকের দিকে বেশি রক্তপ্রবাহ পাঠিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। এতে পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, ফলে দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনের সবচেয়ে শীতল সময়—ভোর বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা সবচেয়ে নিরাপদ। সরাসরি রোদের বদলে ছায়াযুক্ত স্থানে হাঁটা বা দৌড়ানো ভালো বলে তারা জানান। পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। আর্দ্রতা বেশি হলে ঘাম সহজে শুকায় না, ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বদ্ধ ও কম বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ব্যায়াম করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় বা উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের পরিবর্তে সময় কমিয়ে হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন গবেষকরা। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ঠান্ডা পানি পান করা, শরীরে পানি ঢালা কিংবা ভেজা তোয়ালে ব্যবহার করলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়। শুধু বরফের প্যাক ব্যবহার করলে তেমন কার্যকর শীতলতা পাওয়া যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়ামে বের হওয়ার আগে ঠান্ডা পানি বা বরফ মিশ্রিত পানীয় পান করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে, যা গরমে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ব্যায়াম করতে সহায়তা করে। এছাড়া ধীরে ধীরে গরম পরিবেশে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর তাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে, যা ‘হিট অ্যাক্লাইমেটাইজেশন’ নামে পরিচিত।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
তবে শরীরের সতর্ক সংকেত কখনোই উপেক্ষা করা যাবে না। ব্যায়ামের সময় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদ্কম্পন বেড়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করে ঠান্ডা স্থানে গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় সুস্থ থাকতে ব্যায়াম বন্ধ নয়, বরং কখন, কোথায় এবং কীভাবে ব্যায়াম করা হবে—সেই অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন