ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ব্যাটিং নিয়েই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের


অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ব্যাটিং নিয়েই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের

বাংলাদেশ দল গত এক বছর ধরে ব্যাটিংয়ে দুর্বল সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের মধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা দিয়েছে। টাইগাররা আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে। সেখানেও ব্যাটিং ইউনিট যে বড় মাথাব্যথার কারণ হবে তা সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান আগে থেকেই বুঝতে পারছেন।

 

আজ বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকরাম বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। কিন্তু সেখানে তো ব্যাটিং আমাদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা। ধারাবাহিকতায় আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। যদিও বোলিং এখন আমাদের আগের তুলনায় ভালো। যেমন এক সময় আমরা ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করতাম, তেমন এখন বোলাররা অনেক ভালো করছে।'

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ

 

তিনি আরও বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ। তারপর উইকেট भी আমাদের দেশের মতো নয়। এটি অবশ্যই কঠিন হবে। কিন্তু আগে থেকেই কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়, কারণ আমরা তো আগে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি।'

 

জিম্বাবুয়ে সফরে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে আকরাম মন্তব্য করেন, 'একটি সিরিজে প্রথম ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং টেস্টের প্রথম ম্যাচে গিয়ে আমরা বাজেভাবে হেরেছি। সেই সময় মানসিকভাবে আমরা খুব ভেঙে পড়েছি। এরপরও ওয়ানডে ম্যাচগুলোতেও আমাদের পরাজয় হয়েছে। আমার মনে হয় আমরা সময়োপযোগী ক্রিকেট খেলি না, পরিস্থিতির চাহিদা বোঝার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

 

পেসার নাহিদ রানা সম্পর্কে আকরাম জানান, 'আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা কোনো ম্যাচ হারতে চাই না। এই মানসিকতা চাপ সৃষ্টি করছে সব খেলোয়াড়ের জন্য। কর্মকর্তাদের কিংবা খেলোয়াড়দের বলুন। এই কারণে যদি নাহিদ রানা সব ম্যাচে খেলানো হয় এবং আমরা তাকে হারিয়ে ফেলি, তাহলে এটি আমাদের জন্য বিশাল ক্ষতি হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন ফুটপাতে মিলল নবজাতকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ এম


ঢাবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন ফুটপাতে মিলল নবজাতকের মরদেহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হলের পাশে ফুটপাতে একটি নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ কর্তৃক। নবজাতকটির বয়স আনুমানিক এক দিন হতে পারে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৯টার দিকে শাহবাগ থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারক কুমার হালদার নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে এ এফ রহমান হল ও গিয়াস উদ্দিন আবাসিক এলাকার মাঝামাঝি ফুটপাত থেকে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় মরদেহটি একটি সাদা বাজারের ব্যাগের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কেউ মৃত অবস্থায় নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে। এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং সেই সঙ্গে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেহরানকে রপ্তানি থেকে আটকানো হলে গোটা অঞ্চলে তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৬ এম


তেহরানকে রপ্তানি থেকে আটকানো হলে গোটা অঞ্চলে তেল বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কারোর জন্য যদি তেহরান তেল রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কোনো দেশই তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায়, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) এই ‘সবাই অথবা কেউ না’ নীতি স্পষ্ট করেছেন।

গালিবাফ আরো বলেন, ‘এই যুদ্ধের সমীকরণ পরিষ্কার—হয় সবাই, নয়তো কেউই নয়। আমরা যদি তেল বিক্রি করতে পারি না, তাহলে এই অঞ্চলের আর কোনো দেশ তেল বিক্রি করতে পারবে না। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোন অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না। এদিকে মার্কিন বাহিনী যদি উপস্থিত থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

আরো পড়ুন: বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই, ব্রাজিলের কেউ নেই।

ইরানের স্পিকারের এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কঠোর হুঁশিয়ারির পর আসে। ট্রাম্প বলেন, যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, ইরানের সামরিক স্থাপনা, ড্রোন গুদাম, বিমান হ্যাঙ্গার, নৌ সক্ষমতা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সর্বশেষ ৭৫ মিনিটব্যাপী অভিযান চালানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: ধুঁকছে শিল্প ভুগছে গ্রাহক।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালিতে ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য দায়ী ইরান। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র বলেছেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে এবং ওই পথ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু হয়েছে। ইরানের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথে যেকোনো বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরো পড়ুন: সিজেপি আন্দোলন নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সালমান খান।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে দাম কিছুটা কমে প্রায় ৯৩ ডলারে নেমে আসে।

সংঘাত আরো বিস্তৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে।

বিভিন্ন পক্ষের হামলায় হাজারো মানুষ মারা গেছে এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের মানবিক ও সামরিক মূল্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই; নেই ব্রাজিলের কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে স্পেনের তিন, আর্জেন্টিনার দুই; নেই ব্রাজিলের কেউ

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শেষে ভক্তদের ভোটের ভিত্তিতে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ফিফা। এর নাম দেওয়া হয়েছে ড্রিম ইলেভেন বা স্বপ্নের একাদশ।

৪-৩-৩ ফরমেশনের একাদশে প্রত্যাশিতভাবেই সবচেয়ে খেলোয়াড় আছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল স্পেন থেকে। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছেই হেরে স্বপ্নভঙ্গ হওয়া ফ্রান্সেরও তিনজন আছেন।

এ ছাড়া রানার্স আপ আর্জেন্টিনার দুইজন, তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের একজন, এমনকি নরওয়ে ও কেপ ভার্দের একজন করে থাকলেও শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়া ব্রাজিলের কেউ নেই।

স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেও স্বপ্নের একাদশে জায়গা পাননি।

এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশ:

গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)।

রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়োত উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)।

মাঝমাঠ: জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড), রদ্রি (স্পেন), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)।

আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের উপর বর্বর নির্যাতনে উত্তাল গোটা ভারত কি মোদির পতনের পূর্বাভাস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০১ এম


শিক্ষার্থীদের উপর বর্বর নির্যাতনে উত্তাল গোটা ভারত কি মোদির পতনের পূর্বাভাস?

ক্ষমতার একটি অদ্ভুত রোগ আছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদে বসে থাকলে অনেক শাসকই একসময় আয়নাকে শত্রু, প্রশ্নকে ষড়যন্ত্র আর শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বলে ভাবতে শুরু করেন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যঙ্গও সম্ভবত এখানেই—যারা নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করেন, অনেক সময় তারাই সবচেয়ে বেশি ভয় পান হাতে বই ধরা তরুণদের।

ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই পুরোনো ইতিহাসেরই আরেকটি অধ্যায় কি না, সে প্রশ্ন আজ আরও জোরালো হয়ে উঠছে। গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা, পুলিশি অভিযান এবং সংঘর্ষের খবর ভারতের রাজনৈতিক আবহে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মনে করা হয়েছিল, শক্তির প্রদর্শনে প্রতিবাদের আগুন নিভে যাবে। কিন্তু ইতিহাস যেন আবারও ব্যঙ্গ করে বলছে—আগুনকে লাঠি দিয়ে পেটালে তা অনেক সময় ছাই হয় না, দাবানলে রূপ নেয়।

আজ গুজরাট থেকে নাগাল্যান্ড, জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু—ভারতের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছাত্রদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর আলোচনায়। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন, নাকি বহুদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ?

ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টালে দেখা যায়, ক্ষমতার অহংকার প্রায়ই শাসকদের ভুল বার্তা দেয়। তখন তারা ভাবেন, রাষ্ট্র মানেই সরকার, আর সরকার মানেই একজন নেতা। কিন্তু গণতন্ত্রের অভিধানে রাষ্ট্র জনগণের, সরকার কেবল সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। সেই সত্যটি ভুলে যাওয়ার মূল্য বহু দেশকেই দিতে হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহ নানা বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের বাস্তবতা ভিন্ন হলেও একটি মিল বারবার সামনে এসেছে—জনঅসন্তোষকে কেবল শক্তি দিয়ে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সংলাপের জায়গা সংকুচিত হলে ক্ষোভের পরিধি প্রায়ই বাড়তে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরোনো সতর্কবার্তাকেই নতুনভাবে সামনে আনছে। বিরোধী মতকে প্রতিপক্ষ আর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হতে পারে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, শাসকের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মানুষের নীরবতাকে সমর্থন ভেবে নেওয়া। আর তার একমাত্র পরিণতি হয়েছে ক্ষমতার পতন অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।

ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। মুকুট যত ভারী হয়, তার পতনের শব্দও তত দূর পর্যন্ত পৌঁছায়—এ কথাটি ইতিহাস বহুবার লিখেছে। তাই ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ, নানা প্রশ্ন এবং নানা আশঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে।

নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তার সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের জনগণই। তবে এটুকু বলা যায়, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের উত্তরে যদি সংলাপের বদলে দমন-পীড়ন-ই প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে, তাহলে ইতিহাস সাধারণত শাসকদের পক্ষে খুব উদার থাকে না বরং তা নির্মম পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।


ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ব্যঙ্গ হলো—যে শাসক মনে করেন তিনি ইতিহাস লিখছেন, অনেক সময় শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই তাঁকে লিখে ফেলে নির্মম এবং সত্যভাবে - এমন কথা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বলা অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%