প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্ষমতার একটি অদ্ভুত রোগ আছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদে বসে থাকলে অনেক শাসকই একসময় আয়নাকে শত্রু, প্রশ্নকে ষড়যন্ত্র আর শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বলে ভাবতে শুরু করেন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যঙ্গও সম্ভবত এখানেই—যারা নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করেন, অনেক সময় তারাই সবচেয়ে বেশি ভয় পান হাতে বই ধরা তরুণদের।
ভারতের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই পুরোনো ইতিহাসেরই আরেকটি অধ্যায় কি না, সে প্রশ্ন আজ আরও জোরালো হয়ে উঠছে। গত দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমনমূলক ব্যবস্থা, পুলিশি অভিযান এবং সংঘর্ষের খবর ভারতের রাজনৈতিক আবহে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মনে করা হয়েছিল, শক্তির প্রদর্শনে প্রতিবাদের আগুন নিভে যাবে। কিন্তু ইতিহাস যেন আবারও ব্যঙ্গ করে বলছে—আগুনকে লাঠি দিয়ে পেটালে তা অনেক সময় ছাই হয় না, দাবানলে রূপ নেয়।
আজ গুজরাট থেকে নাগাল্যান্ড, জম্মু-কাশ্মীর থেকে তামিলনাড়ু—ভারতের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে ছাত্রদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর আলোচনায়। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন, নাকি বহুদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ?
ইতিহাসের পাতাগুলো উল্টালে দেখা যায়, ক্ষমতার অহংকার প্রায়ই শাসকদের ভুল বার্তা দেয়। তখন তারা ভাবেন, রাষ্ট্র মানেই সরকার, আর সরকার মানেই একজন নেতা। কিন্তু গণতন্ত্রের অভিধানে রাষ্ট্র জনগণের, সরকার কেবল সাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। সেই সত্যটি ভুলে যাওয়ার মূল্য বহু দেশকেই দিতে হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহ নানা বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। প্রত্যেক দেশের বাস্তবতা ভিন্ন হলেও একটি মিল বারবার সামনে এসেছে—জনঅসন্তোষকে কেবল শক্তি দিয়ে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সংলাপের জায়গা সংকুচিত হলে ক্ষোভের পরিধি প্রায়ই বাড়তে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরোনো সতর্কবার্তাকেই নতুনভাবে সামনে আনছে। বিরোধী মতকে প্রতিপক্ষ আর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে কেবল আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে রাজনৈতিক সংকট আরও জটিল হতে পারে। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, শাসকের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মানুষের নীরবতাকে সমর্থন ভেবে নেওয়া। আর তার একমাত্র পরিণতি হয়েছে ক্ষমতার পতন অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।
ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। মুকুট যত ভারী হয়, তার পতনের শব্দও তত দূর পর্যন্ত পৌঁছায়—এ কথাটি ইতিহাস বহুবার লিখেছে। তাই ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিশ্লেষণ, নানা প্রশ্ন এবং নানা আশঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে।
নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তার সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের জনগণই। তবে এটুকু বলা যায়, গণতন্ত্রে প্রতিবাদের উত্তরে যদি সংলাপের বদলে দমন-পীড়ন-ই প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে, তাহলে ইতিহাস সাধারণত শাসকদের পক্ষে খুব উদার থাকে না বরং তা নির্মম পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন