০৪:৪৪ পি.এম
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি এবং পদায়নে লটারির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, লটারি শুরুর আগেই ঢাকা জেলার বক্সে ৪১ জন প্রকৌশলীর নাম ঢোকানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে, কিছু ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম ও বদলি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম নির্দিষ্ট বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের পছন্দের কর্মকর্তাদের ঢাকা মেট্রো এলাকার বক্সে রাখার মাধ্যমে লটারির ফলাফলকে প্রভাবিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ নিয়ে গণপূর্তের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
যাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়ন নিয়ে বিশেষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মেহবুবুর রহমান: তার নিজ জেলা ঢাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, রমনা-১ থেকে আজিমপুর-পিলখানায় পদায়ন করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—নিজ জেলা ঢাকা এবং বর্তমান কর্মস্থলও ঢাকার মধ্যে থাকার পর আবার ঢাকাতেই পদায়নের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো?
আরও পড়ুন: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লবের ডাক দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে
সৌরভ রায়: তার নিজ জেলা ময়মনসিংহ। অভিযোগ রয়েছে, শেরে বাংলা নগর মেডিকেল থেকে তাকে সাভারে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগেই তার নাম ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
আসাদুজ্জামান সাদ: তার নিজ জেলা টাঙ্গাইল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাইকোর্ট সাব-ডিভিশন থেকে তেজগাঁও সাব-ডিভিশনে পদায়ন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ঢাকায় কর্মরত থাকার পরও কেন তাকে ঢাকার বাইরে লটারির আওতায় নেওয়া হয়নি?
এ এস এম সাখাওয়াত ইসলাম (সোহেল): তার নিজ জেলা বগুড়া। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এর আগে ঢাকা ডিভিশন-৪ ও শেরে বাংলা নগর এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে গাজীপুর থেকে মিরপুরে পদায়নের তথ্য সামনে এসেছে। এ নিয়েও লটারির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
রেজাউল করিম মিঠু: তার নিজ জেলা ফরিদপুর। অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি শেরে বাংলা নগর ও মহাখালীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মতিঝিল থেকে গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ সদস্য দগ্ধ
এজাজ আহমেদ খান: তার নিজ জেলা নেত্রকোনা। অভিযোগ রয়েছে, তার লটারি ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় হওয়ার কথা থাকলেও লটারির আগে তাকে ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে স্থানান্তর করা হয়। পরে শেরে বাংলা নগর উপবিভাগ-৮ থেকে ধানমন্ডিতে পদায়নের তথ্য সামনে এসেছে।
আসরাফুল আউয়াল রানা: তার নিজ জেলা জামালপুর। অভিযোগ অনুযায়ী, তারও ময়মনসিংহ বিভাগে লটারির আওতায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু লটারির আগেই ঢাকা মেট্রোজোনের বক্সে নাম স্থানান্তর করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে সাভার থেকে মতিঝিলে পদায়ন করা হয়েছে।
আরও বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে ৫৫ ও ৬০ নম্বরের কর্মকর্তাদের নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকার ৫৫ ও ৬০ নম্বর ক্রমিকের কয়েকজন কর্মকর্তার নিজ জেলায় নাম ওঠার পরও তাদের সেখানে পদায়ন করা হয়নি। বরং নাম কেটে পাশের জেলায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, যেসব কর্মকর্তার নিজ জেলা ও বর্তমান কর্মস্থল—দুটিই ঢাকা, তাদের আবারও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পদায়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ অবস্থায় প্রকৌশলীদের প্রশ্ন হচ্ছে—যদি লটারিই বদলি ও পদায়নের মূল ভিত্তি হয়, তাহলে লটারির আগে কোনো কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট বক্সে স্থানান্তরের সুযোগ কেন থাকবে?
আরও পড়ুন: হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তারসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন
গণপূর্ত অধিদপ্তরের লটারিভিত্তিক বদলির অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বদলি বাণিজ্য বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যদি লটারির আগেই কোনো কর্মকর্তার নাম নির্দিষ্ট এলাকার বক্সে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অভিযোগকারীরা বলছেন, লটারির আগে কোন কর্মকর্তা কোন বক্সে ছিলেন, কার নাম কখন স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের অনুমোদন কে দিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। তাদের দাবি, লটারির মূল তালিকা, বক্সভিত্তিক কর্মকর্তাদের তালিকা এবং লটারির আগে-পরে করা পরিবর্তনের রেকর্ড প্রকাশ করা হোক।
এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন তা হলো—লটারির আগে কি সত্যিই ৪১ জনের নাম ঢাকা জেলার বক্সে স্থানান্তর করা হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, কোন নীতিমালার অধীনে এবং কার অনুমোদনে এই পরিবর্তন করা হয়েছিল? নিজ জেলা বা নিজ বিভাগের বাইরে থাকার কথা থাকলেও কিছু কর্মকর্তাকে কেন ঢাকা মেট্রোর আওতায় রাখা হলো? আর নিজ জেলায় নাম ওঠার পরও কেন কিছু কর্মকর্তাকে অন্য জেলায় পদায়ন করা হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেই বোঝা যাবে—গণপূর্তের লটারি ব্যবস্থা সত্যিই পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল, নাকি লটারির আগেই তৈরি হয়েছিল পছন্দের কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা হিসাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন