বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নানা পাটেকারের আকস্মিক মৃত্যুতে। ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ অক্টোবর তিনি মারা যান। গোয়ার বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকদের একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে তাকে দোনা পাউলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকার নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে পর্দার বাইরেও তার জীবন ছিল নানা সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্যে ভরা। শৈশবের আর্থিক সংকট থেকে শুরু করে থিয়েটার, সংসার, কৃষিকাজ, রান্না ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা—নানার ব্যক্তিজীবনের এমন অনেক অধ্যায় রয়েছে, যেগুলো হয়তো অনেকেরই অজানা।
১. আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার
নানা পাটেকারের আসল নাম ছিল বিশ্বনাথ পাটেকর। তিনি ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুড-জঞ্জিরায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় পাওয়া ‘নানা’ ডাকনামটিই পরে তার পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে যায়।
দুই ভাই অশোক ও দিলীপের সঙ্গে শৈশব কাটে তার। পরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইয়ে চলে যান। শৈশবটা খুব একটা সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন নানা। পরবর্তী সময়ে ভারতের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হয়ে উঠলেও নিজের শৈশবের সেই সাধারণ জীবনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল গভীর।
২. ১৩ বছর বয়সেই শুরু হয়েছিল কাজ
অভিনেতা হওয়ার অনেক আগে থেকেই জীবিকার জন্য কাজ করতে হয়েছিল নানাকে। প্রায় ১৩ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার পাশাপাশি মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টি এলাকায় সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজ শুরু করেন তিনি।
সেই কাজ থেকে মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করতেন। কর্মস্থলে যেতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো তাকে। পোস্টার আঁকার পাশাপাশি জেব্রা ক্রসিং আঁকার কাজও করেছেন তিনি।
পরে এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, সেই বয়সের ক্ষুধা, অভাব ও অপমান তাকে জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তার অভিনয় শেখার ক্ষেত্রেও বাস্তব জীবনের সেই অভিজ্ঞতার বড় ভূমিকা ছিল।
৩. তৃতীয় শ্রেণি থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয়
বলিউডে পা রাখার বহু আগেই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল নানার। পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময়ই গ্রামের নাটকে অংশ নিতেন।
পরিবারে থিয়েটারের বিশেষ কোনো পরিবেশ ছিল না। শুরুতে এ পথে তাকে উৎসাহ দেওয়ার মতো কেউও ছিলেন না। কিন্তু নিজের আগ্রহে অভিনয় চালিয়ে যান নানা। পরবর্তী সময়ে মারাঠি থিয়েটারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। সেই থিয়েটারই তার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।
৪. স্ত্রী ছিলেন তার সংগ্রামের সময়ের সঙ্গী
১৯৭৮ সালে নীলকান্তি পাটেকারকে বিয়ে করেন নানা। নীলকান্তি তখন ব্যাংকে চাকরি করতেন এবং নানার তুলনায় আর্থিকভাবে কিছুটা স্বচ্ছল ছিলেন।
নানার অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে থিয়েটার থেকে আয় ছিল খুবই কম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, একটি নাটকের জন্য প্রায় ৫০ রুপি পেতেন তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রী মাসে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রুপি আয় করতেন।
নানা নিজের পছন্দের কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেই সময় নীলকান্তি তাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি যে কাজ বিশ্বাস করেন সেটিই যেন করে যান, একসময় সেখান থেকেই টাকা আসবে।
পরবর্তী সময়ে দুজন আলাদা থাকলেও তাদের আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি।
৫. আড়াই বছর বয়সে মারা যায় বড় ছেলে
নানার ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে কষ্টের অধ্যায়গুলোর একটি ছিল বড় ছেলে দুর্বাসার মৃত্যু। প্রায় আড়াই বছর বয়সে মারা যায় তার ছেলে। জন্মের পর থেকেই দুর্বাসা অসুস্থ ছিল এবং তার বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল বলে জানা যায়। এর মধ্যে একটি চোখের সমস্যাও ছিল। বহু বছর পর নিজের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা স্বীকার করেছিলেন, সন্তানের অসুস্থতার সময় তিনি প্রথম দিকে সন্তানের কষ্টের চেয়ে মানুষ কী ভাববে, সেটি নিয়ে বেশি চিন্তা করতেন। এই উপলব্ধিও তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
দুর্বাসার মৃত্যুর পর নানা ও নীলকান্তির আরেক ছেলে হয়। তার নাম মালহার পাটেকার।
৬. দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খেতেন
একসময় ধূমপানের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিলেন নানা পাটেকার। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দিনে ৬০টি পর্যন্ত সিগারেট খেতেন।
দিনের প্রায় সব সময়ই ধূমপান করতেন তিনি। এমনকি গোসলের সময়ও সিগারেট খাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন নানা। একপর্যায়ে তার গাড়িতে সিগারেটের গন্ধ এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে মানুষ সেখানে বসতেও চাইত না বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
তবে ৫৬ বছর বয়সে হঠাৎ করেই ধূমপান ছেড়ে দেন নানা। ২০১২ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এক সকালে ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধান্ত নেন—আর সিগারেট খাবেন না।
৭. অভিনয়ের পাশাপাশি রান্নাও ছিল তার পছন্দ
সিনেমার বাইরের জীবনে রান্না করা ছিল নানার অন্যতম পছন্দের কাজ। শুধু রান্না করাই নয়, অন্যদের খাওয়াতেও তিনি আনন্দ পেতেন।
২০১৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, শুটিংয়ের সময় কখনো কখনো পুরো চলচ্চিত্রের ইউনিটের জন্য রান্না করতেন তিনি। একটি ইউনিটে প্রায় ১১০ জন থাকলেও তাদের জন্য রান্না করার অভিজ্ঞতা ছিল তার।
রান্নার প্রতি নিজের ভালোবাসা নিয়ে নানা এমনও বলেছিলেন যে, অভিনেতার চেয়ে তিনি নিজেকে ভালো রাঁধুনি মনে করেন।
৮. কৃষিকাজের সঙ্গে ছিল গভীর সম্পর্ক
চলচ্চিত্রের ব্যস্ত জীবনের বাইরে কৃষিকাজের প্রতিও নানার ছিল গভীর আগ্রহ। মহারাষ্ট্রের সিংহগড় দুর্গের কাছে তার একটি খামার ছিল।
সেখানে ধান, বাদাম, রসুন ও পেঁয়াজ চাষ করতেন তিনি। কৃষিকাজের সঙ্গে তার এই সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
খরাপ্রবণ মহারাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় তার প্রতিষ্ঠিত নাম ফাউন্ডেশন কাজ করেছে।
৯. সিনেমার চরিত্রের বাইরেও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক
সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বাস্তব জীবনেও সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন নানা পাটেকার।
১৯৯১ সালের ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যোগ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে টেরিটোরিয়াল আর্মিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে কমিশন পান এবং মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ও তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের সেবা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১০. ছেলেকে সরাসরি অভিনেতা বানাননি
নানার ছেলে মালহার পাটেকারেরও চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ ছিল। তবে বাবার তারকা পরিচয় ব্যবহার করে তাকে সরাসরি অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথে হাঁটেননি নানা।
জানা যায়, নানা নিজেই পরিচালনা করছিলেন ‘আব তাক ছাপ্পান’-এর একটি সিক্যুয়েল। সেখানে মালহারের অভিনয়ের সুযোগ তৈরি হলেও নানা সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
পরে মালহার অভিনয়ের বদলে চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে এগিয়ে যান। তিনি পরিচালক রামগোপাল ভার্মার সঙ্গে সহকারী হিসেবেও কাজ করেন।
শৈশবের আর্থিক সংকট থেকে থিয়েটারে পথচলা, সংসার ও ব্যক্তিগত শোক, রান্না ও কৃষিকাজের প্রতি ভালোবাসা—নানা পাটেকারের জীবন তাই শুধু পর্দার সাফল্যের গল্প নয়। সংগ্রাম ও নিজের পছন্দের কাজের প্রতি নিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছিল তার আলাদা পরিচয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়া জেলায় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন নতুন রোগীদের ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটছে। যদিও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৩৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত রোববার সকাল ৭টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জন আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্ত রোগীদের সবাই বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আলোচ্য ২৪ ঘণ্টায় জেলার কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর পাওয়া যায়নি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৭ জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে ৬ জনকে রেফার করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মিরপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত ৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২ জন। এছাড়া খোকসায় ৪০ জন, কুমারখালীতে ৩৭ জন, ভেড়ামারায় ৩৪ জন এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের তুলনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আলাদা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেখানকার ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ জন।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই একমাত্র কার্যকর উপায়। তারা বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করার, দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের এবং জ্বর হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত নুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। পৃথক দুই ধারায় তাঁকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মারুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্প এলাকার মৃত হাবিবর রহমানের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নুর ইসলাম দুই শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। ঘটনার পরদিন এক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হলে এবং অন্য শিশুর তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
পরে এক শিশুর মা বাদী হয়ে কাহালু থানায় মামলা করেন। পুলিশ দুই শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে কাহালু থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ নুর ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং দুই শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আদালত সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আসামিকে পৃথক দুইটি সাজায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী একটি সাজা ভোগের পর অপর সাজা কার্যকর হবে।
তিনি আরো জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার ১ লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করা হবে। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের সাহিত্য বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার 'নোবেল পুরস্কার' অর্জন করেছেন কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন। ৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক তার সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন, যা কবিতা, কথাসাহিত্য এবং গবেষণার সীমানাকে একত্রিত করেছে।
সুইডিশ একাডেমি তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়ে জানায়, "ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সাথে প্রাণবন্ত সংলাপে লিপ্ত হয়ে সমসাময়িক সাহিত্যের নতুন রূপ তৈরি করার মতো সাহসী ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ" তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে তিনি ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) পাবেন।
সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিদ কার্লবার্গ ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে ফোনে কার্সনকে বিজয়ের খবরটি জানান। প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কার্লবার্গ বলেন, "সংবাদটি শুনে তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন, তবে তার কণ্ঠে উপচে পড়া আনন্দ আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে জানান যে, এই মুহূর্তে তিনি আইসল্যান্ডে অবস্থান করছেন এবং সেখানকার প্রাকৃতিক বাতাস উপভোগ করছেন।"
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসন কার্সনের লেখার প্রশংসা করে বলেন, "তিনি সনাতন ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিক লিরিক্যাল কবিতা ভেঙে সমসাময়িক সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তার এই রচনারীতি ধ্রুপদী ও আধুনিক কবিতার সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন সাহিত্য শাখা এবং শিল্পরূপকে এক অনন্য মেলবন্ধনে আবদ্ধ করেছে।"
অ্যান কার্সন পেশাগত জীবনে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে 'ক্লাসিকস' বা ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপনা করছেন। একই সাথে তিনি প্রাচীন গ্রীক সাহিত্য অনুবাদের কাজেও বিশেষভাবে খ্যাত। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে— দ্যা গ্লাস এসে (The Glass Essay), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (Autobiography of Red), নক্স (Nox), ফ্লোট (Float) এবং দ্যা বিউটি অব দ্যা হাজবেন্ড (The Beauty of the Husband)। সূত্র: বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন মাতুব্বরের পিতা রফেজ উদ্দিন কালু মাতুব্বর বার্ধক্যজনিত কারণে গতকাল রাতে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
রফেজ উদ্দিন কালু মাতুব্বরের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ এক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, "দরফেজ উদ্দিন কালু মাতুব্বরের মৃত্যুতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি গভীর শোক ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, মরহুম রফেজ উদ্দিন কালু মাতুব্বর ছিলেন একজন পরোপকারী, পরহেজগার ও সজ্জন মানুষ, যিনি প্রতিবেশীদের নিকট সুপরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। তিনি দোয়া করেন, "মহান রাব্বুল আলামীন যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।"
শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রফেজ উদ্দিন কালু মাতুব্বরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ