ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পে-স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির ৫ সিদ্ধান্ত


পে-স্কেল বাস্তবায়নে সচিব কমিটির ৫ সিদ্ধান্ত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এই বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে বৈঠকে পাঁচটি প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণ।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে, তবে ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর গণ্য হবে। পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে। বলা হচ্ছে, প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাত্র দুই ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা দ্রুততম সময়ে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ সুবিধা পাবেন।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

আর্থিক চাপ বিবেচনায়, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

পে-স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো ধরনের আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সেজন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশনের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল করার জন্য একটি কারিগরি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক এবং আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার সংসদে কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


এবার সংসদে কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কে সরকারি ও বিরোধীদলের এমপিরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন। প্রথমে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মুহাম্মাদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, বিরোধীদলের লোকেরা আমাদের কাছে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাজেটে বরাদ্দ চাইবেন, আবার তারা রাজপথে বিক্ষোভও করবেন। এই কারণে আমি আল কোরআনের একটি আয়াত বলতে চাই। তিনি কোরআনের সুরা ইবরাহিমের আয়াত তেলাওয়াত করে অর্থ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন।’

অর্থ হিসেবে তিনি আরও বলেন, বাজেটের জন্য শুকর করতে হবে। বরাদ্দের জন্য শুকর করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য শুকর করতে হবে। বিরোধীদলের লোকেরা শুকর করে না।

উত্তরে পাবনা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, তাদের (সরকারি দলের) প্রশংসা করলে তারা আরো বাড়িয়ে দেবেন, আর প্রশংসা না করলে কি তারা আমাদের পিটাবেন? এটা আসলে কোরআনের আয়াতের খুব ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আমি বিতর্কে যেতে চাচ্ছি না। আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ একজন মাওলানা। তিনি যে আয়াতটি বলেছেন, সেটি প্রসঙ্গক্রমে বলেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তো আমার আজাব বড় কঠিন। এখন এটা কেন রাজনৈতিকভাবে বিতর্ক হবে। ৯২ শতাংশ মুসলিমের দেশে সংসদে যদি কোনো নেতা ভুলক্রমেও ইসলামের প্রতি অবমাননাকারী বক্তব্য দেন তাহলে আমরা অবশ্যই তার নিন্দা করবো। তবে এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই বছরে চালু হয়নি ৩১ কোটি টাকার হাসপাতাল, বিপাকে ৫ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


দুই বছরে চালু হয়নি ৩১ কোটি টাকার হাসপাতাল, বিপাকে ৫ লাখ মানুষ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে যে নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, তা অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে, উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে কাজের মাত্র ৫৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শাকিল হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও, এখনও প্রায় ৭ কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিল আটকে আছে। পাওনা অর্থ না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এই প্রসঙ্গে পিরোজপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের ওপির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন করে ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে এবং নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, পূর্বের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, কনসালটেন্ট ল্যাবরেটরি, লিফট, ইউএইচএফপিও কোয়ার্টার, স্টাফ ডরমেটরি, অক্সিজেন ভবন, গ্যারেজ কোয়ার্টার, সাবস্টেশন, অভ্যন্তরীণ সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মূল ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাই পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বর্তমানে একটি পুরোনো কোয়ার্টারে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিনহা বলেন, অবকাঠামোগত সংকটের কারণে রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় স্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবী, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু না করলে হাসপাতাল ভবনটি চালু হবে না এবং উপজেলার লাখো মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য জেলা সদর কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা তাদের জন্য বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ সাপাহার সীমান্তে পুশইন চেষ্টার পর শূন্যরেখায় আটকা পড়েছে শিশুসহ ৯ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


নওগাঁ সাপাহার সীমান্তে পুশইন চেষ্টার পর শূন্যরেখায় আটকা পড়েছে শিশুসহ ৯ জন

 

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার পর শূন্যরেখায় আটকা পড়েছে শিশুসহ ৯ জন। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আদাতলা সীমান্তের উত্তর পাতাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাধা মুখে ১২ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে তারা। তাদের মধ্যে ৩ শিশু, ৩ নারী ও ৩জন পুরুষ রয়েছেন।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরের দিকে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জনকে বাংলাদেশের ভেতর ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবির আদাতলা বিওপির একটি টহল দল তাদের বাধা দেয়। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছে।

এদিকে পুশইন চেষ্টার পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শূন্যরেখায় আটকা ৯ জনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে তারা প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফের একটি দল বিজিবি সদস্যদের জানিয়ে গেছে, শূন্যরেখায় থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি, তাদের বাংলাদেশের ভেতর নিয়ে যেতে বলেছেন তাদের কোম্পানি কমান্ডার (সিও)। তবে এই দাবিতে সাড়া না দিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে শিশুসহ ৯ জন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তিনটি শিশুও আছে। খাবার ও পানি কিছুই নেই তাদের সঙ্গে। এই কড়া রোদে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুতই যেন এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, পুশইন চেষ্টার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজেপির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর শূন্যরেখায় থাকা লোকদের ব্যাপার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফারহানের বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফারহানের বাবা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া। ২৪ জুন, ২০২৬ তে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৯ জনকে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

গত ১০ মে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার 'আনুষ্ঠানিক অভিযোগ' গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। বিচারকাজ ১৫ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিগতকাল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

ফারহান ফাইয়াজ ছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সাক্ষ্যে শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে ফারহান বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। সেখানে সে বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং ধানমণ্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে মিছিল নিয়ে অবস্থান নেয়। ফারহান ও তার বন্ধুরা নিরস্ত্র ছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়।

পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। দুপুর আড়াইটার দিকে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়। সাক্ষী বলেন, 'তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক আমাকে ফোন করে জানান যে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি তখন মালিবাগে আমার অফিসে ছিলাম।' তাঁর ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি সেই মুহূর্তে প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

সাক্ষী জানান, লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি ফারহানের ভয়াবহ অবস্থা দেখেন। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে তিনি দেখতে পান ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। এক পর্যায়ে ডাক্তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফারহানের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন।

সাক্ষী আরো বলেন, 'তাতে আমি বুঝলাম আমার ছেলে আর নেই।' হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃত্যুর সনদে লেখা ছিল তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। হাসপাতালের পিছনের গেট দিয়ে ফারহানের লাশ নিয়ে আল মারকাজুল লাশ দাফন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফারহানের লাশের গোসল দেওয়ার পর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রথম নামাজে জানাজা হয়। জানাজার পর লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বের হন।

তবে পথে প্রথমে রাজধানীর কাকরাইল মোড় ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, 'তারা সম্ভবত লাশটা নিয়ে যেতে চেয়েছিল।' গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাদের স্থানীয় আওয়ামী বাহিনী লাশ দাফনের জন্য মাত্র ৪০ মিনিট সময় দিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে বরপা সামাজিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া জানান, 'আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।'

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।

২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%