০৩:৪৯ পি.এম
বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম দখলের বিষয়ে বক্তব্য রাখার মাধ্যমে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের শিক্ষক এবং ইউটিউবার ফয়সাল খান, যিনি ‘খান স্যার’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি, তার কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনার কারণে নিজেই আইনি ঝামেলায় নাকাল হয়ে পড়েছেন তিনি। আলোচিত এই ইউটিউবার ও শিক্ষকের যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার (৫ মে) এনডিটিভিসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে পাটনায় তার কোচিং সেন্টারে হামলার সময়, খান স্যারের নিরাপত্তা রক্ষীরা গুলি চালানোর জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ মে) পুলিশ দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
গত মঙ্গলবার রাতে খানের কোচিং সেন্টার, খান গ্লোবাল স্টাডিজ ইনস্টিটিউটে হামলা চালানো হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ১৫-২০ জনের একটি দল ইনস্টিটিউটটিতে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং পাথর ছুঁড়ছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই নিরাপত্তারক্ষী শূন্যে গুলি চালাচ্ছে। পরে পুলিশ গুলিবর্ষণের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো জব্দ করে।
ঘটনার পরপরই, খান স্যারের আরেকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের তথ্য জানা যায়। ‘খান স্যার’ অভিযোগ করেন, জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারের লোকজনই এই গুলিবর্ষণের পেছনে ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা ব্যাপক ভাঙচুর করেছে, আমাদের নিরাপত্তারক্ষীকে প্রচণ্ড মারধর করেছে এবং গুলিও চালিয়েছে। তাদের মূল ক্ষোভ হলো, কীভাবে কেউ এত কম খরচে ছাত্রদের পড়িয়েও প্রতি বছর ভালো ফলাফল এনে দিতে পারে?’
তবে, হামলার সময় গুলিও চালানো হয়েছে তার এমন মন্তব্য থেকে খান স্যার সরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, গুলি চালানো হয়েছে কিনা, তা কেবল পুলিশি তদন্তই নিশ্চিত করতে পারবে। এই ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের পরিচালক রোশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, অভিযোগের বিনিময়ে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, খান নিজেই এই ঘটনা সাজিয়েছিলেন।
পুলিশি তদন্তে গুলি চালানোর কোনও প্রমাণ পায়নি। অভিযোগের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, খান দাবি করেছিলেন তার সামনে ৭-৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে, যা কেবল মিথ্যা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা। ইতোমধ্যে, পুলিশ খান স্যারকে তার কোচিং সেন্টারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই পরিস্থিতির কারণে যে কোনো সময় খান স্যার গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ জানায়, জ্ঞান বিন্দু কোচিংয়ের পরিচালকের নির্দেশে তার কর্মী ও অন্যান্যরা খান স্যারের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। পরে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
হামলার দিন রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি গুলি চালানোর একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। তখন খান স্যারের কোচিং সেন্টারের কর্মীরা তাকে মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলতে জোর করেছিল। তবে সেটি কোনোভাবে পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে খান স্যারের দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে গুলি চালাতে দেখা যায়। ভিডিওটি পুলিশ কর্তৃক নজরে আসার পর মামলাটির মোড় সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। পাটনা পুলিশ গুলি চালানোর অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাদের অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং লাইসেন্স যাচাই করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খান স্যারের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা বাড়ছে।
এদিকে, কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খান স্যারের অতীত বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে মারাত্মক হুমকি প্রদর্শন করেছিলেন।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে, বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম নিয়ে খান স্যার বলেছিলেন, ‘আমরা যদি বাংলাদেশের রংপুর নামের জেলাটির দিকে তাকাই—যদি এই রংপুর দখল করে নেওয়া হয়, তবে পুরো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদি আমরা এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করি, তবে পথটি চওড়া এবং সমান হয়ে যাবে। আমাদের যাতায়াতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না; আমাদের যে সরু ঘাড় (চিকেনস নেক) ছিল, তা চওড়া হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নিয়ে একই ভিডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পরেই সমুদ্র শুরু হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই সামান্য অংশটুকু দখল করে নিচে নেমে যাই, তবে ত্রিপুরা সরাসরি সমুদ্র পেয়ে যাবে। তাহলে আমরা কেন মেঘালয়কে ‘গ্রেটার মেঘালয়’ এবং ত্রিপুরাকে ‘গ্রেটার ত্রিপুরা’ বানিয়ে দিচ্ছি না? খেলা খতম। ইন্ডিয়ান আর্মির এই ভূখণ্ডের কোথায় কী আছে সে বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং ধারণা রয়েছে। তারা সহজেই এলাকাটি ঘিরে ফেলতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের ‘চট্টগ্রাম’ বিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, এরপর এখানে বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও শেষ হয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন