ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলানোর কথা বললেন ট্রাম্প


এবার আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম বদলানোর কথা বললেন ট্রাম্প

একটি উপসাগরের নাম বদলেছেন। এবার একটি হ্রদের নামও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এতেই থামতে চাইছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার আটলান্টিক মহাসাগর কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে লেক ওন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানেই দুই মহাসাগরের নাম বদলের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গালফ অব মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে গালফ অব আমেরিকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এখন একটি উপসাগর আছে এবং একটি হ্রদও আছে। এখন শুধু একটি মহাসাগর দরকার। তাই হয়তো আটলান্টিক অথবা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করতে হবে। হয়তো দুটোর নামই বদলে দেব।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার সময় আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই তাঁর প্রশাসনের একের পর এক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে।

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে বলেও সমালোচনা রয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। দেশ বদলানোর প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিভিন্ন স্থাপনা, কর্মসূচি ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনে তিনি বেশ সক্রিয়।

গালফ অব মেক্সিকো এবং লেক ওন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ছাড়াও গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবন, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের একটি পরিকল্পিত শ্রেণি, ধনী বিদেশিদের জন্য একটি ভিসা কর্মসূচি, সরকার পরিচালিত প্রেসক্রিপশন ওষুধের একটি ওয়েবসাইট এবং শিশুদের জন্য ফেডারেল সেভিংস অ্যাকাউন্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতীক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার চেষ্টা করে আসছেন ট্রাম্প।

এবার সেই তালিকায় আটলান্টিক কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের নামও যুক্ত হতে পারে কি না, ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের পর সেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?

সূত্র: ফক্স নিউজ 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নর্দানকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান ধরে রেখে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


নর্দানকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান ধরে রেখে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ

নর্দানকে পরাজিত করে শীর্ষস্থান ধরে রেখে সেমিফাইনালে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।

জয়ের সম্ভাবনা ছিল হাতের মুঠোয়। কিন্তু হঠাৎ করেই পুরনো সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

শেষের দিকে উইকেট হারানোর সমস্যা বাংলাদেশকে আক্রমণ করে। আজ ডারউইনে বাংলাদেশ এইচপির ব্যাটারদের ওপর এই সমস্যা প্রভাব ফেলেছিল।

এতে করে নাটকীয় পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি।

নর্দান টেরিটোরি স্ট্রাইককে ৩ উইকেটে পরাজিত করে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। ১০ বল বাকি থাকতে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেছেন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। টানা দ্বিতীয় জয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের দল। ৬ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে ২২ রান করে শুরুতে ভিত্তি গড়ে দেন হাবিবুর রহমান সোহান। তিনে নেমে সহজ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু টানা দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়ার ঠিক আগে আউট হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ধাক্কা খায়। কারণ ব্যক্তিগত ৪৭ রানে সাব্বির বিদায় নিতেই দ্রুত আরও ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে সমান এক ছক্কা ও চারে ৮ বলে ১৭ রান করে জয়ের কাজ সহজ করে দেন সামিউন বশির।

 

বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের কাজ শেষ করেন ৬ রানে অপরাজিত থাকা সাকলাইন।

তবে জয়ের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অফস্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। নর্দান টেরিটোরিকে ১৪৩ রানে আটকে দেওয়ার পথে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। রান খরচ করেছেন মাত্র ২১। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের ২০ বছর বয়সী স্পিনার। তার ধারে কাছেও কেউ নেই। ১১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন নর্দানের হামিশ মার্টিন। প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেছেন জর্ডান সিল্ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুগন্ধা বিচের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবি বাপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


সুগন্ধা বিচের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ বন্ধের দাবি বাপার

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে জয়িতা টাওয়ারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

সমাবেশে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার ও সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ এবং বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান। কর্মসূচি পরিচালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির।

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয় বাপার পক্ষ থেকে।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সুগন্ধা বিচসহ সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান রাস্তা নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করা, হাইকোর্টের রায় ও নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করা।

এছাড়া, বালিয়াড়িতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। বালিয়াড়ি ও সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্রসহ উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কক্সবাজারে অবৈধভাবে টিলা ও পাহাড় কাটা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বাপার কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. জাফর আলম দিদার মন্তব্য করেন, কক্সবাজারের বালিয়াড়ি শুধুমাত্র সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও শক্তিশালী ঢেউয়ের বিরুদ্ধে উপকূলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একইসাথে এটি সামুদ্রিক কাঁকড়া, কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।

তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে বালিয়াড়ি কেটে রাস্তা বা স্থাপনা নির্মাণ করা হলে উপকূলীয় ভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পর্যটন পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন বলেন, সাময়িক উন্নয়নের নামে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হলে এর ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়।

নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব মন্তব্য করেন, বালুর ওপর রাস্তা নির্মাণ একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প।

এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থ থাকতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নের নামে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত নয়।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তিনি অবিলম্বে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করার দাবি জানান।

সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বালিয়াড়ি সামুদ্রিক কাঁকড়া ও কচ্ছপের প্রজননক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও বালিয়াড়ি ধ্বংসের কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, সাধারণত শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে কী ধরনের মালামাল পরিবহন করা হবে, তা জনগণের জানা প্রয়োজন।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসসের নতুন এমডি কাদের গনি চৌধুরীকে খুলনা এমইউজে’র অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


বাসসের নতুন এমডি কাদের গনি চৌধুরীকে খুলনা এমইউজে’র অভিনন্দন

খুলনা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন খুলনা মহানগর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) নেতারা। 

আজ এক বিবৃতিতে খুলনা এমইউজে’র সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক রানা বলেন, বাসসের নতুন এমডি মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীর পেশাগত অভিজ্ঞতা, সততা এবং দক্ষতা দেশের গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।

এমইউজে নেতারা মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীর সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডাকে জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত করে দিচ্ছেন ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


কানাডাকে জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত করে দিচ্ছেন ট্রাম্প!

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে আমেরিকা-কানাডা সম্পর্কটি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে ৮ হাজার ৮৯১ কিলোমিটারের বিশ্বের দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবরই সম্পূর্ণ অরক্ষিত বা সামরিকায়নমুক্ত। দুই দেশের নাগরিকরা অবাধে যাতায়াত করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা কানাডাকে তাদের সবচেয়ে পছন্দের দেশগুলোর একটি মনে করতেন এবং সাধারণ কানাডিয়ানদের মধ্যেও আমেরিকার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। এখনো অধিকাংশ আমেরিকান কানাডার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তবে কানাডায় এখন মার্কিনবিরোধী মনোভাব প্রবল। কানাডায় এখন দেশপ্রেমের জোয়ার বইছে। আর এর পেছনে একক দায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বনে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। কানাবার সরকারি, বিরোধী দলসহ সর্বস্তরে এ প্রস্তাবের প্রবল প্রতিক্রিয়া হয়। এরপর ট্রাম্প আরও অনেক দেশের মতো কানাডাকেও শুল্ক আরোপ করে কাবু করতে চেয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে গতবছর মার্চে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। একই সময়ে কানাডার প্রাদেশিক সরকারগুলো মার্কিন অ্যালকোহল আমদানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে কানাডা কিছু ক্ষেত্রে পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করলেও বেশিরভাগ প্রদেশই মার্কিন মদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলেনি।

কানাডার ১৩টি প্রদেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতেই এই বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর রয়েছে। যার ফলে কানাডার দোকানগুলোর তাক থেকে আমেরিকান মদ ও ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়। এই বয়কটের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মদ উৎপাদনকারী শিল্প বিশাল লোকসানের মুখে পড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় মার্কিন অ্যালকোহল আমদানি প্রায় ৮১ শতাংশ কমে গেছে। এটি বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও কানাডার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মার্কিন অ্যালকোহল বর্জন করে। কানাডার জনগণের এই জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও গতি পায় গত সপ্তাহে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু কানাডার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী কিছু শর্ত এবং শেষ মুহূর্তের অন্যায্য পরিবর্তনের কারণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই আলোচনা বাতিল ঘোষণা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ ভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।

এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা অন্যায্য বক্তব্য ও আচরণে বিরক্ত ছিল কানাডার মানুষ। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কানাডার সরকারের অনমনীয় অবস্থান সাধারণ কানাডিয়ানদের মধ্যে তীব্র মার্কিন-বিরোধী ক্ষোভ ও অর্থনৈতিক দেশপ্রেম জাগ্রত করেছে। সাধারণ ভোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মার্কিন মদ, কফি কিংবা পণ্য কেনা বর্জন করে নিজস্ব কানাডিয়ান পণ্য বেছে নিতে শুরু করেছেন। কানাডার সরকারও জনগণকে আগের চেয়ে বেশি মার্কিন পণ্য বর্জনের জন্য উৎসাহিত করছে।

নতুন মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডার পদক্ষেপ ঘোষণা করার সময় গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি মনে রাখা ভালো যে আমাদের সবার সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো আমাদের নিজেদের ক্রয়ক্ষমতা। আমরা কানাডিয়ান পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং আমাদের অবশ্যই কানাডিয়ান পণ্য বেছে নিতে হবে।’ শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি যোগ করেন, ‘আপনি যখন একটি কানাডিয়ান পণ্য বেছে নেন, তখন আপনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপই সৃষ্টি করছেন না, বরং কানাডায় কর্মসংস্থানও রক্ষা করছেন।’

মন্ট্রিলের একটি সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপক পিটার জিয়ানোপোলিস বুধবার বলেন, ওয়াশিংটনের সাথে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করার বিষয়ে কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তের পর থেকে তিনি ভোক্তাদের আচরণে ইতিমধ্যেই একটি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা জানতে চান পণ্যগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং পণ্যগুলো বেশি ব্যয়বহুল হলেও সর্বদা কুইবেকের পণ্যগুলোকে প্রাধান্য দেন।’

গত বছর থেকে দোকানগুলোতে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য লেবেল এবং কানাডার পতাকার ম্যাপেল পাতার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক খুচরা বিক্রেতা অর্থনৈতিক দেশপ্রেমের আহ্বান জানাচ্ছেন। মন্ট্রিলের একটি কানাডিয়ান টায়ার দোকানের কর্মচারীরা বুধবার একটি উদ্দীপনামূলক স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরেছিলেন, ’আমরা সবাই কানাডার জন্য খেলি।’

খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরেও এই বয়কট পর্যটনে প্রভাব ফেলছে। আইনজীবী শার্লট ডুমোনসো বলেন, ‘আমি আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছুটিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এবার কিছুটা বাড়লেও গতবছর যুক্তরাষ্ট্রে কানাডিয়ানদের ভ্রমণের সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

উদ্বিগ্ন কিছু মার্কিন সীমান্ত রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা কানাডিয়ানদের জন্য বিভিন্ন ছাড়ের ব্যবস্থা করে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক রাজ্য বিশেষ করে তাদের ’নিউইয়র্ক লাভস কানাডা’ উদ্যোগ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বছরের শেষ নাগাদ কানাডিয়ানদের জন্য ধারাবাহিক কিছু প্রচারণামূলক ছাড়ের অফার দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন চেষ্টায় কাজ হবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সিদ্ধান্ত আসতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%