০৮:০০ এম
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে নতুন গতির সূচনা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, গালফ রেলওয়ে কেবলমাত্র একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং লজিস্টিক সংযোগের নতুন যুগের সূচনা করবে।
জিসিসি রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পন্ন হলে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমান একক রেলপথে যুক্ত হবে। এই নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার, যা কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও ইউএই হয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
আরও পড়ুন: সিপিবি অফিসে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি সাইফুল হকের
জিসিসি পরিবহন মন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরার সময় বলা হয়, রেলপথ ব্যবহার শুরু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
বিভিন্ন সূত্র দ্বারা জানা যায়, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ করা।
কুয়েত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হাসিল করেছে। দেশটি শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা প্রণয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এছাড়া, কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুসারে, কুয়েত সীমান্ত থেকে ইউএই সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের বিতর্কিত কৌশল ও ভোটারদের জন্য সুবিধার প্রস্তাব
যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাছাড়া, পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত ও কম খরচে পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণও আরও শক্তিশালী হবে। এটি শুধুমাত্র বাণিজ্য নয়, বরং পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর বহু বছরের স্বপ্নের এই গালফ রেলওয়ে এখন বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক অবকাঠামো প্রকল্প এবং উপসাগরীয় সহযোগিতার নতুন মাইলফলক।
আরও পড়ুন: ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে খারাপ বছরের পথে ভারতের শেয়ারবাজার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন