১১:১৪ পি.এম
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকার দাবি করেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে পূর্বে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল। যদিও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন উদ্বেগ জানানো হয়েছিল, তবে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গুরুতর অসম্মান। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্যের প্রতি বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরীহ মানুষ ও শিশু হত্যার ঘটনার অস্বীকৃতিকে ইতিহাস বিকৃতির ব্যর্থ প্রয়াস বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ইবি কর্মচারী দিপু, মেডিকেল ভর্তি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানাচ্ছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদে কোনওভাবেই ফিরে না যাওয়ার এবং দেশকে কোনো রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না করার অঙ্গীকার করেছে। জাতির এই সংকল্পের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আর কোনো স্থান নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী রাখতে চায়।
তবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের বারবার অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে তাকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে নির্মম আঘাত করেছে এবং দুই দেশের সুসম্পর্কের বিকাশে ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: সরকার সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়: অর্থমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন