০৯:৫২ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন যে, সরকার সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে দেশের নতুন জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ (সাংস্কৃতিক শক্তি) হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল শেরাটন বনানীতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত Creative Footprints বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবসময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই খাতকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সরকার বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছে।
সৃজনশীল খাতের প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং এবং আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন ও নগদায়ন সম্ভব হবে। এটি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসা নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘সফট পাওয়ার’। সঙ্গীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে তাদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টায় দেশে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এনামুল হক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন