ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না: তামিম


ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস করা হবে না: তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস (স্যাক্রিফাইস) করা হবে না। এনিয়ে তিনি জোর দিয়েছেন যে, বিগত এক-দেড় বছরের মধ্যে দেশের ক্রিকেটার ও স্টেকহোল্ডারদের সম্মানের জায়গায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে।

রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড পরিচালক, সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। তিনি দুই মাস অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির ১৭তম (নির্বাচিত হিসেবে ষষ্ঠ) সভাপতিতে নির্বাচিত হন।

নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তামিম ক্রিকেটারদের মর্যাদা এবং ক্রিকেটের মান উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের উপরে কোনো ধরনের কোনো স্যাক্রিফাইস করা হবে না। প্লেয়ারদেরকে যতটুকু রেসপেক্ট করা দরকার, তা নট অনলি কারেন্ট ক্রিকেটার, অল ক্রিকেটার; এভরি স্টেক হোল্ডার ইন বাংলাদেশ রেসপেক্টেড। গত এক-দেড় বছরে এখানে একটু ঘাটতি ছিল, এই সমস্যা আমাদের ঠিক করতে হবে।’

আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

এছাড়া, তিনি দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরে আনার ওপর জোর দিয়ে জানান, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে রেপুটেশন বিশ্বজুড়ে ড্যামেজ হয়েছে, সেটি আমাদের ঠিক করতে হবে। আমি একা পারব না, এখানে সংবাদমাধ্যমসহ সবার সাপোর্ট দরকার।’

তিনি বিসিবি সভাপতির দায়িত্বকে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, ‘আমার স্বপ্ন বহু বছর ধরে ছিল, এমনকি আমার খেলার সময়েও। তখন মনে হয়েছিল যে, আমি এই অবস্থানে এসে একটা ডিফারেন্স (পরিবর্তন) আনতে পারব। এটি এখন প্রমাণ করার সময়। এটা একটা ম্যাসিভ রেসপন্সিবিলিটি (বিরাট দায়িত্ব)। যেহেতু নিয়মিতভাবে আমি এসব বিষয়ে অনেক কথা বলেছি।’

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। নতুন সভাপতি বলেন, ‘যে ক্যাটাগরিতে আমি নির্বাচন করেছি, সেখানে প্রচুর কন্টেস্ট হয়েছে। অনেকেই আমাকে প্যানেল ডিক্লেয়ার করতে বলেছিলেন, কিন্তু আমি মনে করেছিলাম, প্যানেল দিলে নির্বাচনটি ওয়ান সাইডেড হয়ে যাবে। আমি চাইনি যাতে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পায়। নির্বাচনটা খুব ভালো ও স্মুথ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারাও নির্বাচিত হয়েছেন, অনেকে সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হলো। আমাদের দায়িত্ব একটাই, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভ করা এবং উন্নতি করা। আমাদের ২৫ জন ডিরেক্টরের উদ্দেশ্য যদি সঠিক থাকে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা। তামিম বোর্ডে কেবল একজন সহ-সভাপতি রাখার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রস্তাব দিয়েছি যে, এখন একজনই ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন। পাস্টের যে এক্সপেরিয়েন্স, সেখানে (একাধিক হলে) অনেকেই নিজেদের মধ্যে ইগো কিংবা ফাইটে চলে আসেন। আমি চাই না যে, এই ধরনের কিছু ঘটুক। বোর্ড এটাতে একমত হয়েছে এবং সকলে সমর্থন দিয়েছেন।’

এদিকে, বিসিবি টিভি চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাইয়া, মনে হয় বিসিবি টিভির আগে আমার আরও অনেক জরুরি কাজ আছে।’

পূর্বাচলের স্টেডিয়াম ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) সেন্টার নিয়ে তিনি তাঁর বড় স্বপ্নের কথা জানান। বলেন, ‘হাই পারফরম্যান্স সেন্টার নিয়ে আমার প্রবল বড় স্বপ্ন। পপুলারস নামের একটি কোম্পানি এটিকে ডিজাইন করেছিল। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরে ডিজাইনটি দেখে খুব বেশি পছন্দ করিনি। তাদেরকে নতুন করে ডিজাইন করার জন্য ইনভাইট করেছি এবং দ্রুত কাজ শুরু করার আশা করছি। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তবে বিগত সময়ে বিসিবি ফান্ডিংয়ে কাজ করতে পারব।’

বোর্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য প্রয়োজন মনে হলে যদি কোনো গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন আনতে হয়, তবে অবশ্যই আমরা তা নিয়ে আলোচনা করব। আমরা চেষ্টা করব যতটা সম্ভব ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) থাকতে। আমি চাই না, আমি বা আমার বোর্ড সদস্যরা এমন কিছু করুক যা বিতর্কের সৃষ্টি করে।’

আরও পড়ুন: ইরাকে প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির নতুন মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার শিল্প বর্জ্য পুনঃব্যবহার করে টেকসই শিল্পায়ন জোরদারের পরিকল্পনা করছে: শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


সরকার শিল্প বর্জ্য পুনঃব্যবহার করে টেকসই শিল্পায়ন জোরদারের পরিকল্পনা করছে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে শিল্প কারখানার উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়নকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এগুলোর পুনঃব্যবহার সম্প্রসারণের।

আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫)-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত উপজাত ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব থেকে অধিক মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন সচল সব চিনিকলে উৎপাদিত উপজাত, বিশেষ করে মোলাসেস (আখের গুড়জাতীয় তরল), দীর্ঘদিন ধরে কেরু ডিস্টিলারিতে অ্যালকোহল এবং দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কেরু সুগার মিলের আরেকটি উপজাত 'প্রেস মাড' থেকে জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে এটি খুবই উল্লেখযোগ্য।

শিল্পমন্ত্রী সংসদকে জানান, নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডকে আধুনিক, বহুমুখী, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার লক্ষ্যে পৃথক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে, এবং চুয়াডাঙ্গার কেরু ডিস্টিলারিকে প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ, পরিবেশসম্মত ও লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই সমীক্ষাটি করা হচ্ছে।

সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। শিল্পের উপজাত থেকে বিভিন্ন পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী জানান, এ ছাড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে ট্যানারির বর্জ্য থেকে মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত 'জেডডব্লিউ অ্যানিমেল প্রোটিন' নামের একটি কারখানায় ক্রোম শেভিং ডাস্ট থেকে প্রোটিন পাউডার এবং কাঁচা চামড়ার কাটা অংশ থেকে জেলাটিন উৎপাদনের কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, ট্যানারির ফ্লেশিং বর্জ্য থেকে ট্যালো (প্রাণিজ চর্বিজাত পণ্য) উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) থেকে উৎপন্ন স্লাজ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে টাইলস তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো সিইটিপি প্রাঙ্গণে ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আওতাধীন শিল্প কারখানাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কারখানায় উৎপাদিত উপজাত সাধারণত সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়াতেই কাঁচামাল হিসেবে পুনঃব্যবহার করা হয়। ফলে এসব উপজাত থেকে আলাদা পণ্য তৈরির প্রয়োজন বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পের উপজাতগুলোর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস এবং চক্রাকার (সার্কুলার) শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন ব্রি ধান ১১৮: ঘরে তোলার জন্য দুই মাস আগে সম্পন্ন হবে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


নতুন ব্রি ধান ১১৮: ঘরে তোলার জন্য দুই মাস আগে সম্পন্ন হবে!

হাওড়াঞ্চলের অতি বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার কারণে বোরো ধানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। এই উচ্চফলনশীল নতুন ধানটি বর্তমানে প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, অর্থাৎ কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে হাওড়পাড়ের কৃষকরা লাগাতে পারবেন। ফলে পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির ভয় ছাড়া কৃষকেরা দুই মাস আগেই কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে নয় দিনের বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ে ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর এরকম ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাওড়বাসীদের দাবি ছিল আগাম ও স্বল্প সময়ের ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেই সোনালী ভবিষ্যতের কথাই তুলে ধরেছে।

হাওড়পাড়ের কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকেন। সারা বছরের জীবিকা যে ফসলের ওপর নির্ভর করে, সেই ফসল শেষ পর্যন্ত ঘরে তুলতে পারবেন কিনা, সেই শঙ্কায় থাকেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত যে নয় দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হয়েছে, তাতে হাওড়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং বর্গাচাষি। শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ জেলায় ৫১৮ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে।

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাত জেলার ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেত্রকোনায় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ।

প্ৰায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার হাত থেকে বোরো ধান রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে, যা ব্রি-ধান ১১৮ নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানাচ্ছেন, নতুন উদ্ভাবিত ধান এখন প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে লাগানো যাবে। শীত সহনশীল ধানগাছগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন), কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, নতুন উদ্ভাবিত বীজধান দ্রুত কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে এই ধান কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ বলেছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার আগে এই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এতে হাওড়বাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

২০১৭ সালে হাওরের ৫ হাজার তিনশো কোটি টাকা মূল্যের ধান নষ্ট হয়েছিল। ২০২২ সালে একশো কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়। আর চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকার মতো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

প্রায় সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর কেবল দুই নেতার সাক্ষাতের জন্য নয়, এটি উত্তর কোরিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শি জিনপিং সর্বশেষ ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, তিনি বিদেশ সফর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। সাধারণত বিভিন্ন দেশের নেতারাই এখন বেইজিং গিয়ে তার সাথে বৈঠক করেন। তাই শি নিজের পিয়ংইয়ং সফরে যাওয়ার বিষয়টি চীনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের দ্রুত ঘনিষ্ঠতা চীনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জনবল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্ভাব্য সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি, চীন উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে উত্তর কোরিয়ায় চীনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কমে যেতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে। এর বড় একটি অংশ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের মাধ্যমে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের সফরের মাধ্যমে চীন পিয়ংইয়ংয়ের সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে। একই সাথে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও চীনের উদ্বেগের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর দেশটি ইতোমধ্যে আটবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং সম্প্রতি তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত নতুন ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে। এছাড়া কিম জং উন সম্প্রতি একটি নতুন পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ১৯৫০ সালের কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালে কিম জং উন কোরীয় পুনঃএকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া আশা করছে, শি জিনপিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, শি ও কিমের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈঠকের বিষয়টিও উঠতে পারে।

এদিকে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা। জাপানের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং সিউল-টোকিও ঘনিষ্ঠতা নিয়েও চীনের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে, শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা না; বরং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, উত্তর কোরিয়ার সামরিক অগ্রগতি এবং পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শাপলা চত্বরের মামলা

দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসন্ন ১০ দিনের মধ্যে তিন আসামিকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে রবিবার (৭ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশটি প্রদান করেছেন। গত ১৪ মে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনের মাধ্যমে। এই শুনানিতে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার।

আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসাবে ছিলেন জেড আই খান পান্না ও আইনজীবী এবিএম হামিদুল মেজবাহ।

গতকাল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হলে, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনালটি। আগামী ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর আবসুদ সাত্তার।

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় হত্যা সংক্রান্ত ৫৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে। এই ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আরও পাঁচ আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৫ এপ্রিল আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%