ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন ব্রি ধান ১১৮: ঘরে তোলার জন্য দুই মাস আগে সম্পন্ন হবে!


নতুন ব্রি ধান ১১৮: ঘরে তোলার জন্য দুই মাস আগে সম্পন্ন হবে!

হাওড়াঞ্চলের অতি বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার কারণে বোরো ধানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। এই উচ্চফলনশীল নতুন ধানটি বর্তমানে প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, অর্থাৎ কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে হাওড়পাড়ের কৃষকরা লাগাতে পারবেন। ফলে পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির ভয় ছাড়া কৃষকেরা দুই মাস আগেই কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে নয় দিনের বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ে ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর এরকম ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাওড়বাসীদের দাবি ছিল আগাম ও স্বল্প সময়ের ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেই সোনালী ভবিষ্যতের কথাই তুলে ধরেছে।

হাওড়পাড়ের কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকেন। সারা বছরের জীবিকা যে ফসলের ওপর নির্ভর করে, সেই ফসল শেষ পর্যন্ত ঘরে তুলতে পারবেন কিনা, সেই শঙ্কায় থাকেন তারা।

আরও পড়ুন: সৌদি হামলার কারণে ১১৮টি ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৩৬২ যাত্রী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত যে নয় দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হয়েছে, তাতে হাওড়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং বর্গাচাষি। শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ জেলায় ৫১৮ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে।

সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাত জেলার ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেত্রকোনায় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ।

প্ৰায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার হাত থেকে বোরো ধান রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে, যা ব্রি-ধান ১১৮ নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানাচ্ছেন, নতুন উদ্ভাবিত ধান এখন প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে লাগানো যাবে। শীত সহনশীল ধানগাছগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি এজেন্সির কারণে ভারতীয় ভিসা পেতে জটিলতা: ডেপুটি হাইকমিশনার

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন), কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, নতুন উদ্ভাবিত বীজধান দ্রুত কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে এই ধান কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ বলেছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার আগে এই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এতে হাওড়বাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

২০১৭ সালে হাওরের ৫ হাজার তিনশো কোটি টাকা মূল্যের ধান নষ্ট হয়েছিল। ২০২২ সালে একশো কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়। আর চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকার মতো।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শীতের আগেই সবজির বাজারে অগ্নিমূল্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন উত্তর কোরিয়া সফর করছেন

প্রায় সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর কেবল দুই নেতার সাক্ষাতের জন্য নয়, এটি উত্তর কোরিয়ায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শি জিনপিং সর্বশেষ ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, তিনি বিদেশ সফর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। সাধারণত বিভিন্ন দেশের নেতারাই এখন বেইজিং গিয়ে তার সাথে বৈঠক করেন। তাই শি নিজের পিয়ংইয়ং সফরে যাওয়ার বিষয়টি চীনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের দ্রুত ঘনিষ্ঠতা চীনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও জনবল সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্ভাব্য সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি, চীন উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়লে উত্তর কোরিয়ায় চীনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কমে যেতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে প্রায় ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে। এর বড় একটি অংশ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের মাধ্যমে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের সফরের মাধ্যমে চীন পিয়ংইয়ংয়ের সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করার চেষ্টা করতে পারে। একই সাথে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও চীনের উদ্বেগের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর দেশটি ইতোমধ্যে আটবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে এবং সম্প্রতি তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রিত নতুন ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে। এছাড়া কিম জং উন সম্প্রতি একটি নতুন পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ১৯৫০ সালের কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালে কিম জং উন কোরীয় পুনঃএকত্রীকরণের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া আশা করছে, শি জিনপিংয়ের এই সফর কোরীয় উপদ্বীপের চলমান সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, শি ও কিমের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈঠকের বিষয়টিও উঠতে পারে।

এদিকে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা। জাপানের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং সিউল-টোকিও ঘনিষ্ঠতা নিয়েও চীনের উদ্বেগ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে, শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা না; বরং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, উত্তর কোরিয়ার সামরিক অগ্রগতি এবং পূর্ব এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্নির্ধারণের একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শাপলা চত্বরের মামলা

দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসন্ন ১০ দিনের মধ্যে তিন আসামিকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে রবিবার (৭ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশটি প্রদান করেছেন। গত ১৪ মে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনের মাধ্যমে। এই শুনানিতে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার।

আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসাবে ছিলেন জেড আই খান পান্না ও আইনজীবী এবিএম হামিদুল মেজবাহ।

গতকাল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হলে, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনালটি। আগামী ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর আবসুদ সাত্তার।

২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় হত্যা সংক্রান্ত ৫৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে। এই ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আরও পাঁচ আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৫ এপ্রিল আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে গাইবান্ধায় আনন্দ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে গাইবান্ধায় আনন্দ মিছিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে গাইবান্ধায় জেলা যুবদল আনন্দ মিছিল করেছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলটি শেষে কার্যালয় চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা যুবদলের সভাপতি রাগীব হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন বাবু, শফিকুল ইসলাম লিপন, আহমেদ সেকুতর রব অনীক এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক ভুট্টুসহ অন্যান্য নেতারা।

এসময় বক্তারা বলেন, যুবদল অতীতে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। তারা আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে এই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদো ছাড়া পর্তুগাল কি সত্যিই শক্তিশালী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


রোনালদো ছাড়া পর্তুগাল কি সত্যিই শক্তিশালী?

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ২০০৩ সালের এক আগস্টে কাজাখস্তানের বিপক্ষে এক মলিন মাঠে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখেছিলেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি, মেদেইরা থেকে আসা সেই ছেলেই একদিন বিশ্ব ফুটবলের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেবেন। ২০২৬ সালে এসে সেই ক্রিস্টিয়ানোর বয়স এখন ৪১ বছর। তিনি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় আছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৩ গোল করেছেন, এবং এই মহাতারকা পর্তুগিজ ফুটবলের মানসিকতাই বদলে দিয়েছেন।

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে পর্তুগালে একটি প্রশ্ন বেশ জোরেসোরেই উচ্চারিত হচ্ছে, প্রশ্ন হলো, পর্তুগাল দল কি আসলে রোনালদোকে ছাড়াই বেশি কার্যকর? আর তিনি কি আসলেই দলে অটো-চয়েজ বা অপরিহার্য?

একটা সময় ছিল যখন পর্তুগালে রোনালদোর স্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল মনে করা হতো। তবে সময় বদলেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে খেলা কিংবদন্তি আন্তোনিও সিমোয়েসের মতো সাবেক তারকারা এখন প্রকাশ্যে বলছেন যে, রোনালদো এখন আর দলের জন্য নয় বরং নিজে মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকার জন্য খেলেন। দেশের ক্রীড়া বিশ্লেষকদের এক অংশ মনে করেন, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখা একটি দলের শুরুর একাদশে থাকার মতো ফুটবলীয় ধার এখন আর রোনালদোর মধ্যে নেই। এই আলোচনার পালে হাওয়া দিচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানও।

পর্তুগাল দলের কোচ রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে দল যখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় দুটি জয় তুলে নেয় লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে (৯-০) এবং আর্মেনিয়ার বিপক্ষে ৯-১ গোলের বিধ্বস্ত করার ম্যাচ; তখন দুটি ম্যাচেই মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। ফলে স্বভাবতই আলোচনা শুরু হয়েছে, তরুণ এবং গতিময় পর্তুগিজ মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আরও বেশি স্বাধীন এবং ক্ষুরধার হয়ে ওঠে কি না।

অবশ্য এই সমালোচনার বিপরীতে শক্ত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন খোদ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এবং রোনালদোর সাবেক সতীর্থরা। মার্তিনেস এই বিতর্ককে স্রেফ গুরুত্বহীন আড্ডা হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে রোনালদোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে আঙুল তুলছেন। কোচের অধীনে শেষ ৩১ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ড। মার্তিনেসের সাফ কথা হলো, রোনালদো অতীতে কী করেছেন সেই যোগ্যতায় নয় বরং এখনো সর্বোচ্চ স্তরে পারফর্ম করছেন বলেই দলে আছেন। সাবেক সতীর্থদের মতে, ৪১ বছর বয়সে এসে রোনালদোর গতি হয়তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু তার নিখুঁত টেকনিক, গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি এবং মাঠে তরুণদের ওপর তার মানসিক প্রভাব এখনও প্রতিপক্ষের জন্য সমান বিপজ্জনক। ১৭ জুন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল যখন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে, তখনও দলের মূল রণকৌশল যে তাকে ঘিরেই আবর্তিত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও রোনালদোর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক কম নয়। কাতার বিশ্বকাপে তাকে বেঞ্চে বসানোর খেসারত দিতে হয়েছিল তৎকালীন কোচ ফেরনান্দো সান্তোসকে, হারাতে হয়েছিল চাকরি। এমনকি সম্প্রতি পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন রোনালদোর মালিকানাধীন একটি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছে, যদিও ফেডারেশন তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনকা অবশ্য জানিয়েছেন, রোনালদো-পরবর্তী যুগের জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং তার বিদায়ের পর ফেডারেশনের আর্থিক বা কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হবে না।

ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে রোনালদোর সামনে এখন দুটি বড় লক্ষ্য রয়েছে; ইউসেবিওর করা পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৯ গোলের রেকর্ড ভাঙা এবং দেশকে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেওয়া। মাঠের ভেতরের এবং বাইরের সমস্ত আলোচনা ও সমালোচনাকে পেছনে ফেলে সিআরসেভেন তার শেষ বিশ্বকাপে সমালোচকদের পাণ্ডুলিপি বদলে দিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%