০৮:৩৩ পি.এম
হাওড়াঞ্চলের অতি বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার কারণে বোরো ধানকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। এই উচ্চফলনশীল নতুন ধানটি বর্তমানে প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, অর্থাৎ কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে হাওড়পাড়ের কৃষকরা লাগাতে পারবেন। ফলে পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির ভয় ছাড়া কৃষকেরা দুই মাস আগেই কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে নয় দিনের বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ে ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর এরকম ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হাওড়বাসীদের দাবি ছিল আগাম ও স্বল্প সময়ের ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সেই সোনালী ভবিষ্যতের কথাই তুলে ধরেছে।
হাওড়পাড়ের কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকেন। সারা বছরের জীবিকা যে ফসলের ওপর নির্ভর করে, সেই ফসল শেষ পর্যন্ত ঘরে তুলতে পারবেন কিনা, সেই শঙ্কায় থাকেন তারা।
আরও পড়ুন: সৌদি হামলার কারণে ১১৮টি ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৩৬২ যাত্রী
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত যে নয় দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হয়েছে, তাতে হাওড়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক এবং বর্গাচাষি। শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ জেলায় ৫১৮ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে।
সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাত জেলার ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেত্রকোনায় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ।
প্ৰায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা এবং জলাবদ্ধতার হাত থেকে বোরো ধান রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে, যা ব্রি-ধান ১১৮ নামে পরিচিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানাচ্ছেন, নতুন উদ্ভাবিত ধান এখন প্রচলিত সময়ের থেকে দুই মাস আগে, কার্তিক মাসে, ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে লাগানো যাবে। শীত সহনশীল ধানগাছগুলো বর্ষা মৌসুমের আগে ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি এজেন্সির কারণে ভারতীয় ভিসা পেতে জটিলতা: ডেপুটি হাইকমিশনার
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন), কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, নতুন উদ্ভাবিত বীজধান দ্রুত কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে এই ধান কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ বলেছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার আগে এই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে। এতে হাওড়বাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
২০১৭ সালে হাওরের ৫ হাজার তিনশো কোটি টাকা মূল্যের ধান নষ্ট হয়েছিল। ২০২২ সালে একশো কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়। আর চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকার মতো।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শীতের আগেই সবজির বাজারে অগ্নিমূল্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন