প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আসন্ন ১০ দিনের মধ্যে তিন আসামিকে এক দিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনে রবিবার (৭ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশটি প্রদান করেছেন। গত ১৪ মে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনের মাধ্যমে। এই শুনানিতে আরও ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার।
আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসাবে ছিলেন জেড আই খান পান্না ও আইনজীবী এবিএম হামিদুল মেজবাহ।
গতকাল এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করা হলে, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনালটি। আগামী ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর আবসুদ সাত্তার।
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় হত্যা সংক্রান্ত ৫৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে। এই ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে গত ৫ মে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মীকে হত্যার কথা উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লিখিত হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও অভিযুক্তদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আরও পাঁচ আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ৫ এপ্রিল আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন