প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্রিকেটের স্বার্থে কোনো ধরনের আপস (স্যাক্রিফাইস) করা হবে না। এনিয়ে তিনি জোর দিয়েছেন যে, বিগত এক-দেড় বছরের মধ্যে দেশের ক্রিকেটার ও স্টেকহোল্ডারদের সম্মানের জায়গায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে।
রোববার (৭ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড পরিচালক, সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। তিনি দুই মাস অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির ১৭তম (নির্বাচিত হিসেবে ষষ্ঠ) সভাপতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তামিম ক্রিকেটারদের মর্যাদা এবং ক্রিকেটের মান উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটের উপরে কোনো ধরনের কোনো স্যাক্রিফাইস করা হবে না। প্লেয়ারদেরকে যতটুকু রেসপেক্ট করা দরকার, তা নট অনলি কারেন্ট ক্রিকেটার, অল ক্রিকেটার; এভরি স্টেক হোল্ডার ইন বাংলাদেশ রেসপেক্টেড। গত এক-দেড় বছরে এখানে একটু ঘাটতি ছিল, এই সমস্যা আমাদের ঠিক করতে হবে।’
এছাড়া, তিনি দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরে আনার ওপর জোর দিয়ে জানান, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে রেপুটেশন বিশ্বজুড়ে ড্যামেজ হয়েছে, সেটি আমাদের ঠিক করতে হবে। আমি একা পারব না, এখানে সংবাদমাধ্যমসহ সবার সাপোর্ট দরকার।’
তিনি বিসিবি সভাপতির দায়িত্বকে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, ‘আমার স্বপ্ন বহু বছর ধরে ছিল, এমনকি আমার খেলার সময়েও। তখন মনে হয়েছিল যে, আমি এই অবস্থানে এসে একটা ডিফারেন্স (পরিবর্তন) আনতে পারব। এটি এখন প্রমাণ করার সময়। এটা একটা ম্যাসিভ রেসপন্সিবিলিটি (বিরাট দায়িত্ব)। যেহেতু নিয়মিতভাবে আমি এসব বিষয়ে অনেক কথা বলেছি।’
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। নতুন সভাপতি বলেন, ‘যে ক্যাটাগরিতে আমি নির্বাচন করেছি, সেখানে প্রচুর কন্টেস্ট হয়েছে। অনেকেই আমাকে প্যানেল ডিক্লেয়ার করতে বলেছিলেন, কিন্তু আমি মনে করেছিলাম, প্যানেল দিলে নির্বাচনটি ওয়ান সাইডেড হয়ে যাবে। আমি চাইনি যাতে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পায়। নির্বাচনটা খুব ভালো ও স্মুথ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারাও নির্বাচিত হয়েছেন, অনেকে সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হলো। আমাদের দায়িত্ব একটাই, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভ করা এবং উন্নতি করা। আমাদের ২৫ জন ডিরেক্টরের উদ্দেশ্য যদি সঠিক থাকে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা। তামিম বোর্ডে কেবল একজন সহ-সভাপতি রাখার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রস্তাব দিয়েছি যে, এখন একজনই ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকবেন। পাস্টের যে এক্সপেরিয়েন্স, সেখানে (একাধিক হলে) অনেকেই নিজেদের মধ্যে ইগো কিংবা ফাইটে চলে আসেন। আমি চাই না যে, এই ধরনের কিছু ঘটুক। বোর্ড এটাতে একমত হয়েছে এবং সকলে সমর্থন দিয়েছেন।’
এদিকে, বিসিবি টিভি চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাইয়া, মনে হয় বিসিবি টিভির আগে আমার আরও অনেক জরুরি কাজ আছে।’
পূর্বাচলের স্টেডিয়াম ও হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) সেন্টার নিয়ে তিনি তাঁর বড় স্বপ্নের কথা জানান। বলেন, ‘হাই পারফরম্যান্স সেন্টার নিয়ে আমার প্রবল বড় স্বপ্ন। পপুলারস নামের একটি কোম্পানি এটিকে ডিজাইন করেছিল। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরে ডিজাইনটি দেখে খুব বেশি পছন্দ করিনি। তাদেরকে নতুন করে ডিজাইন করার জন্য ইনভাইট করেছি এবং দ্রুত কাজ শুরু করার আশা করছি। যদি সরকার সহযোগিতা করে, তবে বিগত সময়ে বিসিবি ফান্ডিংয়ে কাজ করতে পারব।’
বোর্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য প্রয়োজন মনে হলে যদি কোনো গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন আনতে হয়, তবে অবশ্যই আমরা তা নিয়ে আলোচনা করব। আমরা চেষ্টা করব যতটা সম্ভব ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) থাকতে। আমি চাই না, আমি বা আমার বোর্ড সদস্যরা এমন কিছু করুক যা বিতর্কের সৃষ্টি করে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন