০৯:১৯ পি.এম
পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বাস করে। ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনার মাঝে, প্রতিবার ফুটবল বিশ্বকাপ এই অঞ্চলে ভিন্ন এক আমেজ সৃষ্টি করে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মতো দলের সমর্থনে সমর্থকরা খোদ এই দেশগুলোর জনগণকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে, দুঃখজনকভাবে ফুটবল নিয়ে অসীম আবেগ থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাফল্য শূন্য। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের কেউ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। প্রায় ২ বিলিয়ন জনসংখ্যার এই অঞ্চলের জন্য এটি একটি বড় ব্যর্থতা।
দক্ষিণ এশিয়া ক্রিকেটের স্বর্গভূমি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ফুটবলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের দেশের অবস্থান অত্যন্ত নাজুক। এমনকি প্রায় দেড়শ কোটি জনসংখ্যার ভারতও বিশ্ব ফুটবল এবং এশিয়ান ফুটবলে পরাশক্তি হতে পারেনি।
যদিও, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও, এই অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে খেলছেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার। এশিয়া, ওশেনিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের হয়ে এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবেন দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূত পাঁচ জন খেলোয়াড়। তাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয়, একজন করে শ্রীলঙ্কান ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সারপ্রীত সিং (নিউজিল্যান্ড/ভারত): পাঞ্জাবি বাবা-মায়ের ঘরে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে জন্ম নেয়া সারপ্রীত ছোটবেলা থেকেই একাধিক খেলায় অংশগ্রহণ করতেন। পরে তিনি দেশের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবল প্রতিভা হিসেবে আবির্ভূত হন। ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়ার মতো সুযোগ পান। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ২টি ম্যাচ খেলেছেন।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বয়সভিত্তিক ফুটবল ও অলিম্পিকের আসরে অংশ নেয়া সারপ্রীতের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৮ সালে। নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩ গোল করে ২৪ ম্যাচ খেলেছেন। এবারের বিশ্বকাপে তিনি নিউজিল্যান্ডের স্কোয়াডে রয়েছেন।
তাহসিন মোহাম্মদ জামসিদ (কাতার/ভারত): দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের মধ্যে তাহসিনের গল্প বেশ আকর্ষণীয়। দোহায় ভারতের কেরালা থেকে আগত মালায়ালি বাবা-মায়ের ঘরে তার জন্ম। কাতারের ফুটবল ইকোসিস্টেমে তিনি ছোটবেলা থেকেই জড়িয়ে আছেন। এলিট কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতায় ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা অর্জন করেন।
কাতারের স্টারস লিগের ক্লাব আল দুহাইলের হয়ে খেলেন তাহসিন। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আফগানিস্তান এবং তার বাবা-মায়ের মাতৃভূমি ভারতের বিপক্ষে তিনি খেলেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৩ ম্যাচ খেলে তিনি বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
নিশান ভেলুপিল্লাই (অস্ট্রেলিয়া/শ্রীলঙ্কা): ২৫ বছর বয়সী নিশান একজন উইঙ্গার। তার বাবা লঙ্কান তামিম বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান এবং মা একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী নিশান এ-লিগের ক্লাব মেলবোর্ন স্টারসের হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলে খেলেছেন।
২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি এখন পর্যন্ত ৭টি ম্যাচে ৩ গোল করেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপেও তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন।
স্যামুয়েল মুথুস্বামী (ডিআর কঙ্গো/ভারত): গ্রীক ক্লাব আর্তোমিতোসে খেলা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের বাবা তামিম বংশোদ্ভূত ইন্দো-গুয়াডেলোপিয়ান এবং মা কঙ্গোলিজ। ক্লাব ক্যারিয়ারে একটি সময় তিনি ফরাসি ক্লাব নান্তেসে খেলেছেন।
২০১৯ সালে ডিআর কঙ্গো জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি ৫৭ ম্যাচ খেলেছেন এবং আসন্ন বিশ্বকাপের দলে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
জিদান ইকবাল (ইরাক/পাকিস্তান): প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে ৯ বছর ফুটবলে হাতেখড়ি নেয়া জিদান মূল দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচেও খেলেছেন। ২০২৩ সালে তিনি ডাচ এরেদিভাইসের ক্লাব উট্রেখটে যোগ দেন।
ইংল্যান্ডে পাকিস্তানি বাবা ও ইরাকি মায়ের ঘরে জন্ম নেয়া জিদানের সামনে দুই দেশের জাতীয় দলের পাশাপাশি থ্রি লায়ন্সের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি ইরাককে বেছে নিয়েছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে ইরাকের।
২০২২ সালে ইরাক জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি ২২ ম্যাচ খেলেছেন এবং ২ গোল করেছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে তিনি নজর কাড়তে পারেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন