ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করে ইরানকুন্ডার ইতিহাস


শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করে ইরানকুন্ডার ইতিহাস

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্ককে পরাজিত করে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তুর্কিদের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের এই জয়ে প্রথম গোলটি করে অস্ট্রেলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে সাহায্য করেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। সেই সাথে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে একটি নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি।

তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে আলোচনা সৃষ্টি হলেও ইরানকুন্ডার সাফল্য এক দিনে আসেনি। তিনি আসলে বুরুন্ডিয়ান এবং জন্মভূমি তানজানিয়া। ২০০৬ সালে সেখানে একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন এই ফুটবলার। তার বাবা-মা বুরুন্ডির নাগরিক। গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের দেশ ছেড়েছিলেন। শৈশবে ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং ফুটবলের মাধ্যমে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ পান।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগের ক্লাব অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান তিনি। তাঁর দুর্দান্ত গতি, শারীরিক শক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্য দ্রুত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর তিনি সিনিয়র দলের হয়ে ১৬টি গোল করেছেন এবং আটটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ইউরোপীয় বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৫৩৪ গ্রেপ্তার

২০২৪ সালে তিনি বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। তবে মূল দলের হয়ে তিনি কখনো খেলেননি। তবে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের মতো তারকার সঙ্গে মেলামেশা তার অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য ইরানকুন্ডার একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জার্মান জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দলের পরিকল্পনায় টিকে থাকতে হলে তাকে মাঠে আরও বেশি খেলার সুযোগ অর্জন করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলানোর পর তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ড এফসিতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

দলবদলের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেন, "এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমার নিয়মিত খেলার প্রয়োজন ছিল এবং আমি তা করতে পারছিলাম না।"

ঝুঁকিটা কাজে লেগেছিল। ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য ডাক পাওয়া ইরানকুন্ডা নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গোল করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এরপর থেকে তিনি দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: রুয়েটের বাসে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপারের অভাব’ মন্তব্য, যুবক গ্রেফতার

আর তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২৭তম মিনিটের সময় সকারুদের অর্ধ থেকে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস পান বাঁ প্রান্তে থাকা ইরানকুন্ডা। তারপর বাঁ পায়ে বল ঠেলে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। এতে তিনি ২০ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান গোলদাতা হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কৃষকের পাশে এক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কৃষকের পাশে এক কর্মকর্তা

 

ভোরের কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। গ্রামের সরু রাস্তা ধরে মোটরসাইকেল ছুটছে ধানক্ষেতের দিকে। পেছনে রোদ উঠতে শুরু করেছে এবং সামনে অপেক্ষা করছেন কয়েকজন কৃষক। তাদের জমিতে দেখা দিয়েছে রোগ। দ্রুত সমাধান না পেলে নষ্ট হতে পারে পুরো ফসল। কৃষকদের সেই উৎকণ্ঠার মুহূর্তে ভরসার নাম একজন মানুষ-মফিজ উদ্দিন। তাঁর একটি হাত নেই। জীবনের নির্মম এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত। কিন্তু তিনি হারাননি দায়িত্ববোধ, হারাননি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। বরং সেই দুর্ঘটনাই যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকের হাজারো কৃষকের কাছে কেবল একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নন; তিনি আস্থার প্রতীক ও নির্ভরতার নাম। সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনে অনীহা কিংবা নানা অজুহাতের অভিযোগ যখন প্রায়ই শোনা যায়, তখন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মাঠে-মাঠে কৃষি সেবা পৌঁছে দিয়ে তিনি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মফিজ উদ্দিন। কৃষকের সমস্যাই যেন তাঁর নিজের সমস্যা। কোনো কৃষকের জমিতে রোগ দেখা দিলে, ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অথবা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার প্রয়োজন হলে সবার আগে যে মানুষটির কথা মনে পড়ে, তিনি মফিজ উদ্দিন।

হলিধানী ব্লকে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫৫৩ জন কৃষক রয়েছেন। তারা ধান, গম, ভুট্টা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব কৃষকের জন্য সরকারি কৃষি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব তাঁর কাছে কেবল সরকারি চাকরির অংশ নয়; এটি যেন এক ধরনের মানবিক অঙ্গীকার।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালিচরণপুর ইউনিয়নের ছোট মান্দারবাড়িয়া গ্রামের জন্ম মফিজ উদ্দিনের। বাবা মৃত আফসার উদ্দিন জোয়ার্দার। সাত ভাই ও দুই বোনের বড় পরিবারে বেড়ে ওঠা মফিজ ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত। বর্তমানে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। শিক্ষাজীবনে ঝিনাইদহ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পাস করার পর ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার সম্পন্ন করেন। পরে যশোরে কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসেছিল ২০০৯ সালের ১১ জানুয়ারি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকের চাপায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর একটি হাত। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পুরো জীবন। হাসপাতালে শুয়ে থাকা সেই দিনগুলোতে ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল।

পরিবার, স্বপ্ন, কর্মজীবন- সবকিছু নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। কিন্তু মফিজ উদ্দিন হার মানেননি।

দীর্ঘ চিকিৎসা, সহনীয় শারীরিক কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে নতুন করে জীবন শুরু করেন। নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে নয়, বরং তাকে জয় করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে শিখে নেন এক হাত দিয়েই জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে।

সেই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফলেই ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। চাকরি জীবনের শুরু যশোরে। পরে বরিশাল ও ফরিদপুরে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকে যোগদান করেন। এরপর থেকে মাঠমুখী কর্মকাণ্ড, কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান দেওয়ার কারণে অল্প সময়েই কৃষকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মফিজ উদ্দিনের প্রকৃত অফিস কোনো দালানকোঠা নয়, তার অফিস কৃষকের মাঠ। অনেক সময় সরকারি ছুটির দিনেও কৃষকের ফোন পেয়ে ছুটে যান জমিতে। দিন-রাতের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা নেই তার।"

কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, "ধানের জমিতে রোগ দেখা দিলে আগে আমি খুব চিন্তায় পড়তাম। এখন মফিজ ভাইকে ফোন দিলেই চলে আসেন। জমিতে নেমে রোগ শনাক্ত করেন, কী ওষুধ দিতে হবে বলে দেন। এক হাত না থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে তাকে কখনো দুর্বল মনে হয়নি।"

মফিজ উদ্দিন বলেন, "দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন আমি হয়তো আর কিছু করতে পারব না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, মানুষ চাইলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারে। কৃষকদের জন্য কাজ করার ইচ্ছাটাই আমাকে শক্তি দিয়েছে।

তার মতে, পুরস্কার বা সম্মাননার পরিবর্তে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কৃষকের মুখের হাসি।

তিনি বলেন, "কোনো কৃষকের ক্ষতি কমলে, ভালো ফলন হলে অথবা তার পরিবারে স্বস্তি ফিরলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।"

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর-এ-নবী বলেন, "মফিজ উদ্দিন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার কাজে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন। একটি হাত হারিয়ে অনেকেই জীবনযুদ্ধে থেমে যান। কিন্তু মফিজ উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, মানুষের শক্তি তার হাতে নয়, তার মনোবলে। তাই ঝিনাইদহের কৃষকদের কাছে তিনি শুধু একজন কৃষি কর্মকর্তা নন; তিনি সাহস, সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ পি.এম


কড়া হুঁশিয়ারী বিমানমন্ত্রীর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের টাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলে। তিনি আরও জানান যে, জনগণ যদি তাদের প্রাপ্য সেবা না পায়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন তিনি।

আফরোজা খানম রিতা বললেন, অনেক কষ্ট ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিএনপি আজ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি জানান, এখানে অনেকেই ভিন্ন মতাদর্শের হতে পারেন, কিন্তু পাবলিক কর্মকর্তাদের হিসাবে আপনাদের রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বললেন, বিগত সরকার কী কাজ করেছে বা আপনাদের কী সুবিধা দিয়েছে, তা বিবেচনা করে যদি বর্তমান সরকারের কাজ বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। জনগণ যখন ক্ষুব্ধ হয়ে আপনার অফিস ঘেরাও করবে, তখন পরিস্থিতি সামাল দেবেন কীভাবে? তাই আপনাদের নিজেদের মর্যাদা ও সম্মানের জায়গায় থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই যে কোনো মূল্যে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদকসেবীদের পেছনে সময় নষ্ট না করে মাদক ব্যবসায়ীকে আগে ধরতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে হবে, যেন তারা মাদক ছেড়ে খেলাধুলায় মেতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার প্রতি জোর দিয়েছেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌসীসহ জেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্থিক বিরোধের কারণে তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


আর্থিক বিরোধের কারণে তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের রাজধানী দিল্লির তুঘলকাবাদ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

এই মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১২ জুন)। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা মনে হলেও, পরবর্তীতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন নতুন তথ্য প্রকাশ পায়।

তদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে, এ ঘটনাটি দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে আর্থিক বিরোধের কারণে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এই মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের নাম হলো নিরঞ্জন (৩৩), রাজকুমার (২৭) এবং সরিতা (২৭)। এছাড়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীও আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত ওই নারী ও কিশোরীর মধ্যে অভিযুক্ত দুই যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

পুলিশের তদন্ত বলে, গত ১২ জুন মধ্যরাতে ভবনের নিচ তলায় পার্ক করা একটি স্কুটারে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করে ওই কিশোরী। ওই আগুন দ্রুত ভবনের পঞ্চম তলায় পৌঁছে যায়।

এই ঘটনার ফলে আটজনকে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাদের নাম পঙ্কজ, সুশীলা দেবী এবং সোনিয়া কুমারী।

আারম্ভে এটি দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসল ঘটনা সামনে আসে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আগুন লাগার আগের মুহূর্তে একজন কিশোরী ওই ভবনে প্রবেশ করেন। অন thereafter, তাকে শনাক্ত করার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিশোরীটি জানায় যে, সরিতা তাকে স্কুটারটিতে আগুন দিতে প্ররোচিত করেছিল। ওই স্কুটারটি ছিল দীপকের চাচাতো ভাই নিরঞ্জনের, যিনি ভবনের পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন। পুলিশ আরও জানান, সরিতা ওই কিশোরীকে পেট্রোল ও একটি ম্যাচবাক্স সরবরাহ করতে সহায়তা করেছিল।

পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে যে, অগ্নিসংযোগের মূল কারণ হল দীপক ও নিরঞ্জনের মধ্যে চলমান আর্থিক বিরোধ। উল্লেখ্য, নিরঞ্জন সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছিলেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, অবহেলার কারণে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো গুরুতর ধারায় মামলা করেছে। এছাড়া এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের এইচএসসির লেভেল সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান: সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


দেশের এইচএসসির লেভেল সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমান: সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য এমন শোচনীয় দশায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সাথে তুলনা করা হচ্ছে।

রোববার (১৪ জুন), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

ববি হাজ্জাজ জানিয়ে দেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে শোচনীয় দশা হয়েছে, তার জন্য ভারত ও পাকিস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের মনোভাব নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি, বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে বললেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার পরিণতিতে দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ববি হাজ্জাজ দাবি করেন, অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেন না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি সংসদে ও সংসদের বাইরের রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। সেই কারণেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটের অর্থনৈতিক দিক বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, এটি একটি আশাবাদী ও জনবান্ধব বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনের সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।

শিক্ষা বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ববি হাজ্জাজ জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা ২ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দিনে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জনে ও অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%