০৫:৫৫ পি.এম
বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্ককে পরাজিত করে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তুর্কিদের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের এই জয়ে প্রথম গোলটি করে অস্ট্রেলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে সাহায্য করেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। সেই সাথে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে একটি নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি।
তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে আলোচনা সৃষ্টি হলেও ইরানকুন্ডার সাফল্য এক দিনে আসেনি। তিনি আসলে বুরুন্ডিয়ান এবং জন্মভূমি তানজানিয়া। ২০০৬ সালে সেখানে একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন এই ফুটবলার। তার বাবা-মা বুরুন্ডির নাগরিক। গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের দেশ ছেড়েছিলেন। শৈশবে ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং ফুটবলের মাধ্যমে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ পান।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগের ক্লাব অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান তিনি। তাঁর দুর্দান্ত গতি, শারীরিক শক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্য দ্রুত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর তিনি সিনিয়র দলের হয়ে ১৬টি গোল করেছেন এবং আটটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ইউরোপীয় বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৫৩৪ গ্রেপ্তার
২০২৪ সালে তিনি বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। তবে মূল দলের হয়ে তিনি কখনো খেলেননি। তবে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের মতো তারকার সঙ্গে মেলামেশা তার অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে।
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য ইরানকুন্ডার একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জার্মান জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দলের পরিকল্পনায় টিকে থাকতে হলে তাকে মাঠে আরও বেশি খেলার সুযোগ অর্জন করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলানোর পর তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ড এফসিতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
দলবদলের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেন, "এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমার নিয়মিত খেলার প্রয়োজন ছিল এবং আমি তা করতে পারছিলাম না।"
ঝুঁকিটা কাজে লেগেছিল। ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য ডাক পাওয়া ইরানকুন্ডা নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গোল করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এরপর থেকে তিনি দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রুয়েটের বাসে থাকা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘স্নাইপারের অভাব’ মন্তব্য, যুবক গ্রেফতার
আর তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২৭তম মিনিটের সময় সকারুদের অর্ধ থেকে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস পান বাঁ প্রান্তে থাকা ইরানকুন্ডা। তারপর বাঁ পায়ে বল ঠেলে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। এতে তিনি ২০ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান গোলদাতা হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন