প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য এমন শোচনীয় দশায় পৌঁছেছে যে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সাথে তুলনা করা হচ্ছে।
রোববার (১৪ জুন), ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিন সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
ববি হাজ্জাজ জানিয়ে দেন, বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার যে শোচনীয় দশা হয়েছে, তার জন্য ভারত ও পাকিস্তানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক কারিকুলাম যুক্ত করার বিরোধিতাকারীদের মনোভাব নিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি, বক্তব্যের শুরুতেই নতুন বাজেটকে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে বললেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার পরিণতিতে দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ দাবি করেন, অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস করতে পারেন না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি সংসদে ও সংসদের বাইরের রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার যখন সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, স্পোর্টস এবং কালচার বা সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা শুরু করেছে, তখন বিরোধীদের কেউ কেউ এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। সেই কারণেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটের অর্থনৈতিক দিক বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, এটি একটি আশাবাদী ও জনবান্ধব বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনের সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।
শিক্ষা বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ববি হাজ্জাজ জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা ২ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দিনে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বের দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জনে ও অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন