ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
আদালতে বাবার স্বীকারোক্তি

প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করায় মেয়েকে হত্যা


প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করায় মেয়েকে হত্যা

সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করায় এবং আবারও পালানোর পরিকল্পনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে রায়কা আক্তার রিয়াকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বাবা আবু বক্কর।

শনিবার রাতে অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুজাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, শুক্রবার বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের নানাবাড়ির পুকুরঘাটে রিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় শনিবার রাতে অভিযুক্ত আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রবিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন: শীর্ষ মাদক ডিলার গ্রেফতার: ২ বোতল ভারতীয় সিরাপ দিয়ে আদালতে সোপর্দ করলো দামকুড়া থানা পুলিশ

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর বলেন, প্রায় এক বছর আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামের এক যুবকের সঙ্গে তার মেয়ে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা পালিয়ে যায়। কিন্তু এক মাস পর পরিবারের সদস্যরা রিয়াকে ফিরিয়ে আনেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় তাদের বিয়ে হয়নি।

পরে মেয়েকে প্রেমিকের কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য তিন থেকে চার মাসের জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে থেকেও রিয়া কৌশলে শাহিনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। সম্প্রতি আবু বক্কর জানতে পারেন যে, রিয়া আবারও প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে; তখন তিনি ক্ষুব্ধ হন। এর প্রতিবাদে শুক্রবার নানাবাড়ির পুকুরঘাটে আবু বক্কর দা দিয়ে কুপিয়ে মেয়েকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর নিহত রিয়ার মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: রায়পুরায় বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসা গুলিসহ নারী আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডে নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ পি.এম


চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডে নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যতীত) সকল জেলার পরীক্ষাসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সকল জেলা এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাসমূহ, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩, ১৫ এবং ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা ২০২৬ স্থগিত থাকবে।

এর আগে, দুপুরে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন যে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এল এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি দেখে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঢাকার বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বৈঠক করেছেন। গতকাল থেকে ৬৪ জেলার প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হবে। কোনো এলাকার পরীক্ষা স্থগিত করতে হলে তা পরবর্তী সময়ে নেওয়ার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনে প্রবেশের পর আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


ফিলিস্তিনে প্রবেশের পর আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা

ফিলিস্তিন সফরের সময় আটক হন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা রো খান্না। তিনি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে আটক হন। অভিযোগ উঠেছে, রাইফেলধারী এ অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখে।

শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে অভিযোগ তোলেন রো খান্না। ওই পোস্টে তিনি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদেরকে সহায়তা করার ব্যাপারে অভিযোগ করেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় খবরটি যারা জানান, তাদের মধ্যে রয়েছে আল জাজিরা।

পোস্টে রো খান্না লিখেছেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের আটকে রাখে।’ তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশ করবেন। আগামী ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের দৌড়ে থাকা রো খান্না সতর্ক হতে বলেন, ইসরায়েলিরা একটি ‘বড় ভুল’ করে ফেলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সম্প্রতি বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের প্রশ্রয়ে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পশ্চিম তীরে রাষ্ট্র-সমর্থিত জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত মাসে বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, গত বুধবার (৮ জুলাই) তার দলের সদস্যদের ‘মেশিনগানধারী গুন্ডারা’ আটকে রেখেছিল। তারা রাস্তা আটকে দেয় এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ডাকে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের পক্ষ নেয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বসতি স্থাপনকারীদের কাছে থাকা অ্যাসল্ট রাইফেলগুলো মার্কিন পণ্য, যা তৈরি হয়েছে আমেরিকাতে। ডিআরএম নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন আইনপ্রণেতা জানান, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলে কাটানো সময় তাকে বর্ণবাদী আচরণের ভয়াবহতা বুঝতে সক্ষম করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি ওই বসতি স্থাপনকারীদের চোখে চরম অহংকার দেখেছি। ২১-২২ বছরের তরুণরা বন্দুক হাতে আমাদের আটকে রেখে হাসাহাসি করছিল। একই অহংকার আমি আমার করের টাকায় বেতন পাওয়া ইসরায়েলি তরুণ সেনাদের মধ্যেও দেখেছি। আমেরিকানদের আটক করার সময় তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র সম্মানবোধ ছিল না।’

রো খান্নার সফরসঙ্গী ও সহযোগী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। এসময় তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত জানুতা নামক ছোট একটি ফিলিস্তিনি গ্রামের কাছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়ার খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে ওই গ্রামের বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাকবলিত বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


বন্যাকবলিত বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

 

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি দিনব্যাপী বিনা মূল্যের মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে। রবিবার (১২ জুলাই) উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা রমনী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজন করা হয় এ ক্যাম্পের। প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ক্যাপ্টেন সাদি এবং ডা. নাবিলা তাবাসসুম। নারী, শিশু, ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের অসুস্থ মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করার পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ পান।

ক্যাম্প চলাকালে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পানিবন্দি মানুষের খোঁজ খবর নেন। তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে শনিবার চরখিজিরপুর গ্রামে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আরেকটি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। সেখানে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাগণ জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ক্যাম্পে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষগণ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে স্থানীয়রা স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের গণতন্ত্র, আইন ও অবদানের স্মৃতিচারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের গণতন্ত্র, আইন ও অবদানের স্মৃতিচারণ

 সাবেক স্পিকার এবং বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার এবং বিরোধী দলের সদস্যরা। তারা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তারা বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান আইনজীবী, অভিভাবকতুল্য দক্ষ সংসদ সদস্য, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিবিদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের একজন দৃঢ় অভিভাবক।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠকে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্পিকার বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতি একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংসদ সদস্যের বক্তব্য শুনে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

তিনি স্মরণ করেন, কয়েকটি সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সহকর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল এবং স্পিকার হিসেবে তিনি যেভাবে দক্ষতা ও সৌন্দর্যের সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

স্পিকার বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজীবী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন এবং উদার মনের মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারো কাছ থেকে কোন অভিযোগ শোনেননি।

তিনি বলেন, গত রাতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনিও আজ সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সবাইকে নতি স্বীকার করতে হয়।

স্পিকার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে পরিবারের সদস্যদের এ শোক সহ্য করার শক্তি ও তৌফিক কামনা করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কাছে শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, একজন অভিভাবকসুলভ মানুষও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি পুত্রের মতো স্নেহ করতেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজ যোগ্যতায় লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেন।

পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং নিজ এলাকায় ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাগদল এবং পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।

দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর ছিল অটল বিশ্বাস। তিনি সবসময় বলেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে, গণতন্ত্রের বিকল্প কোনো পথ নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরদিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখার পরিকল্পনা থাকলেও ভোরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পান। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর বেদনা প্রকাশ করেন।

তিনি আরো বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের তিন সন্তানই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তিনি তাঁর পরিবারেও ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম অভিভাবককে হারিয়েছে।

এর আগে সরকারি দলের সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের অন্যতম সফল আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আইন পেশায় তাঁর নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি শতভাগ নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী।

তিন-পিস স্যুট, হ্যাট ও ছাতা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীর কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বीজাতমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে দলের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী হিসেবেও সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন। বয়সের কারণে সর্বশেষ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, সংসদ ভবন প্রাঙ্গণেই যেহেতু সাবেক স্পিকারদের দাফনের রীতি রয়েছে, তাই তিনি সংসদের সঙ্গেই চিরদিন যুক্ত হয়ে থাকবেন।

তাঁর কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং দেশের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন।

মহান আল্লাহ মানুষকে জীবন ও মৃত্যু দিয়েছেন উত্তম কর্মের পরীক্ষার জন্য, আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কর্মজীবনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা প্রায়ই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শরণাপন্ন হতেন।

তিনি শুধু আইনি পরামর্শই দেননি, বরং আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে লড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, তিনি এ ধরনের মামলায় কখনো কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।

তিনি বলতেন, এটি তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন এবং আইন অঙ্গনে ছিলেন অসংখ্য আইনজীবীর শিক্ষক।

তাঁর চলন-বলন, ব্যক্তিত্ব ও কর্মনিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেন।

আলোচনায় আরো অংশ নেন নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, পাবনা-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

আলোচনা শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. কামরুজ্জামান।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%