ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের গণতন্ত্র, আইন ও অবদানের স্মৃতিচারণ


সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের গণতন্ত্র, আইন ও অবদানের স্মৃতিচারণ

 সাবেক স্পিকার এবং বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার এবং বিরোধী দলের সদস্যরা। তারা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তারা বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান আইনজীবী, অভিভাবকতুল্য দক্ষ সংসদ সদস্য, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিবিদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের একজন দৃঢ় অভিভাবক।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠকে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ২১৭ বোতল মদসহ ধরা খেয়ে ছাত্রনেতা উদয় পদ হারালেন

এসময় স্পিকার বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতি একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংসদ সদস্যের বক্তব্য শুনে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

তিনি স্মরণ করেন, কয়েকটি সংসদে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সহকর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল এবং স্পিকার হিসেবে তিনি যেভাবে দক্ষতা ও সৌন্দর্যের সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

স্পিকার বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজীবী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন এবং উদার মনের মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারো কাছ থেকে কোন অভিযোগ শোনেননি।

তিনি বলেন, গত রাতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনিও আজ সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সবাইকে নতি স্বীকার করতে হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকায় সরকারি বাসা নেওয়া চাকরিজীবীদেরকে কড়া হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

স্পিকার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি মহান আল্লাহর কাছে পরিবারের সদস্যদের এ শোক সহ্য করার শক্তি ও তৌফিক কামনা করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কাছে শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, একজন অভিভাবকসুলভ মানুষও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি পুত্রের মতো স্নেহ করতেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজ যোগ্যতায় লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেন।

পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং নিজ এলাকায় ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব, প্রজ্ঞাপন জারি

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাগদল এবং পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন।

দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর ছিল অটল বিশ্বাস। তিনি সবসময় বলেছিলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে, গণতন্ত্রের বিকল্প কোনো পথ নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরদিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখার পরিকল্পনা থাকলেও ভোরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ পান। এজন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর বেদনা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

তিনি আরো বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের তিন সন্তানই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তিনি তাঁর পরিবারেও ছড়িয়ে দিয়েছেন।

তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম অভিভাবককে হারিয়েছে।

এর আগে সরকারি দলের সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের অন্যতম সফল আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আইন পেশায় তাঁর নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি শতভাগ নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী।

তিন-পিস স্যুট, হ্যাট ও ছাতা ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীর কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বीজাতমন্ত্রী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে দলের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী হিসেবেও সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন। বয়সের কারণে সর্বশেষ নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

তিনি বলেন, সংসদ ভবন প্রাঙ্গণেই যেহেতু সাবেক স্পিকারদের দাফনের রীতি রয়েছে, তাই তিনি সংসদের সঙ্গেই চিরদিন যুক্ত হয়ে থাকবেন।

আরও পড়ুন: ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ

তাঁর কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং দেশের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন।

মহান আল্লাহ মানুষকে জীবন ও মৃত্যু দিয়েছেন উত্তম কর্মের পরীক্ষার জন্য, আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কর্মজীবনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা প্রায়ই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শরণাপন্ন হতেন।

তিনি শুধু আইনি পরামর্শই দেননি, বরং আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে লড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, তিনি এ ধরনের মামলায় কখনো কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি।

তিনি বলতেন, এটি তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন এবং আইন অঙ্গনে ছিলেন অসংখ্য আইনজীবীর শিক্ষক।

তাঁর চলন-বলন, ব্যক্তিত্ব ও কর্মনিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার দোয়া করেন।

আলোচনায় আরো অংশ নেন নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, পাবনা-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।

আলোচনা শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. কামরুজ্জামান।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনে গিয়ে আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


ফিলিস্তিনে গিয়ে আটক মার্কিন আইনপ্রণেতা, অতঃপর...

ফিলিস্তিন সফরে গিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে আটক হন মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা রো খান্না। অভিযোগ করা হয় যে, রাইফেলধারী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তাকে এবং তার সফরসঙ্গীদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখে।

শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহায়তা করার অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরার মাধ্যমে খবরটি প্রচারিত হয়েছে।

পোস্টে রো খান্না উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের আটকে রাখে।’ তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে থাকা রো খান্না আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলিরা একটি ‘বড় ভুল’ করেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরায়েলি সরকারের সহায়তায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সমর্থিত জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছে। গত মাসে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সাথে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, গত বুধবার (৮ জুলাই) তার দলকে ‘মেশিনগনধারী গুন্ডারা’ আটকে রেখেছিল। তারা রাস্তা আটকে দেয় এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ডাক দেয়। এরপর সেনাবাহিনীও বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয়।

তিনি আরও জানান, বসতি স্থাপনকারীদের কাছে থাকা অ্যাসল্ট রাইফেলগুলো মার্কিন নির্মিত ছিল। ডিআরএম নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই আইনপ্রণেতা বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা তাকে বর্ণবাদী আচরণের ভয়াবহতা বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি ওই বসতি স্থাপনকারীদের চোখে চরম অহংকার দেখেছি। ২১-২২ বছরের তরুণরা বন্দুক হাতে আমাদের আটকে রেখে হাসাহাসি করছিল। আমার করের টাকায় বেতন পাওয়া ইসরায়েলি তরুণ সেনাদের মধ্যেও একই অহংকার দেখেছি। আমেরিকানদের আটক করার সময় তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্রও সম্মানবোধ ছিল না।’

খান্নার সফরসঙ্গী ও তার সহযোগী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। এই সময় তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পান।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, খিরবেত জানুতা নামক ছোট একটি ফিলিস্তিনি গ্রামের কাছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে ওই গ্রামের বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানালার গ্রিল কেটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


জানালার গ্রিল কেটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চুরি

 

আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা জানালার লোহার গ্রিল কেটে চুরি করেছে। চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও মনিটর। এ ঘটনার পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে অফিস শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের দরজা-জানালা নিরাপদে তালাবদ্ধ করে চলে যান। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন অফিসে এসে একটি জানালার লোহার গ্রিল কাটা এবং খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি জানতে পারেন, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে অফিসে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার এবং মনিটর।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, এ বিষয়ে আদমদীঘি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসটি তুলনামূলক অরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় এ ধরনের চুরির ঘটনাগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। আদমদীঘি থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃত্তি প্রাপ্তিতে জেলার সেরা নকলা মডেল স.প্রা.বি উপজেলায় ২০৩ জনের প্রাথমিক বৃত্তি লাভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


বৃত্তি প্রাপ্তিতে জেলার সেরা নকলা মডেল স.প্রা.বি  উপজেলায় ২০৩ জনের প্রাথমিক বৃত্তি লাভ

২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শেরপুরের নকলা উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৩ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৪৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৫৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, ফলাফলের বিবেচনায় জেলার সেরা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন করেছে নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে ৪৮ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করে, তাদের মধ্যে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তথ্যমতে, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে, ৩৫ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪৪ জন সাধারণ গ্রেডে রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কেজি স্কুল) ১২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন বৃত্তি পেয়েছে; এর মধ্যে ১০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সম্পাদক খইরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন জানিয়েছেন, উপজেলার ১১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩১ জনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেজি স্কুল) থেকে মোট ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তিপরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ করলেও অজ্ঞাত কারণে মোট ২১৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এই হিসেবে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলা থেকে ৬৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল অর্জনের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকরুল আলম জানান, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বরাবরই উপজেলার সেরা ফলাফল করে আসছে। তবে এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার সেরা ফলাফল করেছে, যা সত্যিই অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বলেন, "এই আনন্দের কথা মুখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।" ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় হতে ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৬ জন বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অসীম আগ্রহের ফলশ্রুতিতে সবার প্রিয় বিদ্যালয়টি আজ উপজেলা ছাড়িয়ে জেলার সেরা বিদ্যালয়ের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’ এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন অনলাইন ও অফলাইনে। এরপর জেলার সেরা নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুপ্রণীল বণিকের বাবা সুরঞ্জিত কুমার বণিক, একাঙ্খি বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোশাররাত তাসনীম রাইতার বাবা মো. মোশারফ হোসাইন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অপরাজিতা সাহা আদ্রিতার মা সম্পা, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত তারিক জামিলের মা হাসিনা বেগম, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আল মুহতাদী সিনানের বাবা সারোয়ার আলম তালুকদার, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোমতাহিনা মিম শুচির বাবা মোতালেব হোসেন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফারদিন জাবের তালুকদারের বাবা শাহিনুর আলম তালুকদার বিপ্লব ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নওশীন তারান্নুমের বাবা শাখাওয়াত হোসেন তুহিনসহ ওই বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রায় সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভাকাঙ্খীসহ সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেলার সেরা ফলাফল করায় বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীদের পিছনে প্রয়োজনীয় মেধা ও সময় দেওয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা ও সেচে বাধার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বৈধভাবে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা, সেচের পানি বন্ধ করে কৃষিকাজে বাধা দেওয়া, আমগাছ উপড়ে ফেলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম। কিন্তু অভিযুক্তদের একজন অভিযোগ অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর অপর অভিযুক্তের বক্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজার আরএস-২০ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগসহ কয়েকটি দাগের জমি নিয়ে ১৯৮১ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবার ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে জমিটি তাদের নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং হামলার হুমকি দিয়ে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) ও পাশের একটি সেমি-ডিপ থেকে তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ একই ডিপ থেকে দূরের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো বর্গাদারকেও তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেছেন, কানাইকুন্ড-৩ নম্বর ডিপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে না। ডিপের চালক তাকে জানিয়েছেন, ডিপ স্কিমের সভাপতি ও পূর্বের বর্গাদারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি পানি দিতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের ওই জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবুও তিনি ও তার সহযোগীরা মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। গত দুই বছর ধরে তাকে গুম, খুন, বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ফসল নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলামের ভাষ্য, গত ৩ জুলাই রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার আমবাগানে প্রবেশ করে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা হয় এবং কয়েকটি গাছ কেটে নেওয়া হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় ৫ জুলাই গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হক, মোঃ সামায়নসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামে নামজারি, জমির ভোগদখল এবং সেচের পানিতে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপরও তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোঃ সামায়ন বলেন, "আমার সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই। জিয়া উকিলের সঙ্গেই কথা বলেন। এ জমি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।"

ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম বলেন, "ডিপ স্কিমের সভাপতি ও কমিটির সিদ্ধান্ত না থাকায় পানি দিতে পারছি না। এছাড়া আগের মতো ডিপে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় সবাইকে পানি সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।" অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মোঃ জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, এ ঘটনায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়াজুল ইসলাম তার উপস্থাপিত দলিল, আদালতের রায় ও ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বৈধ জমির দখল নিশ্চিত, সেচের পানি সরবরাহ চালু, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%