১০:৫৭ এম
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছর অতিক্রম করলেও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতি থেমে থাকেনি। ইসরাইলি হামলার ফলে গত এক বছরে গাজায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এই অবস্থায় ১০০টির বেশি মানবিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন জানায়, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখন শুধুমাত্র নামেই বিদ্যমান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সংগঠন উল্লেখ করে, গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত ও আহত হচ্ছেন। তাছাড়া, ত্রাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পুনর্গঠনসামগ্রীর ওপর বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম ও গ্রিনপিসসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিবৃতিতে অংশগ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: নেসেটে ১৯ আসন পেয়েও সংশয়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে তো আরব দলগুলো?
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু চুক্তির এক বছর পরও সেখানে সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনগুলো।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ১৮৯ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২৭টি শিশু রয়েছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান এগেলান্ড মন্তব্য করেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছর পরও ফিলিস্তিনিদের জীবনে সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। গাজায় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইনগার অ্যাশিং বলেন, যখন শিশুরা নিহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে না, তখন যুদ্ধবিরতির অর্থই হারিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বর্জন ভেঙে কেন নির্বাচনে ভোট দিলাম: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকের অভিজ্ঞতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি হিসাব অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশ এমন ধরনের আঘাত পেয়েছেন, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ শিশু।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জবাবদিহির বিষয়টি চাপা পড়ে থাকতে পারে না। ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন