১১:৪৭ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অধিবেশন থেকে ডাকসুর পাঁচ সিনেট সদস্য ওয়াকআউট করেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাত সোয়া ১০টার সময় সিনেট অধিবেশন চলাকালে এই ওয়াকআউটটি করা হয়।
ওয়াকআউট করা ছাত্র প্রতিনিধিরা হলেন— ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না। তারা এই সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে অনুরোধ করেন যে তাদের ওয়াকআউট না করার জন্য।
আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
ডাকসু এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সংক্রান্ত বিষয়টি সিনেটে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
নাম পরিবর্তনের তালিকায় থাকা স্থাপনাগুলো হলো— শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।
আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সিনেট অধিবেশনে এজেন্ডা হিসেবে উপস্থাপন করেন, তখন সদস্যরা বিভিন্ন বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেন। সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রেখে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে তোলার দাবি তোলেন। অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি করেন।
ওয়াকআউট করা ডাকসু সিনেট প্রতিনিধিরা জানান, শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানাভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তারা উদাহরণ দেন যে, ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তাছাড়া হলের বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনার জন্য কোন স্পনসরও পাওয়া যাচ্ছে না। ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ দাবি করেন যে, বিষয়টি যদি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠাতে হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট ফিডব্যাকসহ পাঠানো উচিৎ।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ পরিবারের নামে থাকা আটশোটিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে বীরশ্রেষ্ঠসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বিবেচনায় আনা যেতে পারে।’
অধিবেশনে সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন।
সার্বিক আলোচনা শেষে, চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উপাচার্যের এই সিদ্ধান্তের পর ডাকসু নেতারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন