প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এই ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে বলছে, সড়কটির নকশা এবং পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজাবাড়ি-দমদমা সড়ক পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মো. সাদেক।
বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সড়কটির ধসের ঘটনাটি গণমাধ্যমে সংবাদ হিসাবে প্রকাশিত হলে এলজিইডির ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার, সেই তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেছে।
পরিদর্শন শেষে আবুল মনজুর মো. সাদেক বলেন, সড়কটির নকশা ও পরিকল্পনায় ভুল ছিল প্রথম থেকে। এ কারণেই নির্মাণ কাজের পরে সূতি নদীর তীরে থাকা অংশটি ধসে পড়েছে। তিনি বলেছেন, 'পরীক্ষা প্রতিবেদন এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী সংস্কার করা হবে। এজন্য তদন্ত কমিটিতে থাকা দুজন নকশাবিদ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে পুরো বিল তুলে নিয়েছে, ফলে স্থায়ী সংস্কারের জন্য অর্থের উৎস কোথা থেকে আসবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব তিনি দেননি।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সূতি নদীঘেঁষা চিনাশুকানিয়া গ্রামের কাছে সড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে দেবে গেছে। একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নদীতীরে বসানো ব্লকও ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। সেজন্য সড়কটি ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, রাজাবাড়ি ইউনিয়ন থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে নির্মাণ শেষ হয় ২০২৬ সালে। নির্মাণের তিন মাস পরে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এর ফলে নির্মাণমান, নকশা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন